রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১১:৩৬ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ কলমাকান্দায় যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত ◈ তাহিরপুরে দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদের সাথে থানা পুলিশের মতবিনিময় ◈ ভালুকায় তিতাস গ্যাস অফিসের অনিয়ম-দুর্নীতি এখন ‘নিয়ম’ ◈ করোনার কারনে দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে এক প্রতিষ্ঠানের ৮৫ স্কুল ছাত্রী ◈ হামলার প্রতিবাদে শরীয়তপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের অবস্থান ◈ বেলান নদীর সাঁকো ভেঙে লাখো মানুষের ভোগান্তি ◈ সেলিম মন্ডল কে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় এলাকাবাসী ◈ চরম আর্থিক সংকটে নির্বাচন থেকে পিছু হটলেন ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী জসিম ◈ ভূঞাপুরে “প্রতিভা ছাত্র সংগঠন” এর চারা রোপন কর্মসূচির উদ্বোধন ◈ ফুলবাড়ীয়ায় ব্যক্তি উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার

বাঁশখালীতে হাতির হামলায় নিহত পরিবারকে ১ লাখ টাকার চেক

প্রকাশিত : ১২:৪৭ AM, ২৭ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার ১৫৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

মোহাম্মদ এরশাদ বাঁশখালী চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানাধীন ৪নং বাহারছড়া ইউপির পূর্ব ইলশা গ্রামের গাজীর পাড়ার সাথে লাগানো পশ্চিম পার্শ্বে অবৈধ ভাবে ইট ভাটা স্থাপনের অভিযোগ উঠে। একই এলাকার চৌধুরী ব্রিকস ওয়ার্কস এর সত্বাধিকারী মরতুজা আলী চৌধুরী বিগত ১ বছর পূর্বে মানুষের কৃষি জমি দখল করে ঐ ইট ভাটা স্থাপন কাজ শুরু করেন। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স ও কৃষি বিভাগের অনুমতি সহ প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র না থাকায় বিগত ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার ঐ অবৈধ নির্মাণাধীন ইট ভাটার নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। কয়েকদিন বন্ধ রাখার পর নির্বাহী কর্মকর্তার নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে পুনরায় অবৈধ ইট ভাটার নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে কয়েকবার ইট তৈরী করে।

ঐ সময় স্থানীয় বাকর আলী তালুকদার জামে মসজিদের ওয়াকফ ভূমির ১৬ শতাংশ দখলের বিষয়েও মুসল্লিরা বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন। তবুও তেমে ছিল না ঐ অবৈধ ইট ভাটার কার্যক্রম। একপর্যায়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্দেশ অমান্য করে অবৈধ ভাবে ইট ভাটা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় মরতুজা আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় প্রধান ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবরে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

দীর্ঘ কয়েকমাস বন্ধ থাকার পর কিছুদিন আগে থেকে মরতুজা আবার ঐ অবৈধ ইট ভাটা সংস্কারের কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।জানা যায়, মরতুজা আলী চৌধুরী তার ‘চৌধুরী ব্রিকস ওয়ার্কস’ নামীয় ইট ভাটার ৫০ গজ দুরত্বেই পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় কৃষি জমি দখল করে নতুন এই অবৈধ ইট ভাটা স্থাপন করেন। ঐ অবৈধ ইট ভাটার চারিপাশে রয়েছে বসতি ঘর-বাড়ী ও মসজিদ। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ২০১৩ অনুচ্ছেদ ৮-এর (ঘ) ও (ঙ) ধারা অনুযায়ী, কৃষি জমি ও পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপন দণ্ডনীয় অপরাধ।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার জানান, এই বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে গতবছর অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে ঐ ইট ভাটা বন্ধ করে দিয়েছেন। এবছরও এলাকাবাসীর পক্ষ ঐ ইট ভাটার বিষয়ে পুনরায় আরেকটি অভিযোগ পেয়েছেন, একই অভিযোগ পরিবেশ অধিদপ্তরকেও দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে, যদি পুনরায় ইট ভাটাটি চালু করা হয় তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।এলাকার তিনজন বাসিন্দা জানান, গত বছরই এই ইট ভাটা চালু করা হয়েছে। কিন্তু যেখানে করা হয়েছে, সেখানে কোনোভাবেই ইটভাটা স্থাপনের জন্য উপযুক্ত নয়। কারণ, ভাটার পুরো অংশই জনবসতি ও কৃষি জমির উপর স্থাপন করা হয়েছে।

এর চারপাশে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। তাঁরা জানান, কিছু নিরীহ লোকজনের জমি দখলপূর্বক ভাটাটি স্থাপন করে। অবৈধ ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানোর ধোঁয়ায় মানুষের স্বাস্থ্যসমস্যার পাশাপাশি পরিবেশও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে তাঁদের শঙ্কা।

ইটভাটাটির কাজের দেখাশোনা করেন মরতুজা আলী চৌধুরীর ভাতিজা শাহাদাত হোসেন চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি। তিনি মুঠোফোনে বলেন, স্থানীয় লোকজনদের নিকট থেকে ১০ বছরের জন্য জমি লিজ নিয়ে ‘চৌধুরী ব্রিকস ওয়ার্কস’ নামীয় ২য় ইট ভাটা চালু করা হয়েছে।

গত বছর এই ইট ভাটাটি নির্মাণের সময় স্থানীয় কিছু লোকজন তাদের পূর্বশত্রুতার জের ধরে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি এই ইট ভাটার কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দিলেও পরে একটি মহল থেকে অনুমতি নিয়ে নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে ২/৩ বার ইট তৈরী করেছিলেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের কোনো অনুমোদন আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আবেদন করব।’ এছাড়াও তাদের কাছে হাই কোর্টের রায় কপি রয়েছে এবং ঐ রায়ের মধ্যে জেলা প্রশাসককে লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য নির্দেশনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

এই ইটভাটার মালিক মরতুজা আলী চৌধুরী এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়াও তিনি চেক জালিয়াতি মামলার এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী সহ তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

এলাকাবাসীর দাবী অবৈধ ইটভাটার কারণে আশেপাশে ধান, সবজি, আম, কাঁঠাল, নারিকেলসহ বিভিন্ন ফলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষির যেমন ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে রোগবালাই দেখা দিচ্ছে।

অন্যদিকে ইটভাটা মালিকেরা কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসাবে কাঠ পোড়াচ্ছে। আইন অমান্য করে জমি মালিকদের টাকার প্রলোভন দিয়ে কিংবা জোরপূর্বক ফসলি জমির উপরি ভাগের মাটি কেটে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এই অবৈধ ইট ভাটা বন্ধ সহ ভুক্তভোগীদের জমি উদ্ধারের জন্য

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT