রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৭:৪৫ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ এখন অসুখের কারনে ভিক্ষা করতে পারিনা” আমারে একটা কার্ড করে দেন- সমতা বিবি! ◈ নবীগঞ্জে কলেজ ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা ! গাড়ীসহ আটক ২ ◈ এখন অসুখের কারনে ভিক্ষা করতে পারিনা” আমারে একটা কার্ড করে দেন- সমতা বিবি! ◈ দশমিনায় বাল্য বিবাহের ঘটনায় মামলা, গ্রেফতার ১ ◈ ধামইরহাটে ফ্রি ডেন্টাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত, পুরো উপজেলাকে সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা ◈ ধামইরহাট প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ফিজিওথেরাপী প্রদান ◈ ধামইরহাটে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া ৫৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ◈ আসছে মানিকের ‘ফরিয়াদ’ ◈ শাহজাদপুরে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন! মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে অপর ভাই ◈ মিনি কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ

বাংলাদেশে ভালো স্ক্রিপ্ট রাইটার নেই, যারা আছে তারা খুব বেশি প্রফেশনাল : মাহিন

প্রকাশিত : ১২:৫৩ AM, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ রবিবার ৫৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

জনপ্রিয় টিভি নির্মাতা মাহমুদ মাহিন। বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ নিয়ে  তার সঙ্গে কথা বলেছে  নাফিসা নিসা ও রিজন আহমেদ
বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে বলুন।
– গত মাসে তিন চারটা কাজ করার কথা ছিলো,  কিন্তু আনফর্চুনেন্টলি সেটা একটু পেছাতে হয়েছে।এ মাসে তো ভ্যালেন্টাইন ডেআসছে, ভ্যালেন্টাইন এ কিছু প্লান আছে, সেই অনুযায়ী ২ টা কাজ শেষ করেছি। পুরো ফেব্রুয়ারি তে আসলে ৪/৫টা কাজ করার প্লান আছে।
বাংলা চলচিত্রের চেয়ে দেখা যাচ্ছে বাংলা নাটকের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল এর কারণ আপনি কি মনে করেন?  
– প্রথমতো যদি বলতে যাই   সবাই যেটা বলে সেটা হলো বাজেট ।
আমি  আসলে বাজেটের কথাটা এখানে তুলবো না, কারণ স্বল্প বাজেটেও চাইলে অনেক কিছু করা যায় এবং এর মধ্যে অনেকেই করে দেখিয়েছেন সেটা।তাই বাজেট এর কথা কোন লাভ নেই। নাটক ও সিনেমা কিন্তু বলতে গেলে একই শুধু ক্যাটাগরি তে ভাগ করে দেয়া হয়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশে আসলে নাটক শব্দটাই নাই। আমাদেরদেশের মতো নাটক শব্দটা এতো বিস্তৃত না। কলকাতার কথাই যদি বলি সেখানে সব সিরিয়াল, সিঙ্গেল নাটক কিন্তু নেই।  আমরা সেই কন্টেন্ট গুলো নাটক হিসেবে নিচ্ছি সেই কন্টেন্টগুলো দিয়েই তারা সিনেমার কিছু রসদ ডুকিয়ে  সিনেমা বানাচ্ছে।
আমাদের দেশে নাটকটা বেশি হয়ে গেছে কারন নাটকে আমারা মোটামুটি একটা বাজেটের মধ্যে ভালো কিছু দেখাতে পারছি সেই জন্য আমাদের নাটকের ইন্ডাস্ট্রিটা বড়ো হয়ে গেছে। যেকারণে  আমরা  সিনেমার দিকে নজর কম দিচ্ছি। আরও একটা কারন হচ্ছে সিনেমা হল কমে যাচ্ছে।  আর অনলাইন প্লাটফর্ম এ আমরা সহজেই ভালো  কন্টেন্ট এর নাটক গুলো পেয়ে যাচ্ছি এবং সিনেমার তে বাজেটও বেশি তাই সিনেমা কম হচ্ছে। আমরা যদি বলি নাটক সিনেমার চেয়ে এগিয়ে আছে এটাও কিন্তু ভুল।  এই মার্কেটে সিনেমার চেয়ে নাটকটা এগিয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে কিন্তু যদি ইন্টারন্যাশনালি চিন্তা করি তাহলে কিন্তু দেখা যাবে নাটকেও কিন্তু আমরা খুব বেশি এগিয়ে নেই। আমাদের চোখে লাগছে কারন আমাদের সিনেমাই নাই বলতে গেলে।তবে এখন বিভিন্ন এ্যাপগুলো বাংলাদেশে ঠুকছে ,  অনলাইন বিভিন্ন প্লাটফর্ম হচ্ছে এবং আমাদের দেশে ভালো ভালো  কিছু সিনেমাও কিন্তু হচ্ছে। ওয়েব সিরিজও হচ্ছে আস্তে আস্তে। সবকিছু আপডেট হচ্ছে আগের মতো কিন্তু নেই, আমার মনে হয় অবস্থাটা আমরা ৫ বছর পর আরও বেটার পাবো।
আপনার কি সিনেমা বানানোর ইচ্ছে রয়েছে?
– সবারই স্বপ্ন থাকে সিনেমা বানাবে, বড় পর্দায় নিজেকে প্রেজেন্ট করবে। সেই জায়গা থেকে অবশ্যই সিনেমা বানানোর ইচ্ছে আছে।
আমাদের কাছে নাটকের যে কনসেপ্টটা আছে আমরা চাইলেই সিনেমাতে রুপান্তর করতে পারি,, কিন্তু আমরা পারছি না বাজেট সল্পতার কারনে। ২/৩ বছর আমি সিনোমায় হাত দিবো না  কিন্তু এর মধ্যে প্লানিং  করে ফেলবো। শুট করতে করতে ২০২৩ /২০২৪   বাকিটা আল্লাহর হাতে। ডে বাই ডে যদি আমার নাটকগুলো ভালো হয় তাহলে আমি সিনেমায় যাবো কিন্তু যদি দেখি যে নাটকগুলো ভালো হচ্ছে না তাহলে  আমি সিনেমায় যাবো না।
বাংলা নাটক গ্রামীণ পর্যায়ে খুব একটা আলোচিত হয়না, নাটকে শহুরে ভাব দেখা  আজকাল স্ক্রিপ্ট সংকটটের কথা ও শোনা যায়? কেন?
– গ্রামীন পর্যায়ে আসলে ঐ নাটকগুলো হচ্ছে না সেগুলো হুমায়ূন স্যার বানিয়েছেন, লাভলুু ভাইয়েরা বানিয়ে গেছেন ঐ পর্যায়ের নাটক হচ্ছে না। গ্রামীন পর্যায়ে নাটক না হওয়ার কারণ স্ত্রিপ্ট অবশ্যই। আমাদের দেশে আসলে বলতে গেলে ভালো কোন স্ক্রিপ্ট রাইটার নাই।  যারা আছে তারা খুবই প্রফেশনাল।
একজন রাইটারের প্রচুর পরিমানে পড়াশুনা করা উচিৎ,  প্রচুর পরিমানে দেখা উচিৎ, ঘোরা উচিৎ তো আমাদের দেশে এমন রাইটার কই? তো এই জায়গা থেকে স্ক্রিপ্ট এর আসলেই সংকট রয়েছে। আমাদের প্রোবলেম হচ্ছে আমরা এ কন্টেন্ট গুলো দিতে পারছি না , যেই কনটেন্টগুলো আমরা দেখে আসছি।আমরা না দেয়ার কারণ হচ্ছে আমাদের নলেজ খুবি সামান্য আমাদের নলেজ হচ্ছে দেখা নলেজ। শুধু দেখলে হবে না পড়াশুনা করতে হবে, প্রচুর ঘুরতে হবে। দেখে শিখলে ভিজুুয়াল ক্ষমতা বাড়বে কিন্তু কন্সেপ্ট ক্ষমতা বাড়বে না, তখন কপি চলে আসা সাভাবিক।
লকডাউন এর সময়টাতে কাজের ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন ?
– আমি কোনো সমস্যাই পাই নি, আমি লকডাউনটা বেশ উপভোগ করছি। আমি খুব ভালো সময় কাটিয়েছি। প্রচুর বই পড়েছি, অনলাইনে কম ছিলাম। চারিদিকে অবস্থা খারাপ, দেশের অবস্থা খারাপ এইদিক দিয়ে মন একটু খারাপ ছিলো। লকডাউন  এ অনেক বেশি স্ট্যাডি করছি, অনেক সিনেমা দেখছি, ওয়েব সিরিজ দেখেছি।
নিশো আর অপূর্ব এদের মধ্যে ১০ এ কাকে কতো দিবেন?
– আমি কাউকেই নাম্বারিং করতে চাই না। এই ধরনের প্রশ্নগুলো আমি এড়িয়ে যেতে চাই। আর্টিস্ট হিসেবে সবাই সবার জায়গায় ঠিক ঠাক।
মাহিনের কি নাটকের জন্য জন্ম?
– আল্লাহ আমাদের সেটাই করাচ্ছেন যার জন্য আমাদের পাঠিয়েছেন। নাটকের জন্যই আমার জন্ম আমি নাটক নিয়েই পরে থাকবো এটা আমি বলতে পারছি না। আমি যদি ঠিক মতো প্রেজেন্ট না করতে পারি, ভালো আউটপুট আসছে না তাহলে আমি বৃথা ট্রাই করবো না।
যেটা আমার হচ্ছে না আমি সেটা জোড় করে বানাবো না, যদি দর্শক আমাকে নিচ্ছে, আমি কাজের প্রতি সেটিসফেকশন পাচ্ছি তখনই আমি এই প্রফেশন নিয়ে থাকবো।
আমার বাবা চেয়েছিলেন যে আমি ডাক্তার হই, কিন্তু আল্লাহ যা চেয়েছেন আমি তাই হয়েছি। না হয় ডাক্তারই হতাম।
 
নতুন অভিনেতা অভিনেত্রীদের মধ্যে কাকে ভালো লাগে? 
– নতুনদের অভিনেত্রীদের মধ্যে পায়েল, ফারিন, অভেনেতাদের মধ্যে ফারহান, শামীম  এরা চারজন ভালো করছে। এরা যদি তাদের ফোকাসটা এ্যাকটিং এ ঠিকমতো রাখতে পারে তাহলে ওদের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না।
 
নাটকে সিন্ডিকেট এর কথা শোনা যায়, এই বিষয়ে আপনার মতামত কি?
-আমি ছোট বেলা থেকে অনেক বেশি আরাম প্রিয় মানুষ। আমার বাবা ভাইয়েরা পলিটিক্স করেছে, আমি কখনও করিনি। আমি সবসময় এটাকে এড়িয়ে যেতাম। সিন্ডিকেট বলেন পলিটিক্স বলেন এগুলো কাইন্ড অফ একই জিনিস।যখন যেটা করছি সেটাই আমি এনজয় করি, আমার পকেটে যদি টাকা না থাকে আমি সেটাও এনজয় করি, আবার পকেটে অনেক টাকা আছে সেটাও এনজয় করি। সিন্ডিকেট এর মধ্যে আমি কখনও ছিলাম না, বিশ্বাসও করি না এবং মাথাও ঘামাই না।
বর্তমান সময়ে অনলাইন প্লাটফর্মে তৈরী হচ্ছে। নতুন জেনারেশন অনলাইন কেন্দ্রীক কন্টেন্ট বানাচ্ছে। এব্যাপারে আপনার মতামত? 
– অনলাইন মিডিয়া হলো ওপেন স্পেস যেখানে সবাই সবার প্রতিভা তুলে ধরতে পারছে।এটা পজিটিভ নেগিটিভ দুইটা সাইডই আছে। যারা কাজ করছে আমি তাদের এ্যাপ্রিসিয়েট করি। যেহেতু ওপেন স্পেস সেহেতু রুচিশীল এবং প্রেজেন্টেবল কাজ করাটাই ভালো।
নতুন যারা ডিরেকশনে আসতে চাচ্ছে তাদের জন্য পরামর্শ।
– পরামর্শ একটাই যে যাই করুক না কেনো সেটা যেনো প্রেজেন্টেবল হয়। যারা ডিরেকশনে আসতে চায় তাদের বলতে চাই  প্রচুর পড়াশুনা করতে হবে, প্রচুর জানতে হবে এবং দেখতে হবে প্রচুর। প্রচুর মুভি দেখতে হবে  সেটা যেকোন দেশের হোক, যেকোন ভাষার হোক।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT