রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৩:০৬ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ আ’লীগ নেতা সৈয়দ মাসুদুল হক টুকুর পিতার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ◈ ঘাটাইল আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ◈ শীতার্তদের মুখে হাসি ফোটালেন সিদ্ধিরগঞ্জ মানব কল্যাণ সংস্থা ◈ হরিরামপুরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে বন্ধে স্ত্রীর অনশন ◈ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব-দুঃখীদের পাশে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান… ◈ কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর করোনা এক্সপার্ট টিমের কম্বল বিতরণ ◈ পেইড পিয়ার ভলান্টিয়ারদের চাকরী স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন ◈ ফুলবাড়ীতে শীতার্তাদের মাঝে ডিয়ার এক্স টিমের শীতবস্ত্র বিতরণ ◈ রানীরবন্দর রুপালী ব্যাংক লিঃ ব্যবস্থাপকের বিদায় ও বরণ ◈ শার্শায় বাইক ছিনতাই করে চালককে হত্যায় জড়িত ৩ আসামী আটক

বাঙালি মুসলমানের ইদ উৎসব

শেখ একেএম জাকারিয়া

প্রকাশিত : ০১:২৮ AM, ১৪ মে ২০২১ শুক্রবার ১৩৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ইদ শব্দের আভিধানিক অর্থ খুশি। এছাড়া বাংলা একাডেমির ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে ইদ শব্দটির অর্থ করা হয়েছে উৎসব, আনন্দ ইত্যাদি । ইদ ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের পবিত্র আনন্দনুষ্ঠান। মুসলিমরা বছরে দুটি ইদ পালন করে থাকে। ইদুল ফিতর ও ইদুল আযহা। তাদের কাছে দুটি ইদের পৃথক গুরুত্ব রয়েছে। এই ইদ উদযাপনের মধ্য দিয়ে সারা পৃথিবীর মুসলমানেরা আল্লাহর একত্ববাদ (অর্থাৎ আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এমন মতবাদে বিশ্বাস স্থাপন) ও সামাজিক জীবনে ভ্রাতৃপ্রতিম বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এবার মুসলমানদের দুটি ইদ উৎসব নিয়ে আলোচনা করা যাক।

ইদুল ফিতর: ইদুল ফিতরের পূর্বে পুরো রমজান মাস প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানেরা রোজা রাখেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর হিজরী সনের দশম মাস অর্থাৎ শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে উদযাপিত হয় ইদুল ফিতরের ইদ উৎসব। এ দিনটি মুসলিমদের মহা আনন্দের দিন। আর এ কারণেই রমজান শেষে চাঁদ দেখে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে ইদুল ফিতরের আনন্দে মেতে ওঠে সবাই। ইদুল ফিতরের দিনে সবাই যাতে ইদের আনন্দ সমানভাবে উপভোগ করতে পারে সেজন্য দরিদ্র স্বজন-পড়শিদের মাঝে ফিতরা বিলি করা হয়। এ দিনে সবাই খুব সকালে ওযু-গোসল সেরে খেজুর/ খোরমা অথবা অন্য কোনও মিষ্টান্ন দিয়ে মিষ্টিমুখ করে । এর পর নতুন বা পরিচ্ছন্ন জামা পরিধান করে ইদের নামাজ পড়ার জন্য বরাদ্দকৃত কোনো খোলা জায়গা অথবা ইদগাহে যায়। আল্লাহ শুকরিয়া আদায় করতে মুসলমানরা দু’ রাকআত ইদের নামাজ ৬ তাকবিরের সাথে পড়ে থাকে। ইদের নামাজ শেষে ইমাম সাহেব খুৎবা পাঠ করেন যা সুন্নত এবং মুসুল্লিদের সে খুৎবা শোনা ওয়াজিব। খুৎবার মাধ্যমে নামাজের সমাপ্তি ঘটে। সাধারণতঃ খুৎবার পরে দেশ ও জাতির সব-মানুষের মঙ্গল কামনা করে মহান আল্লাহ পাকের দরবারে দুয়া করা হয়। এর পর সেখানে মুসলিমদের মাঝে এক প্রীতিসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলন বা মিলনমেলায় তারা তাদের পূর্ববৈরিতা ভুলে পরস্পরকে স্নেহভরে জড়িয়ে ধরে ইদের সম্ভাষণ বিনিময় করে থাকে। আমাদের দেশে ইদের বিশেষ শুভেচ্ছাসূচক সম্ভাষণ হচ্ছে ইদ মুবারক এবং সবচে’ বড় ইদের জামাত অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া নামক স্থানে। ইদুল ফিতরের দিনে ইসলামী নির্দেশসমূহের মধ্যে রয়েছে গোসলের আগে মিসওয়াক করা, ওযু-গোসলের পর আতর সুরমা লাগানো, এক রাস্তা দিয়ে ইদগাহে গমন ও নামাজ শেষে অন্য রাস্তা দিয়ে গৃহে প্রত্যাবর্তন।

ইদুল আযহা: ইদুল আজহা উদযাপিত হয় আরবি জ্বিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে। ইদুল আজহা মুসলমাদের ত্যাগের উৎসব। এ উৎসবটির সূত্রপাতের একটি বেদনা-উদ্দীপক আত্মত্যাগের নজির আছে। হযরত ইব্রাহিম (আ) মহান আল্লাহ পাকের নির্দেশে তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আ)- কে কোরবানি করার আদেশ পেলেন। তিনি আল্লাহর আদেশ পালনের জন্য তাঁর প্রাণাধিক প্রিয় পুত্রকে কোরবানি দিতে প্রস্তুত হন। মহান আল্লাহপাক, ইব্রাহিম (আ)-এর এমন প্রভুভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে হযরত ইসমাইল (আ)- এর পরিবর্তে পশু কোরবানি দিতে নির্দেশ দেন। সেদিন থেকেই ওই ত্যাগের কথা স্মরণ করে সারা পৃথিবীতে মুসলিমরা প্রতি বছর ইদুল আজহার দিনে হালাল পশু কোরবানি দিয়ে থাকে। ইদুল ফিতরের মতো ইদুল আজহার দিনেও ভোরে সবাই গোসল সেরে নতুন বা পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে ইদগাহে যায়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় ইদের নামাজ। নামাজ শেষে সবাই কোলাকুলি ও ইদ শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজগৃহে প্রত্যাবর্তন করে। এর পরই ধনী বা কোরবানি দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন এমন মুসলমান ব্যক্তিগণ গরু, ছাগল, উট, দুম্বা ইত্যাদির কোরবানি করেন।
এ দিনে ধনীরা হালাল পশু কোরবানির পর গোসতগুলো তিন ভাগে ভাগ করে এক ভাগ নিজেদের মধ্যে, এক ভাগ স্বজনদের মধ্য আর এক ভাগ পড়শি ও গরিবদের মধ্যে বন্টন করে দেন। যাতে সব মুসলমান খুশিমনে ইদের এই পরম উৎসবের দিনে সমানভাবে তৃপ্তিসহকারে আনন্দ ভোগ করতে পারে।

ইদুল ফিতর ও ইদুল আজহা বিশ্বের মুসলমাদের দুটি মহামিলনের দিন। এ দিন দুটিতে ধনী- গরিব, বাদশা- ফকিরের মাঝে কোনও ভেদাভেদ থাকে না। কারও মাঝে ক্ষোভ-বিদ্বেষ থাকে না। সবাই ইদের দুটি দিনে যেন পরস্পরের স্বজন হয়ে যায়।
আমাদের দেশে সব ধর্মেই বিভিন্ন আনন্দনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় কর্তব্য পালনের ব্যবস্থা আছে। এদিক থেকে ধর্মীয় পর্বের গুরুত্ব প্রত্যাখ্যান করার জো নেই। ইদুল ফিতরের আছে দীর্ঘ একমাস পরিমিত জীবন অতিবাহনের সাধনা এবং ইদুল আজহায় আছে মহান আল্লাহপাকের দরবারে আত্মোৎসর্গের মহান দৃষ্টান্ত। বস্তুতঃ আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের মধ্য দিয়েই মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা জাগিয়ে তোলাই ইদের আসল উদ্দেশ্য।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT