রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৯ মে ২০২০, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৪:৩১ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ শাহজাদপুরে প্রথম ১জন করোনা রোগী সনাক্ত ◈ ঝড়ে পড়া ঘর নির্মাণে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন ছাতকের দিন মজুর মহিম উদ্দিন’র ◈ বাঁশখালীর চাম্বল এলাকায় হাতির আক্রমণে এক আমবাগান মালিকের মৃত্যু ◈ চট্টগ্রামে মোট ৪৫৭ টি নমুনা পরীক্ষা করে আরও ২২৯ জন করোনা পজেটিভ  ◈ পত্নীতলায়  ঘাতক ট্রাকে কেড়ে নিল  আপন দু ভাইয়ের  প্রাণ! ◈ নীলফামারিতে এক গৃহবধুর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার ◈ নীলফামারিতে র‌্যাব ক্যাম্পে ১০ জন করোনা সনাক্ত ◈ মনিরামপুরে ঝড়ে ঘর ভেঙে গেছে, ভ্যান চালক মুস্তাক মোড়লের ◈ কোটচাঁদপুরে পানির নিচে ৬টি অসহায় পরিবার বন্দি- প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ◈ কালিহাতীতে নতুন করে আরো দুইজন করোনায় আক্রান্ত! মোট আক্রান্ত ৯

প্রাণঘাতি করোনা: মুকুটের পরাজয়

প্রকাশিত : ১০:২০ AM, ৮ এপ্রিল ২০২০ Wednesday ৯৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

সঞ্জিত চন্দ্র পণ্ডিত
মুকুট শব্দটি আভিজাত্যের প্রতিক। এটি পরিধান করতে সবাই চায়। আর রাজ মুকুট যদি হয় তাহলে সবারই একটা অদম্য ইচ্ছা থাকে এটিকে অর্জন করার। তবে এই ক্ষণে মুকুটের ল্যাটিন প্রতিশব্দ করোনা বিশ্বের কোন মানুষই পরিধান করতে চায় না। কেননা এটি এখন একটি মৃত্যুদূত যা ৭৫ সহস্র মানুষকে পরপারে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই ভাইরাসের আবরণ থেকে গদা-আকৃতির প্রোটিনের কাঁটাগুলির কারণে এটিকে অনেকটা মুকুট বা সৌর করোনার মত দেখায়। ভাইরাসের উপরিভাগ প্রোটিন সমৃদ্ধ থাকে এবং এই প্রোটিন সংক্রমিত হওয়া টিস্যু বিনষ্ট করে। ভাইরাসটি ডাইমরফিজম রূপ প্রকাশ করে। ধারণা করা হয়, প্রাণীর দেহ থেকে এই ভাইরাস প্রথম মানবদেহে প্রবেশ করে।
করোনা ভাইরাস রাইবোভিরিয়া পর্বের নিদু ভাইরাস বর্গের করোনা ভিরিডি গোত্রের অর্থো করোনাভিরিন্যা উপ-গোত্রের সদস্য। তারা পজিটিভ সেন্স একক সূত্রবিশিষ্ট আবরণীবদ্ধ বা এনভেলপড ভাইরাস। তাদের নিউক্লিওক্যাপসিড সর্পিলাকৃতির। এর জিনোমের আকার সাধারণত ২৭ থেকে ৩৪ কিলো বেস-পেয়ার (kilo base-pair) এর মধ্যে হয়ে থাকে। যা এ ধরণের আরএনএ ভাইরাসের মধ্যে সর্ববৃহৎ।
করোনাভাইরাস ১৯৬০-এর দশকে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। প্রথমদিকে মুরগির মধ্যে সংক্রামক ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস হিসেবে এটি প্রথম দেখা যায়। পরে সাধারণ সর্দি-হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এরকম দুই ধরণের ভাইরাস পাওয়া যায়। মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাস দুটি ‘মনুষ্য করোনাভাইরাস ২২৯ই’ এবং ‘মনুষ্য করোনাভাইরাস ওসি৪৩’ নামে নামকরণ করা হয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় ভাইরাসটির আরো বেশ কিছু প্রজাতি পাওয়া যায়; যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০০৩ সালে ‘এসএআরএস-সিওভি’, ২০০৪ সালে ‘এইচসিওভি এনএল৬৩’, ২০০৫ সালে ‘এইচকেইউ১’, ২০১২ সালে ‘এমইআরএস-সিওভি’ এবং সর্বশেষ ২০১৯ সাল চীনে সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম করোনাভাইরাস ২(এসএআরএস-সিওভি-২)’ পাওয়া যায় (যা বর্তমানে সাধারণত নোভেল করোনাভাইরাস নামেই পরিচিত। যা মানুষের মধ্যে ক্রমাগত ছড়ায় এবং বিশ্বজুড়ে প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুদের শ্বসনতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো অবসাদ, শুষ্ক কাশি, বমি হওয়া, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা, অঙ্গ বিকল হওয়া, মাথা ব্যথা, পেটের সমস্যা, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে উপরোক্ত সকল উপসর্গ দেখা গেলেও জ্বর থাকে না।
করোনা ভাইরাস বা এই ভাইরাস জনিত রোগ কোভিড-১৯ প্রেক্ষাপট বাংলাদেশঃ
গত কয়েকদিনের করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় এক অজানা শঙ্কা মনে দানা বাঁধতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে আক্রান্তের সংখ্যার প্রবৃদ্ধির গড় প্রায় ১.৭২ %। যদি ১.৫% প্রবৃদ্ধি ধরেও বিবেচনা করি, তাহলে আগামী ২০ দিন পরে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বহুগুণে।
তারিখ আক্রান্তের সংখ্যা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি আক্রান্তের সংখ্যা প্রবৃদ্ধির হার: ০৩/০৪/২০২০- ৬১ ৯ ১.৮, ০৪/০৪/২০২০- ৭০ ১৮ ২%, ০৫/০৪/২০২০- ১২৩ ৩৫ ১.৯৪%, ০৬/০৪/২০২০- ১৬৪ ৪১ ১.১৭।
প্রবৃদ্ধির এই হার বিশ্লেষণ, ঘনত্বে বিচারে পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ ও অসচেতনতার কারণে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকবে। করোনা বিস্তার রোধকল্পে সবচেয়ে জরুরি হলো সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা। আর এই দূরত্ব বজায় রাখা আমাদের জন্য খুবই দূরহ। এই রোগ বিস্তার রোধে আরেকটি গুরূত্বপূর্ণ বিষয় হলো হ্ইাজিন মেইনটেন করা। যা আমাদের প্রাত্যহিক অভ্যাসের মধ্যে পড়ে না। এছাড়া আমাদের মানসিক বৈশিষ্ট্য হলো, আমরা কোন সিরিয়াস বিষয়কে নানা দৃষ্টিকোনে (যেমন ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনৈতিক ইত্যাদি) বিভাজিত করি। ফলে মূল সমস্যায় পৌঁছাতে আমাদের বিলম্ব হয়ে যায় এবং আমরা প্রতিনিয়ত কঠিন চ্যলেঞ্জের মুখে পতিত হই।
দেশের নাম মোট জনসংখ্যা (কোটি) জনসংখ্যার ঘনত্ব/কি:মি: বয়স্ক জনসংখ্যার হার ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের মোট সংখ্যা (কোটি) প্রতি ১০০০ জনে ডাক্তার সংখ্যা।
ইতালি ৬.৪৮ ২০৬ ২১ ১.৩৬ ৫৮.৩
স্পেন ৪.৭০ ৯৪ ১৮ ০.৮৪ ৪.০৬
যুক্তরাষ্ট্র ৩২.৯২ ৩৬ ১৩ ৪.২৭ ২৯.৫
বাংলাদেশ ১৬.৪৭ ১২৬৫ ৬.২৩ ১.০২ ০.৬
বহুবিধ আলোচনা হয়েছে যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আমরা করোনাকে তাপ অসহযোগী হিসেবে কল্পনা করছি, আমরা করোনাকে অপেক্ষাকৃত বয়স্কদের ঘাতক হিসেবে ইতালি, স্পেন ও আমেরিকার উদাহরণ দেখিয়েছি। এ কথা সত্য যে, করোনা বয়স্কদের বা যাদের ইমিউনিটি ব্যবস্থা দুর্বল তাদের জন্য মৃত্যুদূত। যেহেতু আমাদের বয়স্ক জনসংখ্যার হার আমেরিকা বা ইউরোপ এর তুলনায় নিম্ন; তাই আমাদের জনগণের উপর কম প্রভাব পড়বে। কিন্তু সংখ্যার বিচারে আমাদের প্রায় কোটি লোকের উপরে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ইউরোপ বা আমেরিকার মত কোভিড রোগটি মহামারি আকার ধারণ করলে আমাদের পর্যাপ্ত মেডিকেল সুবিধাও নাই। শুধু তাই নয় সরকারি বেসরকারি ফিজিসিয়ান মিলে প্রতি ১০০০ জনে মাত্র রয়েছেন ০.৬ জন। অন্যদিকে ইতালিতে ১০০০ জনে ৫৮ জন থাকার পরেও রোধ করা যাচ্ছেনা মৃত্যুকে। উপরন্তু আমাদের দেশে বেসরকারি রেজি: ডাক্তারগণ ইতোমধ্যে নিজদেরকে গুটিয়ে নিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে আসছে। এহেন পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থকর্মীসহ বিদ্যানন্দের মত বহু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যক্তি সম্মিলিতভাবে আশু সমস্যা মোকাবেলার জন্য রাতদিন কাজ করে যাচ্ছে।
সমস্যা সমাধানে সর্বপ্রথম যে কাজটি করতে হবে সেটি হলো আক্রান্ত ব্যক্তিদের আলাদা করা সেই লক্ষ্যে সরকার গত ২৫/০৩/২০২০ তারিখ থেকে সারাদেশ লকডাউন করা হয়। কিন্তু আমরা এর গুরুত্ব অনুধাবনে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছি। যার কারণে আমরা লকডাউনের আওতা বাড়িয়েছি। আগামী ১৫ -২০ দিন আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এখন যদি আমরা ব্যর্থ হই তবে এর দায়ভার আমাদের পুরো দেশকে বহন করতে হবে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে।
প্রতিটি প্রাণ এর একটি পরিসমাপ্তি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই অবারিত সত্যকে ধরে নিয়েই লক্ষ লক্ষ বছর ধরে পৃথিবীতে প্রাণের বিস্তার বা অবলোপন ঘটে চলেছে। মানবকূলের অবলোপনের সময় কি এখনই ? না কি আমাদের কর্মকান্ডই আমাদেরকে পৃথিবী থেকে সময়ের পূর্বই নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হচ্ছে।
মুকুটের পরাজয় দেখে যেতে পারব কিনা জানি না। কিন্তু বাঙালি সবসময়ই জয়ী হয়ে এসেছে। এখনও সময় শেষ হয়ে যায়নি। আশাকরি ঘোর অমানিশা কেটে যাবে। হয়ত মুকুটের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নতুবা মুকুট বিনাশকারী তরবারীর মাধ্যমে। যেহেতু বিনাশকারী তরবারী আসতে আরও ১৪-১৮ মাস লেগে যাবে তাই আসুন ততদিন পর্যন্ত এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করি, সব ধরণের সামাজিক আচার থেকে বিরত থাকি, সবাই ঘরে থেকে এর বিস্তার রোধ করি। ( লেখক: ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল, ডাক অধিদপ্তর, ঢাকা-১০০০)

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT