রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১০:৩৮ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ চরফ্যাসনে গৃহবধুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, থানায় সমঝোতা ◈ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা একজন শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী ◈ উলিপুরে গুনাইগাছে ১১৫ জন দুস্থ নারীর মাঝে ফুট প্যাকেজ বিতরণ ◈ নীলফামারীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারী বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ◈ হাজার বছর নয়-সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান —পুলিশ সুপার, নওগাঁ ◈ লালমনিরহাটে বার্তা বাজার এর ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ◈ রূপগঞ্জে জালিয়াতি করে কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা ◈ কুড়িগ্রামে বিআরটিসি বাস ও প্রাইভেটকার মুখোমুখি সংঘর্ষে  নিহত ৪ ◈ সিরাজগঞ্জে অটোরিকশা চালককে শ্বাসরোধ করে হত্যা ◈ পত্নীতলায় ফেন্সিডিল ও মটরসাইকেলসহ ১ যুবক আটক

বন্যায় বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা

প্রকাশিত : ০৫:১৫ PM, ২৭ জুলাই ২০২০ Monday ৪৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

টানা বন্যায় ভেঙে পড়েছে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানির চাপে ধসে গেছে অনেক এলাকার রাস্তা। ব্রিজ-কালভার্টের সংযোগ সড়ক ধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন। পানির তোড়ে ভেঙে গেছে অনেক এলাকার শহর রক্ষাবাঁধ। কোথাও সড়কের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে হাঁটুপানি। দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকায় উঠে গেছে সড়কের বিটুমিন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বন্যাদুর্গতদের মাঝে সঠিকভাবে পৌঁছানো যাচ্ছে না ত্রাণ। এতে বন্যাদুর্গতদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন। এদিকে এখনো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় অধিকাংশ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সকালের তথ্যমতে, ১০১টি পর্যবেক্ষণাধীন পানিসমতল স্টেশনের ৪৪টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৮টি নদ-নদীর পানি ২৮টি স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজকের মধ্যে মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, ঢাকা, সিরাজগঞ্জ এবং টাঙ্গাইল জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। স্থিতিশীল থাকতে পারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নাটোর, বগুড়া, জামালপুর এবং নওগাঁ জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি। ব্রহ্মপুত্র ও আপার মেঘনা অববাহিকার নদীসমূহের পানি কমতে থাকলেও বৃদ্ধি পাচ্ছে যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা ও ঢাকা জেলার আশপাশের নদ-নদীর পানি। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য-
শরীয়তপুর : বন্যায় জেলার ছয়টি উপজেলার মধ্যে পাঁচটি উপজেলার অন্তত ৪০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী তিন লক্ষাধিক মানুষ। শরীয়তপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক ও শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কোরবানির পশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে মানুষ। জেলার বেশির ভাগ গ্রামের সড়কগুলো তলিয়ে গেছে। ফলে মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কের ১৩টি স্থান তলিয়ে আছে হাঁটুপানিতে। পানির তোড়ে তিনটি স্থান ভেঙে গেছে। এতে গত পাঁচ দিন ধরে ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কে জেলার ও দূরপাল্লার সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
রাজবাড়ী : বন্যায় রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের সোনামাতুব্বরপাড়া হতে পৌরসভার নগররায়েরপাড়া সড়ক, কালুখালী উপজেলার রতনদীয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রাম হতে হিরুমোল্লার ঘাটসড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া গোয়ালন্দ উপজেলার বেশ কয়েকটি ছোট ছোট সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। এতে ফেরি পারাপার বিঘ্নিত হচ্ছে। ফেরিঘাটে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ হয়েছে যানবাহনের সারি। র‌্যাকার দিয়ে উঁচু করে ছয়টির মধ্যে চারটি ঘাট সচল রাখার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকি নিয়ে ফেরিতে ওঠানামা করছে যানবাহন।
মাদারীপুর : বন্যার কারণে ভেঙে গেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট। দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। মাদারীপুরের শিবচরের রাস্তাঘাট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও মাদারীপুর সদর, কালকিনি ও রাজৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ২০টি গ্রামীণ রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কালকিনিতে দেখা গেছে, পৌরসভার লক্ষ্মীপুর-পখিরা পাকা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ওই সড়ক দিয়ে আশপাশের পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দারা যাতায়াত করত।
সুনামগঞ্জ : এক মাসের ব্যবধানে সুনামগঞ্জে তিন দফা বন্যায় ক্ষত-বিক্ষত জেলার সড়ক যোগাযোগ। সুনামগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেন, বন্যায় আমাদের ৬০০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুই দফা বন্যার ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করেছি। তৃতীয় দফার ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। সব মিলিয়ে আমাদের ৪০০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বন্যায়। এদিকে বন্যায় ক্ষত-বিক্ষত সড়কের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে সড়কগুলো দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষ। অনেক সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্যমতে, বন্যায় সদর-ডলুরা, সদর-তাহিরপুর, সদর-জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ-ছাতক, জামালগঞ্জ-সেলিমগঞ্জ, দিরাই-শাল্লা সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে গেছে। এ পাড়ে যানবাহন রেখে ভাঙা স্থানগুলো নৌকায় পার হয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাতায়াতকারীরা। সুনামগঞ্জ-ছাতক সড়কের নোয়াগাঁও এলাকায় পানির তোড়ে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে সড়কের একাংশ। ৪০টি সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে গেছে।
লালমনিরহাট : দফায় দফায় বন্যায় লালমনিরহাটের বিভিন্ন নদীর উপকূল ও চরাঞ্চলের রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অধিকাংশ সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসছে ভাঙাচোরা ক্ষত-বিক্ষত সড়ক। জেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, মোগলহাট, গড্ডিমারী, সানিয়াজান, সিন্দুনা, পাটিকাপাড়া, রাজপুর, সিঙ্গিমারী, ডাউয়াবাড়ি, দহগ্রাম, মহিষখোচা ও ভোটমারী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের অধিকাংশ রাস্তাই ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত লালমনিরহাট জেলার ৫ উপজেলার প্রায় আড়াই কিলোমিটার পাকা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ আলী বলেন, পাঁচ উপজেলার ১১ কিলোমিটার পাকা সড়ক, ৩৯ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যা চলমান থাকায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
রংপুর : বন্যায় রংপুরের ৪ উপজেলায় ২৫ কিলোমিটারের মতো সড়কের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, তারাগঞ্জ ও পীরগাছার কোথাও কোথাও বাঁধের পাশাপাশি ব্রিজ-কালভার্টের সংযোগ সড়ক ধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। গঙ্গাচড়ায় তিস্তার বন্যা প্রটেকশন ওয়ালের তিনটি অংশে প্রায় ১৩০ মিটার অংশ ধসে পড়েছে। সেখানকার আলমবিদিতর ইউনিয়নের পাইকান আকবরিয়া ইউসুফিয়া ডিগ্রি মাদ্রাসার সামনে তিস্তার স্রোতে ধসে পড়েছে ৬০ মিটার বন্যা প্রটেকশন ওয়াল। ওই ইউনিয়নের গাটুপাড়ায় ৪০ মিটার ও বৈরাতি এলাকায় ৩০ মিটার এলাকার বন্যা প্রটেকশন ওয়ালের সিসি ব্লক ধসে গেছে। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় গজঘণ্টা ইউনিয়নের ছালাপাক থেকে গাউছিয়া বাজার এবং পূর্ব রমাকান্ত থেকে গাউছিয়া বাজার যাওয়ার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। গঙ্গাচড়ায় তিনটি ব্রিজের সংযোগ সড়ক ধসে গেছে। এতে করে দুটি ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। রুদ্রেশ্বর এলাকায় ব্রিজের সংযোগ সড়কের ৪০ ফুট ধসে যাওয়ায় লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের পূর্ব ইচলী, পশ্চিম ইচলীসহ পাঁচ গ্রামের হাজারো মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের চকতাহিরা-দর্জিপাড়া সড়কে ব্রিজ দেবে গিয়ে প্রায় ২০ ফুট সড়ক ভেঙে গেছে। এতে করে ১০টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT