রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

পেঁয়াজ দেখলেই সবাই জিগায় দাম কত’

প্রকাশিত : 06:41 AM, 16 November 2019 Saturday ৩৮ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

পেঁয়াজের দাম যখন লাগামহীন তখন সেই আলোচনা আর ঘর কিংবা পথেঘাটে নেই। আলোচনা গিয়ে ঠেকেছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। পেঁয়াজ নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ চরম আকার ধারণ করেছে। ক্ষোভ-কটাক্ষের পাশাপাশি চলছে রসিকতাও।

ফেসবুকে পোস্ট হওয়া একটি ব্যঙ্গচিত্রে দেখা গেল, ড্রয়িংরুমে সাজানো রয়েছে পেঁয়াজ। আরেকটি ভিডিওতে বন্ধুর বিয়েতে পেঁয়াজ উপহার দেওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। পেঁয়াজ নিয়ে এমনই তপ্ত এখন সোশ্যাল মিডিয়া।

বাজারে পেঁয়াজের দাম লাফাতে লাফাতে এখন আড়াইশ’ টাকা হয়েছে। সাইফুর রহমান ফয়সাল নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, ‘ফেসবুকে ঢুকে দেখি পেঁয়াজ আর পেঁয়াজ, পেঁয়াজ ছাড়া কোনো নিউজ দেখি না।’ সালাউদ্দিন সুমন নামে এক টিভি সাংবাদিক লিখেছেন, ‘পেঁয়াজ নিয়ে হাহাকার এখন তামাশায় রূপ নিয়েছে। প্রতিবাদের শক্তি হারিয়ে ফেললে মগজে ভাঁড়ামি ভর করে।’

পেঁয়াজের দাম নিয়ে ক্ষোভ ঝরানো পোস্টই ফেসবুকে বেশি। শাহিদা আক্তার নামে একজন লিখেছেন, ‘এবার পেঁয়াজ বিক্রি করে অনেকেই কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু দেখার কেউ নাই।’

মোরশেদ খান নামে একজন পেঁয়াজ কিনে বাসায় ফেরার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন বন্ধুদের সঙ্গে। তিনি লিখেছেন, ‘বাজার থেকে যখন পেঁয়াজ ক্র?য় করে বাড়ি যাচ্ছি, তখন কোরবানির গরুর মতো করে দাম জিজ্ঞেস করছেন পথচারীরা। ভাই কত দিয়ে নিলেন? ভাবতে পারিনি পেঁয়াজ গরু হয়ে যাবে।’

একই রকম অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন কুমার দেবুল দে নামে একজন। তিনি লেখেন, ‘পলিথিনের স্বচ্ছ প্যকেটে হাতে নিয়ে হাঁটছিলাম, বলতে পারেন বুক উঁচু করেই হাঁটছিলাম। মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী লোক আমি, যে ২২০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ কিনে খায়। বাসায় আসার পথে রাস্তায় খুবই কম লোক ছিল যারা একনজর আমার পেঁয়াজের দিকে তাকায়নি বা একবার জিজ্ঞাসা করেনি- পেঁয়াজের দাম কত?’

এটিএম গোলাম সারোয়ার নামে একজন রসিকতা করে লিখেছেন, ‘কারও বাসায় বেড়াতে যাচ্ছেন? আপেল-মাল্টার বদলে নিন পেঁয়াজ!’ আহমেদ দীপ্ত নামে এক সাংবাদিক লিখেছেন, ‘পেঁয়াজ ছেড়ে আপেল খাই পেঁয়াজের ওপর চাপ কমাই।’

আবার কেউ কেউ পেঁয়াজ নিয়ে ছড়া-কবিতা লিখছেন। এনামুল হক নামে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার এক সাংবাদিক লিখেছেন, ‘কাটতে গিয়ে গিন্নি কাঁদে/কিনতে গিয়ে কর্তা/পেঁয়াজ ছাড়া রান্না চলুক/সবজি কিংবা ভর্তা।’

তবে ক্ষোভ আর রঙ্গরসের মাঝে অনেকেই দিচ্ছেন সচেতনতামূলক পোস্ট। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা রেহেনা বেগম বাসায় পেঁয়াজ ছাড়া রান্না করে সেই ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। সবার উদ্দেশে তিনি লিখেছেন, “সবাই পেঁয়াজের দাম নিয়ে হৈচৈ শুরু করে দিয়েছেন। যেসব জিনিসের দাম চড়া মাত্রায় বেড়ে যাবে সেসব জিনিস একদম কিনবেন না। বাজারে যাবেন সব কিছু কিনবেন কিন্তু পেঁয়াজ কিনবেন না। যদি একটি বাজার হতে স্লোগান তোলা যায় ‘দামি জিনিস কিনব না, টাকা নষ্ট করব না’। হাজারো জনগণ যদি এই কাজটি করে, দেখবেন পেঁয়াজওয়ালা গালে হাত দিয়ে বসে থাকবে। আমি পেঁয়াজ ছাড়া রান্না করেছি, আপনি/আপনারাও শুরু করে দেন। হোক প্রতিবাদ এভাবেই।”

পেঁয়াজের বাজারের ঊর্ধ্বমুখিতার প্রতিবাদ জানাতে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সাজ্জাদুল ইসলাম। বইয়ের ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত এই শিক্ষার্থী পাঠকরা বই কিনলে প্রতিটি বইয়ের সঙ্গে প্রতিবাদ হিসেবে একটি করে পেঁয়াজ ফ্রি দেবেন বলে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ভোলগা থেকে গঙ্গা, দাম ২০০ টাকা মাত্র। সাথে বড় একটা পেঁয়াজ ফ্রি… পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে মিশোপার পক্ষ থেকে প্রতিবাদ হিসেবে আমরা প্রতি বইয়ের সাথে একটা করে পেঁয়াজ ফ্রি দিবো।’

শুধু ফেসবক নয়, ইউটিউব ও টুইটারও পেঁয়াজের ঝাঁজে তপ্ত। ইউটিউবাররা পেঁয়াজ নিয়ে নানা রকম ভিডিও তৈরি করছেন। সেসব ভিডিওর ভিউও হচ্ছে প্রচুর। সব মিলিয়ে পেঁয়াজের ঝাঁজে সোশ্যাল মিডিয়া এখন গরম।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT