রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০১:১৮ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ ধামইরহাটে সোনার বাংলা সংগীত নিকেতনের বার্ষিক বনভোজন ◈ ধামইরহাটে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ◈ পত্নীতলায় করোনা সচেতনতায় নারীদের পাশে তথ্য আপা ◈ ফুলবাড়ীয়া ২ টাকার খাবার ও মাস্ক বিতরণ ◈ কাতারে ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের দোয়া মাহফিল ◈ হাসিবুর রহমান স্বপন এমপির রোগ মুক্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত ◈ দৈনিক আলোকিত সকালের ষ্টাফ রিপোর্টার আশাহীদ আলী আশার ৪৩তম জন্মদিন পালিত ◈ সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফুটবলার রফিকুল ইসলাম স্মরণে দোয়া ও মিলাদ আজ ◈ লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ও‌সির পুরস্কার পে‌লেন ও‌সি আবদুল জ‌লিল ◈ কাতার সেনাবাহিনীর বিপক্ষে বাংলাদেশের পরাজয়

প্রতারণার ফাঁদ ॥ অনলাইনে ডলার বেচাকেনা

প্রকাশিত : ০৭:১৪ AM, ৩ নভেম্বর ২০১৯ Sunday ২২৭ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

‘পেপাল’, ‘ওয়েবমানি’, ‘মানিবুকারস’সহ যে কোন অনলাইন এ্যাকাউন্টের জন্য ডলার কিনুন মাত্র ৭৪ টাকায়। লোভনীয় বিজ্ঞাপন। অতঃপর সেখানে দেয়া মোবাইল নম্বরে ফোন। আলাপচারিতা। ডলার অনুযায়ী টাকা প্রদান। এরপর ডলার তো দূরের কথা মোবাইল ফোনই বন্ধ। বন্ধ ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ। এ যেন প্রতারণার নতুন ফাঁদ ‘অনলাইনে ডলার বেচাকেনা’। অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে ডলার কেনার এই ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন অনেকেই। অপরদিকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অন্তত শতাধিক ওয়েবসাইটে চলছে এমন অভিনব প্রতারণা। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ডলার কেনাবেচা ও অনলাইন পেমেন্টের জন্য পাঁচ শতাধিক গ্রুপ ও পেজে চলছে প্রতারণা। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, দেশে অনলাইনে ডলার কেনা বেচার কোন অনুমতি নেই। এটি পুরোপুরি জালিয়াতি। পুলিশ বলছে, অধিকাংশ প্রতারক ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে ক্রেডিট কার্ড ও বিভিন্ন অনলাইন এ্যাকাউন্টের ইলেক্ট্রিক ট্রানজেকশনের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করে থাকে।

জানা গেছে, একসময় ডোল্যান্সার, ফ্রিল্যান্সার, পে টু ইউ ক্লিক, স্কাই ওয়াকার প্রভৃতি নামে ওয়েবসাইট খুলে শুধু ক্লিক করেই উপার্জন করুন এমন বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করা হতো তথ্যপ্রযুক্তির বাজারে অবদান রাখা বাংলাদেশী তরুণ ফ্রিল্যান্সারদের। ক্লিকের বিনিময়ে ডলার আয় এমনকি ওয়েব পেজের সদস্য হওয়ার জন্য চাঁদা নিয়ে পরে কোন ধরনের অর্থ দেয়া হতো না। ওই চক্রের সদস্যরাই প্রতারণার নতুন কৌশল হিসেবে অনলাইনে ডলার বেচাকেনা করছে। কিন্তু অনলাইনে ডলার বেচাকেনার কোন বৈধ অনুমতি নেই বাংলাদেশে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, এ পর্যন্ত কোন প্রতিষ্ঠানকেই অনলাইনে ডলার কেনা-বেচার অনুমতি দেয়া হয়নি। এ ধরনের লাইসেন্স পাওয়ার কথা যারা দাবি করেন, তারা একশ’ ভাগ জালিয়াত। তিনি ব্যাংক এবং অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা কেনা-বেচা দন্ডনীয় অপরাধ বলেও জানান। তিনি আরও জানান, সুনির্দিষ্ট ঠিকানার অফিস ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানকে মানি এক্সচেঞ্জের অনুমোদনও দেয়া হয় না।

জনকণ্ঠের নিজস্ব অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অনলাইনে ডলার বেচাকেনার চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ‘বাংলাদেশ ভার্চুয়াল ডলার মার্কেট’ নামে একটি ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায় কোন ধরনের অফিস বা ঠিকানা ব্যবহার করা হয়নি ওয়েব সাইটটিতে। ডলার কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে যোগাযোগ অপশনে বার্তা দিতেই উত্তর আসে কত ডলার কিনতে চাই। গ্রাহক সেজে অফিসের ঠিকানা জানতে চাইলে গত সপ্তাহের তিন দিনে একাধিকবার বার্তা দেয়া হলেও কোন জবাব দেয়নি সংশ্লিষ্ট কেউ। তবে ‘ভার্চুয়াল ডলার ক্রয়-বিক্রয়’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ঘেটে খুঁজে পাওয়া গেল ‘বাংলাদেশ ভার্চুয়াল ডলার মার্কেট’ নামে একটি পোস্ট। ডলার কেনা-বেচার ওই পোস্ট দেন মাসুদ আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। যিনি নিজেকে পেজটির এডমিন দাবি করেন। নাম্বার চাইলে ০১৮৩৬১৯৭৭০৭ নম্বরটি ম্যাসেঞ্জারে পাঠান মাসুদ আহমেদ। তিনি জানালেন, তাদের অফিস উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে। গত সোমবার উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে গিয়ে মাসুদ আহমেদকে ফোন দিলে তিনি জানান, তিনি ঢাকার বাইরে আছেন। অফিসের ঠিকানা চাইলে তিনি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে মুঠোফোনেই তাদের কর্মকান্ড নিয়ে কথা হয়। মাসুদ জনকণ্ঠকে জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজিস্ট্রেশন সনদ নিয়ে অনলাইনে ডলার বেচাকেনা করছেন তারা। কি ধরনের সনদ নম্বর আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিবিএফই-৭৮৫৫৬৫৬ নম্বর সনদ নিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। জানালেন, তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স আছে। জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে রেজিস্ট্রেশন সনদও নেয়া আছে। মাসুদ জানালেন, তাদের ডলার বেচাকেনার লেনদেন হয় মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের মাধ্যমে।

মাসুদের মাধ্যমে অনলাইনে ডলার কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এমন কয়েকজনকে খুঁজে পাওয়া গেল ‘বিডি অনলাইন ডলার বাই-সেল’ ফেসবুক পেজে। তাদেরই একজন তানভীর আহমেদ। জানালেন, ডলার রেটও তুলনামূলকভাবে খুবই সস্তা থাকায় কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। নিউজিল্যান্ড পড়তে যাওয়ার জন্য অনলাইনে পেমেন্টের উপায় খুঁজে না পেয়ে যোগাযোগ করেন দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ওয়েব লিমিটেডের সিইও পরিচয়ধারী মাসুদ আহমেদের সঙ্গে। ১৩৫ ডলার সমপরিমাণ টাকা বিকাশের মাধ্যমে দেয়ার পর ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দেন মাসুদ। পরবর্তীতে চেক করে দেখতে পান ওয়েবসাইটটির কোন কোম্পানি জয়েন্ট স্টকে রেজিস্ট্রেশনই নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যও ভুয়া। একাধিক ভুয়া ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ নিয়ন্ত্রণ করেন মাসুদ। তানভীরের মতো অসংখ্য লোক নিয়মিত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এই চক্রের হাতে। তাদেরই একজন মনিরুজ্জামান। ব্যক্তিগত ডোমেইন হোস্টিং ব্যবসার জন্য কিছু ডলার প্রয়োজন ছিল তার পেপাল এ্যাকাউন্টের জন্য। এজন্য গুগলে সার্চ দিয়ে দেখেন কারা ডলার বিক্রয় করছে। এভাবে পেয়েও যান একটি ওয়েবসাইটের খোঁজ। মোবাইলে পরিচয়ের পর স্কাইপিতে কথোপকথন। আলোচনার পর ডলার বিক্রেতার বিকাশ নম্বরে টাকাও পাঠিয়ে দেন মনিরুজ্জামান। এরপর শুধুই অপেক্ষা। মনিরুজ্জামান জনকণ্ঠকে বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর ডলার বিক্রেতা ফোন করে বলল এই মুহূর্তে ৫০ ডলারের নিচে পাঠানো যাচ্ছে না। আপনি ইচ্ছে করলে টাকাটা ফেরত নিতে পারেন। এরপর টাকা ফেরত চাইলাম।’ ওই বিক্রেতাও জানালেন, ‘কিছুক্ষণের মধ্যে আপনার নম্বরে টাকা ফেরত যাচ্ছে। এবারে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা। ফোন, এসএমএস কিছুই বাদ রইল না। বুঝতে পারলাম ফাঁদে পা দিয়েছি। তবে, ভুয়া ফেসবুক আইডি ও জালিয়াতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও এসব প্রতারক থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অন্তত শতাধিক ওয়েবসাইটে চলছে এমন অভিনব প্রতারণা। ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে অনলাইন ডলার মার্কেট বিডি, বাংলাদেশ ভার্চুয়াল ডলার মার্কেট, বাই অর সেল ডলার, ভার্চুয়াল ডলার ক্রয়-বিক্রয়, অনলাইন ডলার মার্কেট, ফরেক্স-বাংলা ডটকম, ইজি পেইড বিটি ডটকম, পেমেন্ট সলিউশনবিডি, বিডি ওয়ালেট টেক্স, পেইড বিডি ডটকম, নেটলার ডটকম, ওকেমানি ডটকম। শুধু ওয়েবসাইটে নয়, ফেসবুকেও এই চক্র সমান সক্রিয়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ডলার কেনা-বেচা এবং অনলাইন পেমেন্টের জন্য পাঁচ শতাধিক গ্রুপ ও পেইজে চলছে প্রতারণা। এছাড়া ফেসবুক পেজভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে রয়েছে সেল বাই ডলার, সলিড লেনদেন, ট্রাস্টেড ডলার বাই এ্যান্ড সেল, নেটেলার বাংলাদেশ, ডলার বাই-সেল বিডি, বিডি অনলাইন ডলার বাই-সেল, অনলাইন ডলার মার্কেট, ঢাকা অনলাইন ডলার মার্কেট, ডলার সেল বাজা নেটেলার-স্ক্রিল ডলার (বাই এ্যান্ড সেল), বাংলাদেশী ফরেক্স ট্রেডার, ফরেক্স ট্রেডিং ইন বাংলাদেশ, ফরেক্স বিডি।

অনলাইনে এসব প্রতারকের একেক জন অন্তত ১০/১৫টি ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলেন। এরপর বিক্রেতা সেজে গ্রুপে নিয়মিত পোস্ট দিতে থাকেন। কেউ ডলার কিনতে চাইলে তার সঙ্গে আলাপনের পর বিকাশে টাকা নিয়ে নেন। এরপর গায়েব হয়ে যায় ডলার বিক্রেতার নামে থাকা প্রতারক। নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় তার ভুয়া ফেসবুক আইডিও। এভাবে একের পর এক ভুয়া ফেসবুক আইডি দিয়ে ডলার বিক্রির নামে প্রতারণা চলতে থাকে। অনলাইনে ডলার কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন এমন কয়েকজন জানিয়েছেন তারা পুলিশে অভিযোগ করেও তেমন কোন প্রতিকার পাননি। মাহমুদুল ইসলাম নামে একজন জনকণ্ঠকে জানান, মাস তিনেক আগে তিনি অনলাইনে ডলার কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হন। তিনি বলেন, ডলার কেনাবেচার একটি গ্রুপে রানা নামে একজনের সঙ্গে ডলার কেনার বন্দোবস্ত করেন। রানা নারায়ণগঞ্জে থাকায় একদিন পরে তাদের ধানম-িতে দেখা করার কথা। পরদিন অবশ্য রানা না এসে তিনি তার এক প্রতিনিধিকে পাঠান। ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে বিকাশে টাকা লেনদেন করেন মাহমুদুল। এর কিছুক্ষণ পর অপেক্ষা করেও তিনি তার কাক্সিক্ষত ডলার পাননি। পরে জানতে পারেন যে ব্যক্তি তার কাছ থেকে বিকাশে টাকা নেন সে আসলে মূল প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত নন। তবে প্রতারক রানা বিক্রয়ডটকম থেকে একটি মুঠোফোন কিনে তার টাকা পরিশোধ করতে বেছে নেন ডলার বিক্রির ফন্দি। মুঠোফোনের বিক্রেতাকে পাঠান ডলার ক্রেতা মাহমুদুলের কাছে। আর ডলার না পেয়ে প্রতারণার শিকার হন মাহমুদুল ইসলাম। পরে মাহমুদুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় একটি অভিযোগ করলেও ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহারের কারণে প্রতারক রানাকে আটক করা যায়নি। তবে মাহমুদুল ইসলাম ছাড়াও রিয়াদ খান, প্রীতম বসাক ও সাব্বির আহমেদসহ অন্তত দশজন অনলাইনে ডলার কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জনকণ্ঠকে জানান। এদের প্রত্যেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার ডলার কিনতে গিয়ে প্রতারিত হন বলে জানান। এছাড়া ডলার এ্যাকাউন্টে পাঠানোর পর আবার উইথড্র করে নেয়া, এ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে টাকা না দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এদিকে ডলার কেনাবেচার এসব ফেসবুক গ্রুপে গিয়ে যে কারো চোখ কপালে ওঠার উপক্রম হবে। মাত্র ৫০ ডলারের বিনিময়ে এসব গ্রুপে পাওয়া যাচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্মার্টকার্ড। এক থেকে দুইশো টাকায় মিলছে ট্যাক্স আইডেনন্টিফিকেশন নম্বর বা টিন।

এছাড়া আউটসোর্সিং দুনিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের যত ধরনের ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয় নিমিষেই তা বানানো হয়। বিক্রি হয় টাকার বিনিময়ে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে টিন নম্বর কিংবা ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিদ্যুত বিলের কাগজ কিংবা অন্য কোন সনদ এসবই নকল বা জাল। মূলত পেমেন্ট গেটওয়ে এ্যাকাউন্টধারীদের একেক জনের নামে কয়েকটি আইডি থাকে। অধিক আয়ের জন্য তারা একাধিক ওয়েবসাইটে নিজের নামে আইডি খোলেন। পেইজা, পাইওনিয়ার, আপওয়ার্ক, স্ক্রিল, পেপ্যাল ও নেটেলারের মতো কাজের ক্ষেত্রগুলোতে এসব ডকুমেন্ট দেখানোর প্রয়োজন পড়ে। সেক্ষেত্রে অনেক প্রযুক্তিকর্মী ভুয়া বানানো এসব স্মার্টকার্ড ও ডকুমেন্ট দিয়ে এ্যাকাউন্ট খোলেন, নিজেদের কাজ চালান। তবে এসব ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ভার্চুয়াল দুনিয়ার বাইরেও নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ আছে বলে মনে করেন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী মেহরাব হোসেন রবিন। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, সেলফি এনআইডিসহ নানা ডকুমেন্ট ভার্চুয়াল জগতের জন্য ব্যবহার করেন আউটসোর্সিংরা। তবে গ্রাফিক্সে অভিনব পদ্ধতিতে বানানো এসব এনআইডি ও টিন দিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ার বাইরের মানুষ প্রতারিত হতে পারেন। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এদিকে নজর দেয়ার জোর তাগিদ দেন তিনি। এ ব্যাপারে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, অনলাইনে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচেয়ে বড় উপায় ব্যবহারকারীর নিজে সচেতন থাকা। আর সরকারের বড় দায়িত্ব হচ্ছে নিয়মিত প্রতারণা সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ রাখা এবং এ ব্যাপারে সব সময় সতর্কতামূলক প্রচার চালানো। প্রতারকরা কীভাবে প্রতারণা করছে সে সম্পর্কে সব সময় সাধারণ ব্যবহারকারীদের সচেতন রাখা হলে প্রতারণার ঘটনা অনেক কমে যাবে। পাশাপাশি আইনী ব্যবস্থাও নিতে হবে প্রতারকদের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানান, অনলাইনে ডলার বিনিময়কে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোন বৈধতা দেয়নি। তবে ভুক্তভোগী কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে আমরা ব্যবস্থা নেব। ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ডলার বেচাকেনা চক্রের কয়েকটি গ্রুপকে শনাক্ত করতে পেরেছি। ইতোমধ্যে কয়েকজকে আটকও করা হয়েছে। তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রতারক ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করে পাইওনিয়ার মাস্টার কার্ড ও বিভিন্ন অনলাইন এ্যাকাউন্টের ইলেকট্রিক ট্রানজেকশনের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করে থাকে। মুদ্রাপাচারকারীদের চাহিদা অনুসারে তাদের এ্যাকাউন্ট নম্বরে ট্রান্সফার করে বিদেশে অর্থপাচারের সুযোগ করে দিত। তিনি আরও বলেন, তবে তাদের অনলাইন এ্যাকাউন্ট এবং ক্রেডিট কার্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন ব্যাংকের হিসাব নম্বরের লিঙ্ক না থাকায় কী পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে সেই হিসাব কিছু জানা যায়নি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT