রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০২:০৭ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ আ’লীগ নেতা সৈয়দ মাসুদুল হক টুকুর পিতার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ◈ ঘাটাইল আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ◈ শীতার্তদের মুখে হাসি ফোটালেন সিদ্ধিরগঞ্জ মানব কল্যাণ সংস্থা ◈ হরিরামপুরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে বন্ধে স্ত্রীর অনশন ◈ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব-দুঃখীদের পাশে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান… ◈ কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর করোনা এক্সপার্ট টিমের কম্বল বিতরণ ◈ পেইড পিয়ার ভলান্টিয়ারদের চাকরী স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন ◈ ফুলবাড়ীতে শীতার্তাদের মাঝে ডিয়ার এক্স টিমের শীতবস্ত্র বিতরণ ◈ রানীরবন্দর রুপালী ব্যাংক লিঃ ব্যবস্থাপকের বিদায় ও বরণ ◈ শার্শায় বাইক ছিনতাই করে চালককে হত্যায় জড়িত ৩ আসামী আটক

বল সুন্দরী কুলে পাল্টে গেল জীবনের মোড়

প্রকাশিত : ০৪:৪০ AM, ২৬ জানুয়ারী ২০২০ রবিবার ৭৭৪ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

লেখাপড়া শেখার প্রতি আগ্রহ ছিল কবিরুস সোবহানের। কিন্তু সে সময়ে কৃষক বাবার পরিবারে বাধা হয়ে ছিল অভাব। তাই ইচ্ছা থাকলেও অষ্টম শ্রেণি পাসের পর আর এগোতে পারেননি তিনি। বাধ্য হয়ে অন্য ভাইদের সঙ্গে নামতে হয়েছে কৃষি কাজে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথক হয়ে সংসার পাততে হয়েছে তাকে। তখন তার সম্পদ বলতে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া মাত্র দেড় বিঘা চাষের জমি। সে সময় অভাব তাকে জাপটে ধরার কারণে পরের ক্ষেতে কাজ করতে হয়েছে। কিন্তু কখনো তিনি হতাশ হননি। বরং সংসারকে মনে করেছেন একটি যুদ্ধক্ষেত্র। তাই মনোবলকে পুঁজি করে পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ হয়েছেন উপজেলার মধ্যে সফল ফলচাষি।

মাত্র ২০ বছরের ব্যবধানে তিনি মোট ১২ বিঘা জমি কিনেছেন। সুন্দর একটি বসতবাড়ি তৈরি করেছেন। ফল রাখার জন্য ১২ লাখ টাকা খরচ করে মাঠেই নির্মাণ করেছেন কোল্ড স্টোরেজ। বর্তমানে নিজের ও লিজ নেয়া মিলে মোট ২৪ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফলের চাষ রয়েছে। এরমধ্যে প্রায় সাড়ে সাত বিঘা জমিতে বল সুন্দরী ফলের চাষ করে কেড়েছেন সবার নজর। অতীত ও বর্তমান জীবনের হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে এলাকার মানুষের কাছে তিনি জীবনযুদ্ধে জয়ী এক যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। সফল ফলচাষি কবিরুস সোবহান ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর গ্রামের ওয়াহেদুস সোবহানের ছেলে।

সরেজমিনে ফল বাগানে গেলে দেখা যায়, মাটির সামান্য ওপর থেকেই সব কুলগাছের ডালপালা চারদিক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিটি ডালে প্রচুর পরিমাণে কুল ধরে মাটিতে নুয়ে পড়ছে। অবস্থা এমন গাছের পাতার চেয়ে গাছে কুল বেশি দেখা যাচ্ছে। কুলগুলো দেখতে ঠিক অষ্ট্রেলিয়ান আপেলের মত। কিন্তু আকারে একটু ছোট। ক্ষেতের পাখি ঠেকাতে পুরো ক্ষেতের ওপর দিয়ে টানানো রশিতে বেঁধে দেয়া হয়েছে বিশেষ ধরনের বোতল। পাহারাদার ক্ষেতের মাঝখানে রশি ধরে খানিক পর পর টানছেন আর ছাড়ছেন এতে এক ধরনের শব্দ তৈরি হচ্ছে। এতে পাখিরা কুল নষ্ট করতে ভয় পাচ্ছে। ওই মাঠের একটু দূরে আরেকটি ক্ষেত রয়েছে একই জাতের কুল। সে ক্ষেতটিতেও একইভাবে চাষ করা হয়েছে বল সুন্দরী জাতের কুল। এর রঙটা বেশ আকর্ষনীয়। পাশেই রয়েছে তার ড্রাগন ক্ষেত। এর অল্প দূরেই থাইল্যান্ডের-৫ ও ৭ জাতের পেয়ারা। পেয়ারা ক্ষেতের পাশেই রয়েছে থাইল্যান্ডের বারোমাসি জাতের আম। যেখানে ছোট ছোট আমগাছে মাটি থেকে একটু ওপরে ছোট বড় আম ধরে আছে।

কৃষক কবিরুস সোবহান জানান, সাংসারিক জীবনে অভাবের কারণে খুব কষ্ট করেছেন। কিন্তু তার বিশ্বাস ছিল পরিশ্রম করেই সফল হবেন। অর্থ না থাকলেও আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে ২০০০ সালে প্রথমে কিছু ধারদেনার মাধ্যমে নিজের দেড় বিঘা জমিতে গাঁদা ফুলের চাষ শুরু করেন। লাভ পেয়ে এ চাষেই জমি বর্গা নিয়ে ফুলচাষ বাড়াতে থাকেন। এভাবে ১২ বছর ফুল চাষের মাধ্যমে বেশ সফল হন তিনি। এরপর ফলচাষে আরো সফলতা ধরা দেয়।

তিনি বলেন, এলাকায় প্রথম হিসেবে বল সুন্দরী জাতের কুল, ১০ বিঘা থাই পেয়ারা, তিন বিঘা জমিতে ড্রাগন, তিন বিঘা জমিতে বারোমাসি জাতের আম চাষ হয়।

কৃষক কবিরুস সোবহানের ভাষ্য, এ পর্যন্ত জীবনে যত ফল ও ফসলের চাষ করেছেন প্রায় সবগুলোতেই লাভবান হয়েছেন। কিন্তু বেশি সাড়া পাওয়া গেছে বল সুন্দরী জাতের কুলে। ক্ষেতে যে পরিমাণে কুল ধরেছে তা দেখতে মানুষ আসছে। অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, মাত্র ১৪ মাস আগে যশোরের ঝুমঝুমপুর থেকে বল সুন্দরী জাতের কুলের ৬শ’ চারা কিনে সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে রোপণ করেন। এ বছরই সব গাছগুলোতে কুল ধরেছে। এ উপজেলায় অনেক জাতের কুলচাষ হয়েছে কিন্তু বল সুন্দরী জাতের কুল চাষ এই প্রথম। এ জাতের কুলের আকার, রঙ কিছুটা ভিন্ন। কুল বয়সে পরিপূর্ণ হয়নি। কমপক্ষে ২০ দিন পরে ক্ষেতের কুল বিক্রি উপযোগী হবে। কয়েকদিন আগে পুরো ক্ষেত একটু আগে ধরা অল্প কিছু কুল স্থানীয় কালীগঞ্জ শহরে বিক্রি করতে এনেছিলেন। অন্যান্য জাতের কুল বাজারে ২০/২৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও তার বল সুন্দরী কুল স্বাদের জন্যই প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

সোবহান জানান, তার ফল বাগানে মাসিক বেতন চুক্তিতে মোট ১৪ জন লোক কাজ করেন। তারাই বাগান টিকিয়ে রাখেন। কোনো কোনো সময় বাজারজাতও তারা করেন।

দায়িত্ব পালনকারীদের একজন ওই গ্রামের পরিতোষ দাস জানান, দীর্ঘ ১৮ বছর তার সঙ্গে আছি। আমরা ১৪ জন শ্রমিক পুরো বছরের জন্য তার ফল বাগানে কাজ করি।

বাগান মালিকের ভাষ্য, বাগানগুলো নিজেদের মনে করে ভক্তি রেখ। আমরা শ্রমিক হলেও আমাদের সেই দৃষ্টিতে দেখেন না। বিশ্বাসের কারণেই তিনি ফলের বাজারজাত থেকে শুরু করে অনেক কাজের জন্য আমাদেরকে পাঠান।

উপজেলোর ত্রিলোচনপুর ইউপির দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানান, এ এলাকায় যেন ফলের বিপ্লব ঘটে গেছে। কবিরুস সোবহান অনেক পরিশ্রম করে বিভিন্ন ধরনের ফলের চাষ করেছেন। এরমধ্যে বল সুন্দরী কুল যেভাবে গাছে ধরে আছে দেখলে চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, কয়েকদিন আগে তিনি কবিরুস সোবহানের বল সুন্দরী কুলসহ তার সব ফলের বাগান ঘুরে এসেছেন। যেভাবে কুল ধরে আছে তা দাঁড়িয়ে দেখার মত।

তিনি আরো বলেন, ফলচাষি কবিরুস সোবহান নিজে এক সময়ে কষ্ট করেছেন। আর এখন হয়েছেন এলাকার মধ্যে একজন আদর্শ কৃষক। কৃষি কাজে যে ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটানো যায় তিনি এর উদাহরণ। সুন্দরী কুলে তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT