রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০২:২৪ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ ঘাটাইল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে ওসির মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ◈ শরীয়তপুরে সাংবাদিক নেতা পারভেজ এর উপর হামলা,নিন্দা জানিয়েছে ডামুড্যা প্রেসক্লাব ◈ কালিহাতীতে যাত্রীবাহি বাস নিয়ন্ত্রণ হা‌রিয়ে খা‌দে! নিহত এক ◈ করিমগঞ্জ থানার (ওসি) মমিনুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ (ওসি) নির্বাচিত ◈ ভূঞাপুরে চার মোটরসাইকেল চালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা ◈ কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নার্সদের অবহেলায় ২ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ◈ চিরিরবন্দরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ ◈ শাহজাদপুর উপজেলা পরিষদের বেসিনে নেই সাবান-পানি, এক বছরেই ব্যবহার অনুপযোগী ◈ ফুলবাড়ীয়ায় হাত ভাঙা বৃদ্ধা ও হাসপাতাল শয্যায় অসহায় রোগীকে অর্থ সহায়তা প্রদান ◈ আড়িয়াল বিলে অস্থায়ী হাঁসের খামার

প্রধান বিচারপতির এজলাসে যা ঘটলো

প্রকাশিত : ০৭:৩৭ PM, ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার ২৭৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি পেছানোকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতির এজলাসে হট্টগোল করে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ সময় তারা কখনও নাচের ভঙ্গিতে, কখনও শরীর ঝাঁকিয়ে, আবার কখনও টেবিল চাপড়াতে চাপড়াতে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিতে থাকে। এরমধ্যেই আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে নানা কথা বলে ওঠেন। তাদের একজন হঠাৎ বলে ওঠেন ‘প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ চাই’। পরনে কালো কোটের সঙ্গে জজ কোর্টের আইনজীবীদের প্রতীক কালো টাই পরা ( সাধারণত সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর আইনজীবীরা কালো টাই ছেড়ে সাদা ব্যান্ড পরেন) এক যুবক চেঁচিয়ে বলে ওঠেন ‘আমার ফাঁসি দিন’।

তবে প্রধান বিচারপতির এজলাসে অবস্থান করে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিয়ে দীর্ঘ সময় হট্টগোল করে বিএনপিপন্থির আইনজীবীরা। আইনজীবীদের এই হট্টগোলের মধ্যে এজলাসে বিচারকের আসনে বসে থাকেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় বিচারপতি।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চে খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির কথা ছিল। তারই অংশ হিসেবে সকাল ৯টার দিকে বিচারকরা এজলাসে ওঠেন। তার আগেই প্রায় তিন শতাধিক আইনজীবী কালো পোশাকে এজলাসে এসে শুনানির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

খালেদা জিয়ার মামলা কজলিস্টের ৭ নম্বরে থাকায় আগের মামলাগুলো শুনানি করতে থাকেন আপিল বিভাগ। একে একে কজলিস্টের ৬টি শুনানি শেষে বেলা ১০টার কিছু আগে আসে খালেদা জিয়ার মামলার শুনানি।

শুনানি শুরুতেই অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদালতকে বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত মেডিকেল রিপোর্ট হাসপাতাল থেকে আসেনি। তাই আদালতের কাছে সময় চাচ্ছি।

এ পর্যায়ে খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, আমাদের কাছে আগের একটি রিপোর্ট আছে। শুনানি হতে পারে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ওই রিপোর্ট আমাদের দেয়া হয়নি। তখন জয়নুল আবেদীন বলেন, গতকাল (বুধবার) প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খালেদা জিয়া কারাগারে রাজকীয় হালে আছেন। সঙ্গে সঙ্গে আদালতে হইচই শুরু করেন বিএনপিপন্থিরা। তখন আদালতে উপস্থিত থাকা আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা বলেন, এটা পল্টন ময়দান না।

এজলাসে আইনজীবীদের হট্টগোলের মধ্যেই খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি পিছিয়ে ১২ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) নির্ধারণ করে আদালত। এর আগেই ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

আদালতের আদেশের পর আইনজীবীদের হট্টগোল বেড়ে যায়। একপর্যায়ে এজলাস থেকে নেমে যান বিচারকরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আবার এজলাসে ফিরে আসেন তারা। এজলাসে এসে পরবর্তী একটি মামলার শুনানি করার সময়ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হট্টগোল চলতে থাকে।

আইনজীবীরা হাতে তালি দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা শুধু ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে চলে তাদের এই স্লোগান। তাদের স্লোগানের মধ্যে বিচারকের আসনেই বসে থাকেন প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারক।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির অংশ হিসেবে গত ২৮ নভেম্বর তার সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা সম্পর্কে জানাতে চান আদালত। এ জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করে বোর্ডের প্রতিবেদন ৫ ডিসেম্বরের (আজ) মধ্যে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেন।

গত বছরের ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের দেয়া রায়ে খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এই সাজা বাতিল চেয়ে গত বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া।

শুনানি নিয়ে গত ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট ওই আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতে দেয়া জরিমানার আদেশ স্থগিত করে বিচারিক আদালতে থাকা মামলাটির নথি তলব করেন হাইকোর্ট। গত ২০ জুন মামলার নথি হাইকোর্টে আসার পর খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আদালতে তুলে ধরেন তার আইনজীবীরা।

৩১ জুলাই (বুধবার) জামিন আবেদন খারিজ করেন হাইকোর্ট। পরে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আপিল বিভাগে যান।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT