রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১, ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৬:০৭ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব শাহ আলমের নির্বাচনী উঠান বৈঠক। ◈ তাহিরপুর সীমান্তে ভারতীয় মাদকের চালান সহ বিভিন্ন মালামাল আটক ◈ ফুলবাড়ীর ছয় ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হলেন যারা ◈ সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কলমাকান্দায় মানববন্ধন ◈ ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শশিকর বাজারে শুভ উদ্বোধন ◈ তাহিরপুরে তথ্য অধিকার বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষন কমিটির সভা ◈ রাজারহাটে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন ত্রাণ ও দূর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ◈ রংপুরে তিস্তা পাড়ের বন্যার্তদের পাশে জেলা আ’ লীগ সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু ◈ শাহজাদপুরে ইউপি নির্বাচনে পুনরায় নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল বাতেনের সমর্থনে জনসভা অনুষ্ঠিত ◈ জামালগঞ্জে ইমামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

বাগেরহাটে চরম বিপর্যয়ের মুখে চিংড়ি চাষীরা

প্রকাশিত : ০৬:২৭ PM, ১৮ এপ্রিল ২০২০ শনিবার ৫৭২ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

করোনা পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বে যখন এক ধরণের স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের আর্থিক অবস্থা এক ধরণের সংকটের মুখে পড়েছে। প্রতিদিন কোটি কোটি ডলার ক্ষতির সংবাদ ছাপা হচ্ছে গণমাধ্যমে। বাংলাদেশও এই সংকটের মধ্যে রয়েছে। ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে সবকিছু আরও বেশি কঠিন হয়ে পড়ছে। দেশের এই বিপর্জয়ে বাগেরহাট জেলার চিংড়ি চাষীরা পড়েছে বিপাকে। ঘেরে বিক্রিযোগ্য মাছ, কিন্তু বৈশ্বিক বাজারে চিংড়ি রপ্তানি বন্ধ, থাকায় ধরার উপায় নেই। নদী বা খাল থেকে ঘেরে নতুন পানি না আসায় মাছও মারা যাচ্ছে। নতুন মৌসুমে পোনা ও পানি দুইয়ের সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষীরা। ফলে এ শিল্পের সাথে জড়িত জেলার লক্ষাধিক চাষী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন তারা। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে হবে চিংড়ি চাষীদের এমন মন্তব্য কেরেছেন অনেকে। এদিকে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে চাষীদের ঘুরে দাড়াবার সম্ভাবনা রয়েছে এমনটি দাবি করেছেন বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা। আশির দশক থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় কয়েক লাখ চাষি বাণিজ্যিকভাবে চিংড়ি চাষ করে আসছেন। শুধু এই তিন জেলা নয়, দেশের সব থেকে বেশি চিংড়ি উৎপাদিত হয় বাগেরহাটে। এই অঞ্চলে চিংড়ি চাষ লাভজনক হওয়ায় সাদা সোনা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। যার ফলে দিন দিন চাষীর সংখ্যা ও উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এই চিংড়ি শিল্প থেকে সরকারের বিপুল পরিমান রাজস্ব আসে। বাগেরহাট জেলায় ৬৬ হাজার ৭‘শ ১৩ হেক্টর জমিতে ৭৮ হাজার ৬‘শ ৮৫টি বাগদা ও গলদা চিংড়ির ঘের রয়েছে। এসব ঘেরে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১৬ হাজার ৫‘শ ৭৫ মে.টন বাগদা ও ১৫ হাজার ৪‘শ ১৩ মে.টন গলদা উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে চিংড়ির পোনা ছাড়ার মৌসুম চললেও বাজারে পোনার যেমন ব্যাপক সংকট রয়েছে। তেমনি পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক খাল খননের জন্য খালগুলো বন্ধ রয়েছে। যার ফলে ঘেরে পানি উঠতে না পারায়, মরার উপরে খাড়ার ঘায় পরিনত হয়েছে। এছাড়া রপ্তানি আমদানি বন্ধ থাকায় ও বাজারে মাছের দাম কমে যাওয়ায় সবকিছু যেন স্থবির হয়ে পড়েছে। জন শুন্য মৎস্য আড়তগুলো খাঁ খাঁ করছে। বর্তমান অবস্থা চলতে থাকলে চিংড়ির উৎপাদন ১০ শতাংশে নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যার ফলে বাগেরহাট জেলার মানুষ এক ধরণের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। মৎস্য চাষী আলতাফ হোসেন বলেন, দেশে এক ধরণের দূর্ভিক্ষ চলছে। দক্ষিনাঞ্চলের অনেকেই মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আমরা ঘেরের মাছ বিক্রিও করতে পারছি না। আবার নতুন করে ঘেরে মাছও ছাড়তে পারছি না। ওদিকে পাওনা দাররা টাকার জন্য তাগেদা দিচ্ছেন। মৎস্যচাষি রবিউল ইসলাম বলেন, চিংড়ি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু এ বছর যখন চিংড়ি মাছ বিক্রি র সময় তখনই করোনা‘র প্রভাবে মাছ ক্রয় বন্ধ রয়েছে। আবার ঘেরে পোনা ছাড়ারও সময় এসেছে। এখন পানিও নেই। ঘেরের বিক্রি উপযুক্ত মাছের দাম নেই, পোনার দাম আকাশ চুম্বি। কি যে হবে আমাদের। চিংড়ি ব্যবসায়ী লিটন পরামানিক বলেন, করোনার প্রভাবে বিদেশে মাছ রপ্তানি বন্ধ। দেশের বাজারেও মাছের তেমন ক্রেতা নেই। কারণ বাগেরহাট থেকে অন্য কোথাও মাছ পাঠানোর সু ব্যবস্থা নেই বর্তমানে। আমরা এক ধরণের বেকার অবস্থায় রয়েছি। অতিদ্রুত দেশ ও বিদেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আমাদের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে কিছুই বলতে পারছি না। রামপাল উপজেলার ফয়লাহাট চিংড়িপোনা মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি কাজী রাশেদুল ইসলাম ডালিম বলেন, রামপালে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮৩টি খাল খনন করার জন্য ঘেরে পানি উঠাতে না পারায় একটা সিজন মার খেয়েছি। পাশাপাশি করোনা ভাইরাসের কারণে রপ্তানি বন্ধ থাকায় চিংড়ি চাষী ও ১৩৫ টি আড়তের ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে পড়েছে। বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. খালেদ কনক বলেন, খাল খননের ফলে ঘেরে পানি নেই। বিক্রয়যোগ্য মাছের দাম নেই। বাজারে পোনা সংকট। বাগেরহাটে প্রায় দেড় কোটির মত পোনার চাহিদা রয়েছে। এ বছর ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ পোনা বাজারে পাওয়া যাবে। কোন ভাবেই পোনার চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। তবে মহামারি থেকে দেশ পরিত্রাণ পেলে চাষীদের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। চিংড়ি গবেষনা কেন্দ্র, বাগেরহাটের উর্দ্ধোতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এইচ এম রাকিবুল ইসলাম বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে শুধু চিংড়ি সেক্টর নয় সকল সেক্টরেই একটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা আশা করছি করোনা পরবর্তী সময়ে আমাদের মৎস্য সেক্টর একটি বড় সম্ভাবনার খাতে পরিণত হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT