রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ০৬ মে ২০২১, ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৪:১৬ অপরাহ্ণ

বিদিশায় বিব্রত জাতীয় পার্টি

প্রকাশিত : ০৫:৪১ AM, ২৬ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার ১৫৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

প্রয়াত এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশিাকে নিয়ে বিব্রত জাতীয় পার্টির (জাপা) শীর্ষ নেতারা। এরশাদের বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে অনেকটা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই এরশাদপুত্র এরিকের জন্য চিকেন ফ্রাই নিয়ে প্রেসিডেন্ট পার্কে আসেন বিদিশা। সেই থেকে এরিকের নিরাপত্তা বা দেখভালের কথা বলে স্থায়ী বসবাসের পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ এরশাদ পরিবারের সদস্যদের। তারা বলেন প্রেসিডেন্ট পার্কে বসবাস মূলত রাজনীতি ও সম্পদের লোভে। অন্যদিকে ছেলের নিরাপত্তাকেই ইস্যু ধরে টানা অবস্থান নিয়েছেন বিদিশা। এজন্য ছেলেকে দিয়ে থানায় একটি জিডি পর্যন্ত করেছেন তিনি। সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট পার্কে বসেই দলীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন বিদিশা। সেখানে অবাধ যাতায়াত বেড়েছে তার ব্যক্তিগত লোকজনদের। এ নিয়ে জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারা বিব্রত।

এরিকের ওপর চাপ প্রয়োগ করে নিজের স্বার্থ হাসিল করার নতুন রাস্তায় হাঁটছেন বিদিশা। এমনই অভিযোগ এরশাদ পরিবারের ট্রাস্টি মেম্বারদের। এ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে বলে অনেকেই মনে করছেন। তবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের অবশ্য বলেন, আমি কাদা ছোড়াছুড়ি করছি না, আমি রাজনীতি করি। রাজনীতি করতে গেলে শতভাগ মানুষের

সমর্থন পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, রাজনীতি করতে গেলে অনেক সময় বাইরের মানুষও আমার জন্য জীবন দেবে, আবার খুব ক্লোজ মানুষও আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। এটা পৃথিবীর ইতিহাসে সব সময় ছিল এবং আছে। আমাকে নিয়ে কে কী বলল, তা নিয়ে ভীষণভাবে মগ্ন থাকলে দেশের জন্য, জাতির জন্য কাজ করা সম্ভব হবে না।

জানা যায়, ছেলে চিকেন ফ্রাই খেতে ফোন করেছিল এমন তথ্য জানিয়ে একটি টিফিন ক্যারিয়ারে করে খাবার নিয়ে উপস্থিত হন বিদিশা। বাড়ির নিরাপত্তাকর্মীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোজা বাসায় ঢুকে যান তিনি। সেই থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত বিদিশা সেখানেই অবস্থান করছেন। জাতীয় পার্টির নেতারা না পারছেন তাকে সেখান থেকে বের করতে, না তার অবস্থান মেনে নিতে।

এই নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না জাতীয় পার্টির কোনো নেতাই। ফোন ধরলেও পার্টির সিদ্ধান্তের বাইরে তারা কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। এদের মধ্যে এক প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এরিককে দেখতে যাওয়া ও তার সঙ্গে থাকতে চাওয়া উসিলা মাত্র। তিনি (বিদিশা) আসলে এখন সম্পত্তির জন্য এমন করছেন। জাতীয় পার্টির কিছু নেতাও এর পেছনে ইন্ধন দিচ্ছেন। এরা সব সময়ই দলের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি করেন। এ ব্যাপারে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলমগীর শিকদার লোটন বলেন, চেয়ারম্যান বলেছেন সময়মতো গণমাধ্যমকে জানাবেন। আমরাও সেই অপেক্ষায় আছি। এখনো এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দেখা যাক সামনে কি হয়।

প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসার এক পুরোনো সহকারী জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এরিককে দেখার কথা বলে বাসায় ঢুকে আর বের হচ্ছেন না বিদিশা। সেখানে তিনি ৭ দিন ধরে অবস্থান করছেন। এতে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন এরশাদ পরিবারের সদস্য ও জাতীয় পার্টি নেতারা। না পারছেন তাকে বের করে দিতে, না পারছেন মেনে নিতে। আপাতদৃষ্টিতে ছেলে এরিকের কাছে মা আসতে বাধা দেওয়া অনেকটা অমানবিক মনে করা হচ্ছে। আবার এরশাদ যাকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছেন তার অবস্থানও ভালোভাবে দেখছেন না পরিবারের লোকজন।

গত কয়েক দিন ধরেই বিদিশার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় থাকা নিয়ে বেশ নাটকীয় ঘটনা ঘটছে। বাসার দুই সহকারী জানান, বৃহস্পতিবার বাসায় ঢোকার পরদিন শুক্রবার সকালে এরিকের জন্য কিছু খাবার নিয়ে গেলে বিদিশার ব্যক্তিগত সহকারী রাজিবকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। দুপুরে বিদিশার আইনজীবী কাজী রুবাইয়াত হোসেন খাবার নিয়ে গেলে তাকেও আটকে দেওয়া হয়। এ সময় সেখানে কিছু টেলিভিশনকে ডাকেন বিদিশা। কথা বলেন এরিক ও বিদিশার আইনজীবী। তবে বিদিশা নিচে নামেননি। এ সময় বিদিশার আইনজীবী অভিযোগ করেন, অসুস্থ এরিককে নিয়ে জাতীয় পার্টি ষড়যন্ত্র করছে। তিনি এরিকের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এরিক ও তার মাকে একসঙ্গে থাকার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও জাতিয় পার্টির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় এরিক নিচে নেমে আসেন। তিনি এক গাড়িচালকের বিরুদ্ধে তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, ওই চালক তার বাবার গাড়ি চালাত। একা একা থাকাটা আসলে প্রবলেম। মা আছে। থাকব একসঙ্গে। একা একা থাকার সমস্যা তো আছেই। কিছুটা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

বিদিশা সাংবাদিকদের জানান, গত তিন দিন ধরে বারিধারায় এরশাদের বাসভবন প্রেসিডেন্ট পার্কে এরিককে নিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন তিনি। কোনো ক্রমেই এরিকের কাছ থেকে আলাদা করা যাবে না তাকে। তিনি অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত নিচে থেকে কোনো লোকজন কাউকে ভেতরে আসতে দিচ্ছে না। আমার লাশ বের হয়ে গেলেও আমার ছেলেকে নিয়ে কিছু হতে দেব না। আমি মুখ খুললে কাদের সাহেবের রাজনীতি শেষ হয়ে যাবে। এসব বিষয়ে জানতে গতকাল ফোন করলে কল রিসিভ করেননি বিদিশা।

পরে গত রোববার গণমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তা পাঠান বিদিশা। সেই ভিডিও বার্তায় এরিক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালকে উদ্দেশ করে কথা বলেন। প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় ধারণকৃত ১ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিও বার্তায় এরিক বলেন, ‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমি এরিক বলছি। আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমাকে খেতে দেওয়া হতো না। ড্রাইভার আমার শরীরে হাত তুলেছে। আমার লিগ্যাল গার্ডিয়ান চাচা জি এম কাদের না, আমার মা। সেক্ষেত্রে ওনার তো রাইট নেই এ রকম টর্চার করার। মাকে আমি বাসায় নিয়ে এসেছি। এখন আমরা ভালো আছি। নিচে পুলিশরা ঝামেলা করছে। আমার বাড়ির লোকদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। আপনি একটু বলে দিন যেন পুলিশরা আমাদের ঝামেলা না করে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রেসিডেন্ট পার্কের দুজন সহকারী জানান, বিদিশা তার নিজের কিছু লোকজনকে বাসায় ঢোকানোর চেষ্টা করছেন। এটা সন্দেহের চোখে দেখছেন এরশাদ পরিবারের লোকজন। তারা এটাকে বিদিশার দুরভিসন্ধি হিসেবে দেখছেন। এরশাদ পরিবারের বাইরে কেউ যাতে বাসায় প্রবেশ করতে না পারে, তেমন নির্দেশনা রয়েছে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তবে প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসায় এরিকের সঙ্গে থাকলেই এরশাদের সম্পত্তি বিদিশার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান জাতীয় পার্টির এক নেতা। ওই নেতা জানান, এরশাদ তার সব স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ট্রাস্টের নামে দিয়ে গেছেন। তাই এরশাদের বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসা, স্থাবর অস্থাবরের নিয়ন্ত্রণ বিদিশার পাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। এরশাদ তার সব স্থাবর অস্থাবর সম্পদ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ট্রাস্টের নামে দিয়ে গেছেন। সেখানে ট্রাস্টি হিসেবে যারা রয়েছেন তাদের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ খুব একটা নেই।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT