রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৯ মে ২০২০, ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৪:৫২ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ শাহজাদপুরে প্রথম ১জন করোনা রোগী সনাক্ত ◈ ঝড়ে পড়া ঘর নির্মাণে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন ছাতকের দিন মজুর মহিম উদ্দিন’র ◈ বাঁশখালীর চাম্বল এলাকায় হাতির আক্রমণে এক আমবাগান মালিকের মৃত্যু ◈ চট্টগ্রামে মোট ৪৫৭ টি নমুনা পরীক্ষা করে আরও ২২৯ জন করোনা পজেটিভ  ◈ পত্নীতলায়  ঘাতক ট্রাকে কেড়ে নিল  আপন দু ভাইয়ের  প্রাণ! ◈ নীলফামারিতে এক গৃহবধুর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার ◈ নীলফামারিতে র‌্যাব ক্যাম্পে ১০ জন করোনা সনাক্ত ◈ মনিরামপুরে ঝড়ে ঘর ভেঙে গেছে, ভ্যান চালক মুস্তাক মোড়লের ◈ কোটচাঁদপুরে পানির নিচে ৬টি অসহায় পরিবার বন্দি- প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ◈ কালিহাতীতে নতুন করে আরো দুইজন করোনায় আক্রান্ত! মোট আক্রান্ত ৯

প্রবল গতিতে এগোচ্ছে আম্ফান

প্রকাশিত : ১২:৪২ AM, ২০ মে ২০২০ Wednesday ৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

করোনা মহামারির মধ্যেই আরেক দুর্যোগের মুখোমুখি দেশ। ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন আম্ফান। ঘূর্ণিঝড়টি খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে গতকাল শেষরাতে আঘাত হেনে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়ের সময় ৫ থেকে ১০ ফুট অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য আঘাত থেকে রক্ষা করতে উপকূলীয় জেলার ২১ লাখেরও বেশি মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার তৎপরতা শুরু হয় মঙ্গলবার থেকেই। প্রলয়ঙ্করী সিডরের চেয়ে বেশি শক্তি নিয়ে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা আম্ফান আতঙ্কে সময় কাটছে উপকূলীয় জেলার লাখ লাখ বাসিন্দা।

বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় ও অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ১০ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে। বর্তমানে সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের নিকট সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
এদিকে, উপকূলীয় জেলার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে ১২ হাজারেরও বেশি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে ২১ লাখেরও বেশি মানুষকে নেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল থেকেই মানুষজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আশ্রয় কেন্দ্রে সাধারণ মানুষকে রাখা হবে বলে ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুপার সাইক্লোন ‘আম্ফান’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি গতকাল ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯৫কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরো উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে ১৯শে মে শেষরাত হতে ২০শে মে বিকেল/ সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে জানান, ‘বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’ প্রবল গতি সঞ্চার করে সুন্দরবন উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। মঙ্গলবার শেষ রাত থেকে বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূল অতিক্রম করতে পারে।’ মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (নৌ) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের মোংলায় কোনো প্রভাব নেই। তবে মোংলা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বন্দরে ১১টি জাহাজ নোঙর করে রাখা হয়েছে। পণ্যবোঝাই খালাস বন্ধ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় উপকূলীয় তিন জেলা খুলনায় ৩৬১টি, বাগেরহাটে ৩৩৪টি ও সাতক্ষীরা জেলায় ৪৪৭টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে তিন জেলা প্রশাসন থেকে জানা গেছে। খুলনা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ মো. আমিরুল আজাদ বলেন, পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুপার সাইক্লোন আম্ফানের কোনো প্রভাব নেই খুলনাঞ্চলে। তবে আকাশে কিছু মেঘ জমেছে। বুধবার আম্ফানের প্রভাব পড়বে এ অঞ্চলে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এদিকে উপকূলের উপজেলাসমূহের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিং চলছে। খুলনা সিভিল সার্জন অফিস ৯টি উপজেলায় ১১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে।
খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জানিয়েছেন, সুপার সাইক্লোন আম্ফানে জান মালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে খুলনায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে ইফতার ও সেহরির ব্যবস্থা থাকবে। সাইক্লোন প্রিপার্ডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি) এর দুই হাজার ৪৬০ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার এক হাজার ১০০ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। সে কারণে উপকূলীয় কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা ও বটিয়াঘাটা উপজেলার সব স্কুল-কলেজকে সাইক্লোন শেল্টার হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর চাবি সংগ্রহ করে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের কাছে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক জোয়ার্দার জানান, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে খুলনার ৩৬১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় উপজেলা দাকোপের ১০৮টি, কয়রার ১১৬টি, পাইকগাছার ৪৫টি ও বটিয়াঘাটার ২৩টিসহ ২৯২টি আশ্রয়কেন্দ্রকে আগেভাগেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ৮০০ কিলোমিটারের মধ্যে এলেই জনসাধারণকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতি এড়াতে কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও বটিয়াঘাটাসহ বিভিন্ন উপজেলায় রেডক্রিসেন্ট, সিপিপিসহ দুই হাজার ৪৬০ জন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। এছাড়া বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) আরো এক হাজার ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন। পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনে উপকূলবাসীকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা কাজ করছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT