রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১০:৫৬ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ রাজশাহীর তাহেরপুর পৌরসভা বিএনপি’র আয়োজনে মতবিনিময় সভা ◈ পত্নীতলায় পউস ব্লাড এইড এর উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন ◈ রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদে মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয় ◈ ইয়াবাসহ দুই মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার করেছে পুলিশ ◈ তাড়াইলে কৃষি বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত ◈ কুড়িগ্রামে আমন ধানের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা ◈ তৃতীয় বারের মতো কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক নির্বাচিত নাহিদ হাসান সুমন ◈ হোসেনপুরে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন করে হত্যা ◈ আমতলীতে মাদকসেবীদের আতঙ্কের নাম এস.আই সোহেল রানা ◈ ময়মনসিংহ ত্রিশাল কালীর বাজার স্পোটিং ক্লাবের উদ্যোগে ফুটবল খেলা আয়োজন

বাড়িতে বাড়িতে টাকার পাহাড়

প্রকাশিত : ০৬:১৪ AM, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Thursday ২২৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

শুধু এনামুল বা রুপনই নন, আরও অনেকের বাড়িতে জুয়া-দুর্নীতির টাকা রয়েছে। এসব টাকা গোয়েন্দা নজরদারিতে আছে। যাদের বাসা, বাড়ি ও ফ্ল্যাটে বস্তায় বস্তায় এ টাকা আছে তাদের ধরতে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান চালনো হবে।

ক্যাসিনো-জুয়া, চাঁদাবাজি এবং টেন্ডারবাজির অভিযোগে ইতিমধ্যে গ্রেফতার হওয়া যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এবং জি কে শামীম র‌্যাব-পুলিশকে এ বিষয়ে অনেক রাঘববোয়ালের নাম জানিয়েছে।

রিমান্ডে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ওইসব রাঘববোয়ালদের বাসা এখন কালো টাকায় ঠাসা। কেউ কেউ নিজ বাসা থেকে এসব টাকা অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি এ তালিকার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও আমলা দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন।

তবে তারা যেন পালাতে না পারেন সেজন্য তৎপর আছে র‌্যাব-পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারিতেই আছেন কেউ কেউ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, যারা এখন গ্রেফতারের অপেক্ষায় আছেন তাদের টেলিফোনে আঁড়িপাতাসহ সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। দেশত্যাগে স্থল, নৌ এবং বিমানবন্দরে দেয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। পালানোর পথ অনেকটাই বন্ধ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধরা তাদের পড়তেই হবে। তবে ইতিমধ্যে কেউ কেউ নানা প্রক্রিয়ায় পালিয়ে যেতে সক্ষমও হয়েছেন। ৮ সেপ্টেম্বর থেকে অবৈধ জুয়া-ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। র‌্যাবের হাতে এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন ২১৫ জন।

এদের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেয়া হয়েছে ২০১ জনকে। গ্রেফতারের পর যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, জি কে শামীম এবং কৃষক লীগ নেতা শফিকুল আলম ফিরোজসহ ১৩ জনকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে রিমান্ডে নেয়া হয়।

একাধিক সূত্র জানায়, ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে যেসব হাইপ্রোফাইল নাম বেরিয়ে এসেছে তাতে রীতিমতো বিস্মিত তদন্তসংশ্লিষ্টরা। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে কঠোর বার্তা দেয়া হয়েছে।

ক্যাসিনো-জুয়া, মাদক ও দুর্নীতির সঙ্গে যারাই জড়িত তাদেরই আইনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক পরিচয় না দেখার নির্দেশ দেয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তা ভেঙে দিতে চান নীতিনির্ধারকরা।

সে অনুযায়ীই এগোচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মোটা অঙ্কের টাকাসহ খালেদ এবং শামীমকে গ্রেফতারের পর পুরান ঢাকায় আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু এবং রুপন ভূঁইয়ার বাসা থেকে ৫ কোটি টাকার বেশি উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় তারা বাসায় না থাকায় তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি র‌্যাব।

রাঘববোয়ালদের গ্রেফতারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এখন যাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এদের জবানবন্দির ভিত্তিতে গডফাদাররাও ধরা পড়বেন।

সেক্ষেত্রে কাউকে ধরতে ১৬৪-এ দেয়া জবানবন্দি পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। তবে কিছুটা বিলম্ব হলেও শেষ পর্যন্ত কেউ ছাড় পাবেন না।

এদিকে বুধবার সকালে সাভারে এক অনুষ্ঠানে অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের কাছে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘ব্যক্তি হিসেবে চুনোপুঁটি হলেও অনেকে দুর্নীতিতে রাঘববোয়াল হয়েছেন। সত্যিকার অর্থে অপকর্মকারীরাই অভিযানের মূল টার্গেট। শুধু ঢাকাতেই এ অভিযান সীমাবদ্ধ নয়। সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন, কুতুবদিয়া থেকে তেঁতুলিয়া- সারা বাংলায় এ অভিযান চলবে। শুরু হয়েছে শেখ হাসিনার অ্যাকশন। অপরাধী যত বড় আর যত ছোটই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘লোক দেখানো নয়। দুর্নীতি, মাদক, জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। দেশে টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি করলে কেউ রেহাই পাবে না। যতদিন পর্যন্ত দেশে দুর্নীতি থামবে না ততদিন পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, চলমান অভিযানের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

যারা অনিয়ম-দুর্নীতি করে বিপুল পরিমাণ অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এ তালিকায় রাজনীতিবিদ ও সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন রয়েছেন।

সন্দেহভাজন গডফাদারদের গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বুধবার যুগান্তরকে বলেন, জুয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। সেই অবস্থানকে সামনে রেখেই আমাদের কার্যক্রম চলছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম যুগান্তরকে বলেন, জুয়া-ক্যাসিনোর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরালো করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে অনেককে নজরদারির মধ্যে আনা হয়েছে। কোনো গডফাদারকেই ছাড় দেয়া হবে না। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT