রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৩:০৮ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ পাওয়া যাচ্ছে সালাহ উদ্দিন মাহমুদের চতুর্থ গল্পগ্রন্থ ◈ আ’লীগ নেতা সৈয়দ মাসুদুল হক টুকুর পিতার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ◈ ঘাটাইল আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ◈ শীতার্তদের মুখে হাসি ফোটালেন সিদ্ধিরগঞ্জ মানব কল্যাণ সংস্থা ◈ হরিরামপুরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে বন্ধে স্ত্রীর অনশন ◈ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব-দুঃখীদের পাশে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান… ◈ কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর করোনা এক্সপার্ট টিমের কম্বল বিতরণ ◈ পেইড পিয়ার ভলান্টিয়ারদের চাকরী স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন ◈ ফুলবাড়ীতে শীতার্তাদের মাঝে ডিয়ার এক্স টিমের শীতবস্ত্র বিতরণ ◈ রানীরবন্দর রুপালী ব্যাংক লিঃ ব্যবস্থাপকের বিদায় ও বরণ

প্লাস্টিকে ডুবছে কুটির শিল্প, ভালো নেই কারিগররা

প্রকাশিত : ০২:৪১ PM, ৪ জানুয়ারী ২০২২ মঙ্গলবার ৭২ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

কেউ তৈরি করছেন চাটাই, কেউ ডালা, কেউ কুলা আবার কেউ বানাচ্ছেন চালন কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। তাদের ক্লান্তি নেই। বিভিন্ন আকার ও শৈলীতে তৈরি হচ্ছে এসব পণ্য। নীলফামারীর ডোমারের বড়রাউতা দেবীরডাঙ্গা নামক গ্রামটিতেই বাঁশশিল্পীদের বসবাস। যুগ যুগ ধরে এই গ্রামের পরিবারগুলোর নারী-পুরুষ বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য তৈরিতে পারদর্শী।

বাঁশের সঙ্গে এ গ্রামের মানুষের নাড়ির সম্পর্ক। কিন্তু এই মানুষগুলোর ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে বাঁশ শিল্পের তৈরি বিভিন্ন জিনিসের জায়গা দখল করেছে স্বল্প দামের প্লাস্টিক ও লোহার তৈরি পণ্য। এজন্য বাজারে বাঁশের তৈরি আসবাবপত্রের চাহিদা না থাকায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ শিল্প। ফলে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন এই মানুষগুলো।

নীলফামারী জেলাশহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে ডোমার উপজেলার বড়রাউতা গ্রাম। সেখানেই দেবীরডাঙ্গা নামক ছোট একটি এলাকাজুড়ে গুটি কয়েক মানুষ ঐতিহ্য ধরে জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাঁশ শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। বাড়ির উঠানে কিংবা বাড়ির ওপর দিয়ে চলে যাওয়া মেঠোপথ অথবা বাড়ির পাশে ফাঁকা জায়গায় বসে বাঁশ দিয়ে নানা পণ্য তৈরি করছেন গ্রামের মানুষ।
বিভিন্ন পণ্য তৈরির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বাঁশের উপকরণ

একাধিক বাসিন্দা জানালেন, সকাল থেকে শুরু হয় বাঁশ কাটা, চাছা, চাটাই বাঁধা, শুকানো ও বিভিন্ন ধরনের উপকরণ তৈরির কাজ। সংসারের কাজ শেষে নারীরাও বসেন বাঁশের কাজে। সাধ্যমতো সহযোগিতা করে ছেলে-মেয়েরাও। আগে যে বাঁশ ২০ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যেত সেই বাঁশ বর্তমান বাজারে কিনতে হচ্ছে ২০০ থেকে আড়াই শ টাকায়। কিন্তু পণ্যের মূল্য বাড়েনি।
দা দিয়ে এক বৃদ্ধ কাটছে বাঁশ

এত কিছুর পরও তারা তাদের এই পূর্ব পুরুষদের কুটির শিল্পের পেশা আঁকড়ে ধরেই কম বেশি যা আয়-রোজগার করছেন তার মাধ্যমে পরিবারসহ টিকে আছেন তারা। তাদের অধিকাংশ পরিবারেরই মাঠে আর কোনো চাষযোগ্য জমি নেই। বসতভিটার মাত্র দু-এক কাঠা জমি যেন তাদের শেষসম্বল।
বাড়ির উঠানে বসে কাজ করছেন এক কারিগর

বাড়ির উঠানে বসে কাজ করছিলেন কারিগর বিনোনাদ দাস। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘এটা হামার বাপ-দাদার পেশা তাই আঁকড়ি ধরি আছি। ছাওয়াগুলা এখন আর এ পেশায় কাজ করবের চায় না। এতে পরিশ্রম বেশি, লাভ এখনা কম।’

কারিগর পলাশ দাস জানান, ‘এই গ্রামের হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার আজও এ কাজে নিয়োজিত আছে। একটি বাঁশ থেকে ১০-১২টি ডালি তৈরি হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি পণ্য থেকে ১০-২০ টাকা করে লাভ থাকে। তাই এই সীমিত লাভ দিয়ে পরিবার চালান কষ্টের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
বাঁশের সামগ্রী তৈরিতে কাটা হচ্ছে বাঁশ

নারী কারিগর শিমুল রানী দাস ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘হামার জমিজমা নাই, এই কাজই হামার কৃষি। মৌসুম আসলে কিছু কাজ করি চলা যায়, কিন্তু সারাবছর ধার-দেনা করি চলার লাগে।’

মানবী দাস নামের আরেক কারিগর ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘ধার-দেনা ও বিভিন্ন সমিতি থেকে বেশি লাভ দিয়ে টাকা নিয়ে কোনোরকমে টিকি আছি হামরা। হামাক যদি সরকারিভাবে অল্প লাভে ঋণ দেওয়া হয় তাহলে এই কাজ করি হামরা বাঁচমো।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT