রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ১৭ মে ২০২১, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৩:২৮ অপরাহ্ণ

প্রথম পছন্দে নেই সরকারি বিদ্যালয়

প্রকাশিত : ০৬:০৪ AM, ২১ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার ২১২ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তির মৌসুম নভেম্বর ও ডিসেম্বর। নতুন বছরে সন্তানকে বিদ্যালয়ে পাঠানোর দীর্ঘ প্রস্তুতি নেন অভিভাবকরা। মানসম্পন্ন পাঠদান আর পরিবেশ খুঁজতে গিয়ে ভালো স্কুলে ভর্তির বিড়ম্বনায় পড়েন তারা। শিক্ষার্থী ভর্তিতে কিছু বেসরকারি স্কুল অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করতে পারলেও পিছিয়ে আছে সরকারি স্কুল।

২০২০ নতুন শিক্ষাবর্ষে সরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির ফরম বিতরণ শুরু ১ ডিসেম্বর। প্রথম শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তিচ্ছু নির্বাচন করা হবে। দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। শিগগির প্রকাশ করা হবে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি। তবে বিছিন্নভাবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ শুরু করেছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মান্নান আমাদের সময়কে জানান, ১ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ভর্তির আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। এর পর ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে প্রথম শ্রেণির লটারির ড্র। অনলাইনে আবেদন ফি ধরা হয়েছে ১৭০ টাকা। গত বছরের মতো এবারও রাজধানীর সরকারি স্কুলগুলোয় তিনটি গুচ্ছভাগে ১৮, ১৯ ও ২০ ডিসেম্বর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভর্তির মৌসুমে অভিভাবকদের অনেকটা নির্ঘুম রাত কাটে। দিনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিংয়ে ছোটাছুটি। রাতে বাসায় পড়ানো। এমন চাপে পিষ্ট কোমলমতি শিশুরা। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় বেড়ে যাচ্ছে শিক্ষা বাণিজ্য। বাড়ছে ধনী-গরিবের লেখাপড়ায় বৈষম্য। অধিকতর শিক্ষাব্যয় বহনে পিছিয়ে আছে মধ্য-নিম্নবিত্ত আয়ের অভিভাবকরা। সন্তানকে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে শিশুর বয়স বাড়িয়ে দেওয়া বা নতুন জন্মসনদ নিয়ে বয়স কমিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। কেউ পছন্দের স্কুলে ভর্তি নিশ্চিত না করতে পেরে পরের বছরের জন্য অপেক্ষা করছেন।

গতকাল বুধবার রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, বেসরকারি স্কুলে লেখাপড়া নিয়ে যতটা কড়াকড়ি থাকে, ততটা ঢিলেঢালা লেখাপড়া চলে সরকারি স্কুলে। এ কারণে অভিভাবকদের অনেকেই সরকারি স্কুল আস্থায় নিতে পারেন না। অনেকেই বেসরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে বিকল্প হিসেবে বেছে নেন সরকারি স্কুল।

তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নন সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, নামিদামি স্কুলে সন্তান লেখাপড়া করলে সামাজিক মর্যাদা বাড়ে এমন ধারণা থেকেই অভিভাবকরা সরকারি স্কুলবিমুখ।

তেজগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ে ছেলেকে ভর্তির জন্য আবেদন করতে চান অভিভাবক আনিছুর রহমান। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ছেলের জন্য মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল থেকেও ফরম নেবেন। কোনো কারণে ওখানে ভর্তির সুযোগ না হলে সরকারি স্কুলে পড়াবেন। আরেক অভিভাবক কান্তা খানম বলেন, সরকারি স্কুলে ঠিকমতো লেখাপড়া হয় না। শিক্ষক থাকে না। বাচ্চাদের জন্য নেই কড়া শাসন। সরকারি বলে শিক্ষকদের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার ফল নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। তাই বাধ্য হয়েই বেসরকারি ভালো স্কুলে দৌড়াতে হয়। নামিদামি স্কুলে সন্তাদের লেখাপড়া কী সামাজিক মর্যাদা বাড়ে? এমন প্রশ্নে এ অভিভাবক বলেন, সবাই তো স্ট্যাটাসের জন্য যায় না, ভালো লেখাপড়া হয় এ জন্য বেসরকারি স্কুল পছন্দ। রাজধানীর সরকারি ভালো স্কুলগুলোর অন্যতম মতিঝিল বালক উচ্চবিদ্যালয়। এখানে সন্তানকে ভর্তির আবেদন করবেন একজন সরকারি চাকরিজীবী। তিনিও মতিঝিল আইডিয়াল থেকে ফরম নেবেন।

মতিঝিল বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মনে করেন, নামিদামি বেসরকারি স্কুলে সন্তান পড়ালেখা করলে অভিভাবকরা গর্বিত বোধ করেন। ফল ভালো হলেও সরকারি স্কুলে আসতে চায় না। তারা বলেন, যখন কেউ বেসরকারি স্কুলে সুযোগ পায় না, তখন সরকারি স্কুলে আসে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুলে ভর্তির জন্য সন্তানের নতুন জন্মসনদ নিয়ে অনলাইনে আবেদন করছেন কোন কোন অভিভাবক। মগবাজার ওয়্যারলেস গেট এলাকার একটি কম্পিউটারের দোকানে দেখা যায় অনলাইনে আবেদনকারীদের ভিড়। একজন অভিভাবক জানান, বাচ্চারা একটু আপডেট না হলে ভর্তি করানো কষ্ট হয়। এ জন্য বিভিন্ন জায়গায় কোচিং বা এক-দুই বছর লেখাপড়া করে ক্লাস ওয়ানে ভর্তির আবেদন করছেন। এ ক্ষেত্রে তারা শিশুর বয়স কমিয়ে নিচ্ছেন নতুন জন্মসনদ।

কেন আস্থার জায়গায় নেই সরকারি স্কুল? জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, সব সরকারি স্কুলে লেখাপড়া খারাপ হয়- এমন অভিযোগ সঠিক নয়। অনেক সরকারি স্কুল, বিশেষ করে জেলা সদর এবং রাজধানীর কয়েকটি স্কুলে ভর্তিতে অনেক প্রতিযোগিতা হয়। শিক্ষক সংকটের অভিযোগ কিছুটা সত্য। কারণ দীর্ঘদিন নিয়োগ বন্ধ আছে।

শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও থাকবে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ। এটি অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত ব্যয়ে হতে হবে। কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বাণিজ্যকরণ বেড়ে যাচ্ছে। ধনী-গরিবের লেখাপড়ায় বাড়ছে বৈষম্য। অধিকতর শিক্ষাব্যয় বহনে পিছিয়ে যাচ্ছে মধ্য-নিম্নবিত্ত আয়ের অভিভাবকরা।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ঢাকা মহানগরীতে ৩টি ফিডার শাখাসহ ৩৮টি সরকারি এবং ৪৫৬টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে মাত্র এক হাজার ৬৮০টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। অন্যান্য শ্রেণিতে ১০ হাজার ২৩৭টি আসন রয়েছে। তবে বেসরকারি স্কুলে ভর্তিযোগ্য আসনের পরিসংখ্যান নেই অধিদপ্তরে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT