রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৪:০৬ পূর্বাহ্ণ

পেঁয়াজের দাম পাইকারিতে কমলেও খুচরায় বেশি

প্রকাশিত : ০৬:৩৯ AM, ৪ অক্টোবর ২০১৯ Friday ২১৭ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

মিয়ানমার ও মিসরের পেঁয়াজ দেশে আসার কারণে পাইকারি বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা এখনো বাড়তি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।

এদিকে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত কক্সবাজার, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নাটোর ও ঝালকাঠিতে ২৩ ব্যবসায়ীকে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

পেঁয়াজ মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুর মো. মাহবুবুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি, নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের খবরে বিস্তারিত :

গতকাল রাজধানীর পেঁয়াজের পাইকারি আড়ত শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭৫-৮০ টাকায়। দুই দিন আগেও যা ছিল ১০৫ টাকা। আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০-৭৫ টাকা, মিয়ানমার ও তুরস্কের পেঁয়াজ ৬৮-৭২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৯০-১১০ টাকা, বিভিন্ন দেশ থেকে আনা পেঁয়াজ ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। অর্থাৎ পাইকারি ও খুচরায় প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজে দামের পার্থক্য ১৫-৩০ টাকা। আমদানি করা পেঁয়াজে পাইকারি ও খুচরায় দামের পার্থক্য ২০-২৫ টাকা। অথচ স্বাভাবিক সময়ে পাইকারি ও খুচরায় দামের এই পার্থক্য পাঁচ-আট টাকা থাকে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এই খবরে রাতারাতি খুচরা ও পাইকারি বাজারে হু হু করে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। পরদিন সব ধরনের পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ১০৫ টাকা এবং খুচরা বাজারে ১৩০ টাকায় ওঠে।

কারওয়ান বাজার পেঁয়াজের আড়তদার মো. সাগর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিয়ানমার ও তুরস্কের পেঁয়াজ আসায় দাম কমেছে। সামনে আরো কমবে।’

ফার্মগেট তেজগাঁও কলেজের সামনের কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেল, কোনো দোকানে দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকা আবার কোনো দোকানে ১১০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করছে ৯০-১০০ টাকায়। এমন চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর আরো কয়েকটি বাজারে।

চট্টগ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সুফল : পেঁয়াজের আড়তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সুফল মিলতে শুরু করেছে। গতকাল দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি আড়ত খাতুনগঞ্জ ও চাক্তাইয়ের অন্তত ৭০টি আড়তে বাজার তদারকি করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে কাউকেই জরিমানা করেননি ম্যাজিস্ট্রেট। কিন্তু মূল্যতালিকা এবং পণ্য কেনার রসিদ ও বিক্রির রসিদ যাচাই করে দেখেছেন। এতেই বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

আড়তে মিয়ানমারের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৮ টাকা এবং ভারতের পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মিসরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। অথচ গত রবিবার থেকেই আড়তে পেঁয়াজের কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অভিযানের পর কেজিতে কমেছে ৩৫ টাকা।

অভিযান পরিচালনাকারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত দুই দিনে আমরা চাইছি কঠোর না হয়ে বুঝিয়ে-শুনিয়ে বাজার স্থিতিশীল করতে। এর পরও না হলে কঠোর হব।’

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মারকো ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার আকরামুল হক ভুঁইয়া জানান, গত সোম ও মঙ্গলবার দুই দিনে মিয়ানমার ও মিসর থেকে আনা ১১ কনটেইনার পেঁয়াজ বন্দর থেকে ছাড় করা হয়েছে; যেখানে ৩২৪ টন পেঁয়াজ ছিল। এ ছাড়া মিয়ানমার ও মিসর থেকে আরো ৮৮ টন বন্দরে এসেছে। আজ শুক্রবার বন্দর থেকে সেগুলো ছাড় করা হবে।

মিয়ানমার থেকে প্রতিদিনই আসছে পেঁয়াজ : মিয়ানমার থেকে প্রতিদিন পেঁয়াজবোঝাই ট্রলার আসছে টেকনাফ স্থলবন্দরে। টেকনাফ স্থলবন্দর শুল্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের প্রথম তিন দিনেই মিয়ানমার থেকে এক হাজার ৮০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। বন্দরে আরো প্রায় ৬০০ টন পেঁয়াজবোঝাই ট্রলার নোঙর করা রয়েছে। এ ছাড়া আরো ১৪টি পেঁয়াজবোঝাই ট্রলার টেকনাফ বন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

কেজিতে ১৫ টাকা মুনাফা করায় লাখ টাকা জরিমানা : কক্সাবাজারে ভারতের পেঁয়াজ ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার অঙ্গীকার করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু গতকাল শহরের বড় বাজারের ইসমাইল ট্রেডার্স এক ক্রেতার কাছে ৮৫ টাকা করে দুই কেজি বিক্রি করে। সে সময় বাজার পরিদর্শন করছিলেন জেলা প্রশাসক। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তিনি বাজার ঘুরে ভারতের পেঁয়াজ ৭০ ও মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি নির্ধারণ করে দেন।

জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিন দিন আগে জেলা বাজার মনিটরিং কমিটির সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী ও দোকানিরাই প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা করে বিক্রি করার অঙ্গীকার করেছিলেন। অথচ আজ (গতকাল) আমি বাজার পরিদর্শনে গিয়ে দেখি তাঁরাই বেশি দামে বিক্রি করছেন।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT