রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৮:২৪ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ কুড়িগ্রাম সদরে ইউপি নির্বাচনে নৌকার মাঝি হলেন যারা ◈ রাজশাহীর মোহনপুরে নৌকার প্রতীক পেলেন যারা ◈ শ্রীনগরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন যারা ◈ চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব শাহ আলমের নির্বাচনী উঠান বৈঠক। ◈ তাহিরপুর সীমান্তে ভারতীয় মাদকের চালান সহ বিভিন্ন মালামাল আটক ◈ ফুলবাড়ীর ছয় ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হলেন যারা ◈ সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কলমাকান্দায় মানববন্ধন ◈ ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শশিকর বাজারে শুভ উদ্বোধন ◈ তাহিরপুরে তথ্য অধিকার বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষন কমিটির সভা ◈ রাজারহাটে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন ত্রাণ ও দূর্যোগ প্রতিমন্ত্রী

বরগুনায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত : ০২:৫১ PM, ১৬ জুন ২০২০ মঙ্গলবার ৮০৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

মোঃ সানাউল্লাহ, বরগুনা প্রতিনিধিঃ

বরগুনা সদর উপজেলার ধূপতি মনসাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামসুন্নাহার মুনমুনের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রি, পুরাতন লেট্রিন বিক্রি, বিদ্যালয়ের বেঞ্চ, পুরাতন চেয়ার-টেবিলের স্টিলের তৈরি স্ট্রাকচার বিক্রি করে অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের অনুকূলে বরাদ্দকৃত সকল সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামসুন্নাহার মুনমুন ও সভাপতি জয়নাল আবেদীন বিদ্যালয়ের ৩ টি চাম্বল গাছ সভাপতির ভাই মোঃ জাকির খলিফার কাছে বিক্রি করেছেন এবং বিদ্যালয়ের একটি পুরানো লেট্রিন ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি তোতা মিয়ার কাছে বিক্রি করেছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের পুরাতন চেয়ার-টেবিলের স্ট্রাকচার বিক্রি করেছেন। তবে কত টাকায় বিক্রি করেছেন তা বলতে পারেনি এলাকাবাসী।
বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক শাহিন আলম বলেন, প্রধান শিক্ষিকা ও সভাপতি মিলে সভাপতির ভাইয়ের কাছে গাছ বিক্রি করেছে। সহ-সভাপতি তোতা মিয়ার কাছে বিদ্যালয়ের লেট্রিন বিক্রি করেছে। আমরা বিক্রির বিষয়ে কিছুই জানিনা। গাছ কেটে নেওয়ার সময় আমরা জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেছে আমরা কিনে নিয়েছি। প্রধান শিক্ষিকা এলাকার কারো কাছে আলাপ না করেই ম্যানেজিং কমিটির কতিপয় সদস্যের যোগসাজসে যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। আমরা এর প্রতিকার চাচ্ছি।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সাবেক শিক্ষক জহিরুল ইসলাম গাজী বলেন, বিদ্যালয়টির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। শিক্ষার্থীরা আসে না বললেই চলে। বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা আসার পর থেকে যেসব কর্মকাণ্ড হচ্ছে তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধান শিক্ষিকা এলাকার কাউকে মূল্যায়ন করে না। বিদ্যালয়ের সকল বরাদ্দ আত্মসাৎ করেছে। বিদ্যালয়টি আমরা করেছি কিন্তু এভাবে ধ্বংস হোক তা আমরা চাই না।

বিদ্যালয়ের জমিদাতার ছেলে ও সাবেক সভাপতি মোঃ মনজুর আলম বলেন, বিদ্যালয়ের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার পর আমি প্রধান শিক্ষকের কাছে গাছ বিক্রির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কিছু বলতে পারব না ম্যানেজিং কমিটির কাছে জিজ্ঞেস করেন। প্রধান শিক্ষিকার কাছে কোন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে প্রধান শিক্ষিকার উস্কানিতে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা স্যার কে স্কুলে বসে বেধড়ক মারধর করা হয়। তার অপরাধ ছিল প্রধান শিক্ষিকা যতদিন স্কুলে আসেনি তার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নেই তা মোবাইলে ছবি তুলে রাখা। কেননা প্রধান শিক্ষিকা প্রায়ই স্কুলে না এসে পরবর্তীতে স্বাক্ষর করেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি দাবি করছি আমার বাবার জমিতে প্রতিষ্ঠান, এটি যাতে ধ্বংস না হয়ে যায়। তিনি যেন তার ব্যবস্থা নেন।

স্থানীয় পান্না গাজী বলেন, স্কুলে কি আছে না আছে তার বর্তমান অবস্থা আপনারাই তো চোখে দেখছেন। বর্তমান প্রধান শিক্ষকের কারণে স্কুলটি ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শন করে যথাযথ ব্যবস্থা নিক।

বিদ্যালয়ের প্রতিবেশি রহিমা বেগম বলেন, এই মহিলা (প্রধান শিক্ষক) থাকলে স্কুল ধ্বংস হইয়া যাইবে। মো¯তফা স্যার আমাগো পোলাপানরে আদর করে পড়ান। আমরা মোস্তফা মাস্টার রে চাই ।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার মুনমুন-কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্কুলের গাছ বিক্রি করে ৯০০০ টাকা পেয়েছি সে টাকা ঘর তৈরিতে খরচ হয়েছে। লেট্রিন বিক্রি করার ব্যাপারে তিনি বলেন আমি অত্র প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পূর্বে এলজিইডি থেকে ২০,০০০/- টাকা লেট্রিন সংস্কারের জন্য দেওয়া হয়েছিল। প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক নিজ পকেট থেকে খরচ করে লেট্রিন সংস্কার করেছিল। পরবর্তীতে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষককে উক্ত টাকা উত্তোলন করে ফেরত দিয়েছি। এগুলো নিয়ম মেনে করা হয়েছে। আমি বেঞ্চের কোন স্ট্রাকচার পাইনি। এছাড়া বিদ্যালয়ের স্লিপ, রুটিন মেইন্টেনেন্স, টি এল এম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য খাতের বরাদ্দ দিয়ে এডিপিও স্যারের মৌখিক নির্দেশনায় স্কুল ঘর তৈরি করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রুহুল আমিন বলেন, গাছ বিক্রি এবং লেট্রিন বিক্রির অনুমতি দেওয়া তো দূরের কথা আমি এ বিষয়ে অবগতও নই। স্লিপসহ ও অন্যান্য খাতের বরাদ্ধ দিয়ে ঘর নির্মাণ করার বিধান নাই।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT