রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৫:১৫ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নাটোরের লালপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত ◈ নাটোরে এমপির নির্দেশে নলডাঙ্গা পৌরসভার রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু ◈ নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক শিক্ষককে কারাদণ্ড দিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ◈ শুভ্র’র খুনীদের ফাঁসির দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের মানববন্ধন ◈ ধর্ষণ মামলার আসামী শরীফকে সাথে নিয়ে পুলিশের অস্ত্র উদ্ধার ◈ টঙ্গীবাড়িতে মা ইলিশ ধরার অপরাধে ৯ জেলেকে কারাদণ্ড ১জনকে অর্থদণ্ড ◈ ধামইরহাটে প্রতিহিংসার বিষে মরলো ১৫ লাখ টাকার মাছ, আটক-২ ◈ হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী কুপি বাতি ◈ ভালুকায় কোটি টাকা মুল্যের বনভুমি দখল রহস্যজনক কারনে নিরব বনবিভাগ ◈ নেয়াখালীতে ছেলের পরিকল্পনাতেই মাকে পাঁচ টুকরো

বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বিশাল নির্মাণযজ্ঞ

প্রকাশিত : ০৩:৪২ PM, ৭ অক্টোবর ২০২০ Wednesday ৩৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দেশি-বিদেশি বড় বিনিয়োগকারীর নির্মাণযজ্ঞে মুখর বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর। ৩০ হাজার একর জায়গায় গড়ে ওঠা এ নগরে এরই মধ্যে প্রায় শেষ হয়েছে দেড়শ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ। আর করোনাকালেও বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা স্বাভাবিক সময়েও যেখানে ৫ থেকে ৭ ফুট গভীর পানিতে ডুবে থাকত যে অঞ্চল, এখন সেখানেই তোড়জোড় চলছে শিল্প নির্মাণের। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এশিয়ার পেইন্টস এরই মধ্যে শেষ করেছে কাজের বড় অংশ। চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে সমুদ্র্রকে বশে এনে গড়ে তোলা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর। সংযোগ সড়ক থেকে শুরু করে সেবা সংস্থাগুলোও তাদের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে ৩০ হাজার একরের বিশাল জায়গায়। এরই মধ্যে প্রায় শেষ হয়ে গেছে দেড়শ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বৈত জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণও।

২০৩০ সাল নাগাদ সারা দেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের। যার মধ্যে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও জোরালো গতিতে কাজ চলছে জামালপুর, শ্রীহট্টসহ আরো কয়েকটির। গেল ১০০ বছরের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে শিল্পনগর সুরক্ষায়, একদিকে নির্মাণ করা হচ্ছে সাড়ে ৯ মিটার উচ্চতার ২৩ কিলোমিটার ডাইক। সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে নিজস্ব বন্দর সমুদ্র নির্মাণেও। পরিকল্পনায় আছে, চট্টগ্রাম বিমান ও নৌবন্দরের সঙ্গে সংযোগ সড়ক তৈরির।

শিল্পায়নের মাধ্যমে দ্রুত উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনে কাজ করছে সরকার। ২০১৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এটি বাস্তবায়নে খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে ৪ হাজার ৩৫৬ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার মধ্যে সরকার দেবে ৩৮৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা ঋণ। বিশ্বব্যাংক ঋণ হিসেবে দেবে ৩ হাজার ৯৬৯ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। প্রকল্পটি যাচাই-বাছাই ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে গেছে। প্রকল্পটির ওপর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়েছে।

সভায় পরিকল্পনা কমিশন মতামতে বলেছে, এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়নি। প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা-সংক্রান্ত প্রদেয় তথ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর’-এর ওপর প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান, যা ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর অনুমোদিত হয়েছে, সেটি রেফার করা হয়েছে। পরিকল্পনা বিভাগ থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবরে জারি করা পরিপত্র ৪.১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৫ কোটি টাকার ওপর প্রাক্কলিত ব্যয়সম্পন্ন সব বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণের আগে আবশ্যিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাংকের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণের এ প্রকল্প সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া গ্রহণ করা আইনসম্মত নয় বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।

পাশাপাশি পিইসি সভায় এও বলা হয়েছে, সরকার থেকে ১ শতাংশ সুদে ৩৮৬ দশমিক ২৭ কোটি ঋণগ্রহণের বিষয়ে আগেই অর্থ বিভাগের সম্মতি গ্রহণ করা আবশ্যক।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের বিএসএমএসএন-২ জোনকে অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশীয় বিনিয়োগ ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণ, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পণ্য বহুমুখীকরণের মাধ্যমে রফতানি আয় বৃদ্ধি ও সর্বোপরি মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচন সহায়ক হবে।

প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বেজা সূত্র বলছে, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্পায়ন করে দ্রুত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্থানে ২০১৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ১৬ বছরে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনে কাজ করছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন-২০১০ অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বেজার গভর্নিং বোর্ডের প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক, চট্টগ্রামের মীরসরাই ও সীতাকুন্ড উপজেলা এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার একর জমিজুড়ে দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ চলমান। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে পরে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর’ হিসেবে নামকরণ করা হয়। এ শিল্পনগরের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক ২০১৪ সাল থেকে বেজাকে সহযোগিতা করে আসছে। এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের ৪৬৭ দশমিক শূন্য ৫ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৯৬৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ঋণসহায়তায় ‘প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল এন্টাপ্রেনিউরশিপ (প্রাইড) ফর বেজা প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আরো কিছু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যেমন জোনের অভ্যন্তরে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনবিশিষ্ট সড়ক, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিরাপত্তাবেষ্টনী, প্রশাসনিক ভবন, সিইটিপি, ডিজেলাইজেশন প্লান্ট, স্টিম নেটওয়ার্ক, সলিড ওয়াস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্ট, বায়োগ্যাস প্লান্ট, ওয়াস্ট সরটিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল রিকোভারি, রুফটপ এবং ফ্ল্যাটিং সোলার ভৌত অবকাঠামো স্থাপনের মাধ্যমে বিএসএমএসএন-২ কে একটি গ্রিন ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে এটিকে অধিকতর আকর্ষণীয় হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT