রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৯:২১ পূর্বাহ্ণ

বঙ্গোপসাগরে নিহত ১৫ জনের বেশিরভাগই রোহিঙ্গা নারী

প্রকাশিত : ০৬:১১ PM, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২০ Tuesday ৮৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে মালয়েশিয়াগামী যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবিতে নিহত ১৫ জনের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা নারী। এ ঘটনায় ৭৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী। যাত্রীদের মধ্যে ৪০ জনের মতো এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দালাল ধরে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টার পথে রোহিঙ্গাদের ওই ট্রলারটি মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে দিকে সেন্টমার্টিন থেকে ১০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে দুর্ঘটনায় পড়ে।

কোস্টগার্ড সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা যাত্রীদের বেশির ভাগই নারী। তারা কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কোস্টগার্ডের ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম হামিদুল ইসলাম পূর্বপশ্চিমকে জানান, রোহিঙ্গাদের একটি বড় দল অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার আশায় সোমবার রাত ৮টার দিকে টেকনাফের নোয়াখালীপাড়া থেকে মাছ ধরার দুটি ট্রলারে চেপে রওনা হয়। এর মধ্যে একটি ট্রলার সাগরের পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ভোর পৌনে ৬টার দিকে সাগরে দুর্ঘটনায় পড়ে ডুবতে শুরু করলে জেলারা তা দেখে কোস্ট গার্ডকে খবর দেয়। তিনটি স্টেশন থেকে কোস্ট গার্ড সদস্যরা গিয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তাদের সঙ্গে অভিযানে যোগ দেয় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি জাহাজ বিএনএস দুর্জয়।

উদ্ধার হওয়া কয়েকজন রোহিঙ্গার বরাত দিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপের কোস্টগার্ডের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট নাইম উল হক বলেন, দালালদের মাধ্যমে তারা উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির থেকে বের হয়ে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু, বাকিরা নারী।

উদ্ধার করা কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, দালালদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষেরা উখিয়া-টেকনাফের শরণার্থীশিবির থেকে বের হয়ে তারা মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন।

নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেও বুক চাপড়ে আহাজারি করছেন ২৫ বছর বয়সী রোহিঙ্গা নারী রমিজা বেগম। তার পরিবারের ৪ সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাসকারী রমিজা জানান, মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশে তিনি এবং তার ভাই, বোন ও ভাগনিসহ পরিবারের ৭ জন ওই ট্রলারে উঠেছিলেন। কিন্তু ট্রলার ছাড়ার কিছুক্ষণ পরই সেটি ডুবে যায়। এরপর কোস্টগার্ড সদস্যরা তাকে ও তার ২ ভাইকে উদ্ধার করলেও বাকিদের খোঁজ নেই।

কোস্টগার্ডের তিনটি দল, সেন্টমার্টিন বোট মালিক সমিতি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ (বিজিবি) বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করে। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেছেন, মরদেহগুলো সকাল সাড়ে ১০টায় টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জেটিতে নিয়ে আসা হয়েছে ট্রলারে করে।

এদিকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করা আরেকটি ট্রলারেরও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, রাতের কোনো এক সময়ে ট্রলারটি মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য রওনা হয়েছিল। সম্ভবত অতিরিক্ত মানুষ বোঝাইয়ের কারণে সেটি সাগরে ডুবে যায়। এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধারকৃতদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন বিস্তারিত জানা যাবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT