রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১১:১৫ অপরাহ্ণ

বাউবিতে ভর্তির টাকা আত্মসাৎ

প্রতারণার শিকার প্রতিবন্ধী আকলিমা

প্রকাশিত : ০৬:৫৯ PM, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার ২৬৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে আমি উদ্বুদ্ধ হয়েছি। তাই নিজের শিক্ষা জীবন চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। আমি অন্যান্যদের মত স্বাভাবিক নই। আমি আমার আগামী নিয়ে ভাবছি। সমাজ বা পিতা-মাতার বোঝা হতে চাইনি। লেখাপড়া করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছি। কিন্তু প্রতারক আমাকে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে- আবেগময় কথাগুলো বলেছে ৩০ ইঞ্চি উচ্চতার শারিরীক প্রতিবন্ধী আকলিমা।

জানা যায়, চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার শাহরাস্তি সরকারী বহুমূখি উচ্চ বিদ্যালয়ের বাউবি শাখায় ভর্তি হতে এসেছিলো প্বার্শবর্তি কচুয়া উপজেলার আকানিয়া নাছিরপুর গ্রামের মফিজুল ইসলামের কন্যা আকলিমা আক্তার। প্রতারকের খপ্পরে পড়ে তার আর ভর্তি হলো না সেই উন্মুক্তে।

এবিষয়ে আকলিমার মা মাজেদা বেগম বলেন, আমার মেয়ে আকলিমা শারিরীক প্রতিবন্ধী। সে লেখাপড়া করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছিলো। তাই গেলো রমজানের আগে মেয়েকে উন্মুক্তে ভর্তি করাতে শাহরাস্তি স্কুলে আসি। তখন স্কুলের সামনে এক লোকের সাথে দেখা হয়। তিনি তার পরিচয় দেন, “আমি জিলান মিয়া। এই বিদ্যালয়ের প্রধান। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আমিই ভর্তি করাই”।
তখনই ওনার সাথে কথা বলি এবং তিনি ভর্তির জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন।

আমি ওনার প্রস্তাবে সম্মত হই এবং তখনই জিলান স্যারকে ৫ হাজার টাকা দেই। আর বাকি ৫ হাজার টাকা কিছু দিন পর ওনার কাছেই পরিশোধ করি। তখন জিলান স্যার বলেন, ঠিক আছে তোমরা চলে যাও। আকলিমার ভর্তি হয়ে গেছে। তখনও তিনি আমাদেরকে স্কুলের ভিতরে নেননি। একদিন সকালে তিনি আমাকে ফোন দিয়ে কালিয়াপাড়ায় আসতে বলেন। তখন আমি ও আকলিমা কালিয়াপাড়ায় আসি। তিনি তখন আকলিমার হাতে ৭টি বই তুলে দেন আর বলেন- স্কুলে আসতে হবে না, বাড়িতে গিয়ে ভালো করে বইগুলো পড়ো। প্রায় ৪ মাস পর স্কুলে আসলে মাওলানা স্যার বলেন, আকলিমার ভর্তি হয় নি। তখন আমি ওই স্যারকে বিস্তারিত জানাই। তিনি আমাকে বলেন, জিলান এই বিদ্যালয়ের কেউ নন। আপনারা ওনার বাড়ি যান। আমি আমার মেয়েকে নিয়ে জিলানের বাড়িতে যাই। তিনি এবং তার স্ত্রী খালেদা বেগম আমাদেরকে ঘর থেকে অপমান করে বের করে দেন এবং বলেন, জিলানের বিরুদ্ধে কিছু করলে অথবা কাউকে বললে তোমাদেরকে চাঁদপুর কোর্টে মামলা দিয়ে হয়রানি করাবো। তোমার আমাকে চিনো না। আমি তখন নিরুপায় হয়ে এর প্রতিকার পেতে কচুয়া সার্কেল বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।

এবিষয়ে জিলান মিয়াকে খোঁজ করলে তিনি বাসায় নেই বলে তার স্ত্রী জানান।

এব্যাপারে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোঃ ইমাম হোসেন বলেন, ঘটনাটি বিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। তাছাড়া ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী আমার অথবা বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষকের কাছে আসেনি। যে কারনে ঘটনাটি আমাদের অগোচরেই থেকে গেলো। প্রতারক জিলানের কারনে উক্ত শিক্ষার্থীর জীবন থেকে একটি বছর নষ্ট হওয়ায় তিনি গভীর ভাবে দুঃখ প্রকাশসহ এমন ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

এলাকাবাসী বলেন, জিলান এক বাজে চরিত্রের লোক। তিনি স্কুলের দোহাই দিয়ে বহু শিক্ষার্থীর জীবন নষ্ট করেছেন। চাকুরী দেয়ার নাম করে বহু জনের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সে জঘন্যতম এক প্রতারক। তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানায় বহু অভিযোগ হয়েছে। সে তার বিভিন্ন অভিনব কায়দায় শত শত মানুষের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে । এলাকার মানুষ তার এহেন কর্মে অতিষ্ঠ। তাকে উপযুক্ত বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তারা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT