রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ৪ঠা অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
◈ জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আজ অস্তিত্ব সংকটের মুখে ◈ ময়মনসিংহে রেলওয়ের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান শুরু ◈ লালমনিরহাটে বিএনপির মিছিলে পুলিশি বাঁধা ক্ষিপ্ত নেতারা ◈ শেরপুর ফাঁড়ি পুলিশের লবণ নিয়ে সতর্কবার্তা ◈ এমপি মানিকের বিরুদ্ধে কটুক্তির প্রতিবাদে ছাতকে আ’লীগের বিক্ষোভ ◈ নবীগঞ্জে ৬০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি ◈ বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ফেনী জেলা শাখা মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ◈ গংগাচড়ায় দুইদিন ব্যাপি মাদক বিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত ◈ গাজীপুর মহানগর ধীরাশ্রম এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই সেগুন কাঠ টাক আটক করেন ◈ সাপাহারে তিলনা ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে সাংবাদিক হাফিজুলকে চায় এলাকাবাসী

বাংলাদেশে প্রতিবছর হৃদরোগে মৃত্যুর সংখ্যা ২ লক্ষ ৭৭ হাজার

প্রকাশিত : ০৮:০৪ পূর্বাহ্ণ, ৭ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার ৫৩ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

বাংলাদেশে প্রতিবছর ২ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ হৃদরোগের কারণে মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়াও বিশ্বে প্রতিবছর ১ কোটি ৭৯ লক্ষ মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করে যার অন্যতম কারণ ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ। শিল্পোৎপাদিত এই ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণের কারণে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে উচ্চমাত্রায় ট্রান্স ফ্যাটি এসিড বা টিএফএ নামক একধরনের চর্বি জাতীয় পদার্থ গ্রহণই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বুধবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের সভাকক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আয়োজিত ‘ট্রান্স ফ্যাট ও হৃদরোগ ঝুঁকি এবং গণমাধ্যমের করণীয়’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড (টিএফএ), হৃদরোগ ঝুঁকি এবং গণমাধ্যমের করণীয় বিষয়ে আলোচনায় এ সব তথ্য জানানো হয়।

কর্মশালাটি যৌথভাবে আয়োজন করে ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস্ (সিটিএফকে) এর গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের সহায়তায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা)। এতে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি জেম্‌স পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ’র অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম ও ন্যাশনাল হার্ট-ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউট ট্রান্স ফ্যাট প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর ডা. শেখ মো. মাহবুবুস সোবহান।

ট্রান্স ফ্যাট এর সাধারণ বৈশিষ্ট্য, উৎস এবং এর উৎপত্তি নিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ এর অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, ট্রান্স ফ্যাট এক ধরনের অসম্পৃক্ত চর্বি বা আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট যা মূলত: আংশিক জারিত তেল বা Partially Hydrogenated Oils – PHOতে বিদ্যমান থাকে, যা ডালডা কিংবা বনস্পতি ঘি নামে আমাদের দেশে পরিচিত। এতে ২৫-৪৫ শতাংশ পর্যন্ত ট্রান্স ফ্যাট থাকে। খাদ্য প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠানগুলো খাবার সংরক্ষণের সুবিধার্থে এবং বিভিন্ন ভাজা পোড়া ও বেকারি খাদ্য পণ্যের স্বাদ, ঘ্রাণ এবং স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য আংশিক হাইড্রোজেনেটেড তেল ব্যবহার করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকার স্থানীয় বাজার থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে সংগৃহীত ১২ ধরনের বেকারি বিস্কুট নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় নমুনা বিস্কুটগুলোতে ৫ শতাংশ থেকে ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত ট্রান্স ফ্যাটের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে (মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ এর কম) অনেক বেশি।

কর্মশালায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিউটের ট্রান্স ফ্যাট সমন্বয়কারী ডা. শেখ মো: মাহবুবুস সোবহান বলেন, ট্রান্স ফ্যাট এসিড (টিএফএ) হচ্ছে প্রাকৃতিক বা শিল্প উৎস থেকে আসা অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড। প্রাকৃতিক ট্রান্স-ফ্যাটের মধ্যে রয়েছে দুধ, মাখন, ঘি, গরুর মাংস, ছাগলের মাংসের মতো প্রাণীজ উৎস। যা একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত তেমন ক্ষতিকর নয়। কিন্তু শিল্পক্ষেত্রে উদ্ভিজ তেলের হাইড্রোজেনেশনের সময় ট্রান্স ফ্যাট উৎপন্ন হয়। আংশিকভাবে হাইড্রোজেনেটেড তেলই শিল্পে উৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাটের প্রধান উৎস।

তিনি বলেন, সিঙ্গারা, সমুসা, পুরি, বিস্কুট, চানাচুর, চিপসের মতো বেকারি পণ্য যা মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় থাকে সেগুলো তৈরিতে হাইড্রোজেনেটেড তেল ব্যবহার করা হয়। অনেক স্ট্রিট ফুড যেগুলো কড়া করে ভাজা হয় সেগুলোতেও ট্রান্স ফ্যাট থাকে। এছাড়া রান্নার কাজে একই তেল বারবার ব্যবহার করলেও তাতে ট্রান্স ফ্যাট উৎপাদিত হয়। ট্রান্স-ফ্যাটি এসিড অন্যান্য যেকোনো খাদ্যের তুলনায় হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এটি রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয় এবং ‘ভালো’ কোলেস্টেরল কমায়। এতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়ে।

বাংলাদেশে ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণে করণীয় সম্পর্কে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি’র কান্ট্রি কো- অর্ডিনেট মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের মধ্যে টিএফএ এর ব্যবহার নির্মূল অর্থাৎ ২ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার এক বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এটি একইসাথে ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগজনিত অকাল মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশে কমিয়ে আনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই লক্ষ্য অর্জনে REPLACE অ্যাকশন প্যাকেজ অনুসরণ করার কথা বলছে। তাই হৃদরোগ প্রতিরোধসহ জনস্বাস্থ্যের কার্যকর উন্নয়নের জন্য ট্রান্স ফ্যাট নির্মূলের কোনো বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা জানান, ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের হার ২ শতাংশ বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকি ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। হৃদরোগ জনিত মৃত্যুর হার ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। তাই সরকারের উচিৎ এদিকে নজর দেওয়া।

কর্মশালায় জানানো হয়, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ডেনমার্ক ২০০৩ সালে আইন করে খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা মোট ফ্যাটের ২ শতাংশ নির্ধারণ করে। এছাড়াও অস্ট্রিয়া, নরওয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড, ইরান, ভারতসহ মোট ২৮টি দেশে খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ কার্যকর করায় দেশগুলোতে ইতোমধ্যেই শিল্পোৎপাদিত খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাটের পরিমাণ ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া আরও ২৪টি দেশ ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ বাধ্যতামূলক করেছে, যা আগামী দুই বছরের মধ্যে কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর আমেরিকা এবং কানাডা ট্রান্স ফ্যাটের প্রধান উৎস PHO এর উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। ভারতে ২০১১ সাল থেকে তেল ও বনস্পতি ঘি বা ডালডা জাতীয় পণ্যে ট্রান্স ফ্যাটের মাত্রা সর্বোচ্চ ১০% পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করা হয় এবং ২০১৫ সালে এটি ৫ শতাংশে কমিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি ২০২২ সালের মধ্যে ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২ শতাংশে কমিয়ে আনার পাশাপাশি খাবারে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাট পরিহার করার ঘোষণা দেয়। অথচ বাংলাদেশ এখনো ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণের পথে যাত্রাই শুরু করেনি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫ লাখ ৭২ হাজার ৬০০ এরও বেশি মানুষ অসংক্রামক রোগে (এনসিডি) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে বলে জানা যায়। যা মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ‘এনসিডি কান্ট্রি প্রোফাইল, বাংলাদেশ’ অনুসারে ৩০-৭০ বছর বয়সের মধ্যে ২২ শতাংশ মানুষ অসংক্রামক রোগের কারণে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে। আর অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ ট্রান্স ফ্যাট।
এদিকে শিল্পজাত ট্রান্স ফ্যাটের ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনা করে ২০১৯-২০ সালের মধ্যে খাবারের উৎস থেকে ট্রান্স ফ্যাট নির্মূল করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ডব্লিউএইচও-এর তথ্য অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সারাদিনে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ করতে পারবে। অর্থাৎ ২০০০ ক্যালোরির ডায়েটে তা ২ দশমিক ২ গ্রামের কম হবে। বর্তমানে এটি ২ শতাংশ পর্যন্ত অনুমোদিত আছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ কড়া করে ভাজা খাবারে টিএফএ’র পরিমাণ নির্ণয় করতে একটি গবেষণা শুরু করলেও বাংলাদেশের মানুষ গড়ে কি পরিমাণ ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ করে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে জানা গেছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT