রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২০, ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৭:৪৬ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ রায়পুরে উপ-নির্বাচনে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম ◈ গৌরীপুরে কলতাপাড়া শুভ্র হত্যায় বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন ◈ গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইভাই নিহত ◈ রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক এর অধ্যক্ষের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করলেন কারিগরি শিক্ষার ফেরিওয়ালা তৌহিদ ◈ নাটোরে সুগার মিল শ্রমিকদের কাফনের কাপড় বেঁধে অবস্থান ◈ নওগাঁয় সাংবাদিক পাভেলের পিতার রুহের মাগফেরাতে দোয়া মাহফিল ◈ ধামইরহাটে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ্য পরিবারকে পূনর্বাসন করলেন ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান ◈ নাটোরে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক ১ জন জেল হাজতে ◈ পরিসংখ্যানের প্রয়োগ অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করবে: রাষ্ট্রপতি ◈ করোনায় প্রধানমন্ত্রী সকল সেক্টরকেই সহায়তা করছেন: তোফায়েল

পাহাড়ধস রোধে নীতিমালা হচ্ছে

প্রকাশিত : ০৬:৩৮ AM, ২ অক্টোবর ২০১৯ Wednesday ১০৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দেশের পাহাড়ি এলাকাগুলো সবসময় ঝুঁকিপূর্ণ। জীবন ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করছে বহু মানুষ। মাঝে মধ্যে পাহাড়ধসসহ প্রাকৃতিক না কারণে হতাহত হয়ার ঘটনাও ঘটছে। এমতাবস্থায় পাহাড়ধস মোকাবিলা ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জাতীয় পাহাড় ব্যবস্থা নীতিমালার করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এশিয়া মহাদেশের পাহাড় অধ্যুষিত কয়েকটি দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পাহাড়ধস মোকাবিলা একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ে বসবাস নিরুৎসাহিত করতেও বেশকিছু পদক্ষেপের কথা ভাবছে সরকার।

এরমধ্যে পাহাড়ে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বিচ্ছিন্ন করার মধ্য দিয়ে তাদের অন্যত্র বসতি গড়ার বিষয়ে মানসিক চাপে রাখার চিন্তা রয়েছে সরকারে। মন্ত্রিপরিষদ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে। গত ২৫ আগস্ট সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আয়োজনে ‘পাহাড় ধসের কারণ অনুসন্ধান ও করণীয়’ শীর্ষক একটি সভা হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শফিউল আলম সভাপতিত্বে সভায় পরিবেশ ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়, পাবর্ত চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পাহাড় ধসের কারণ ও করণীয় নিয়ে একটি কি-নোট উপস্থাপন করেন। আলোচনায় অংশ নেয়া কর্মকর্তারা পাহাড়ধস ঠেকানো এবং ধস পরবর্তী করণীয় নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও মতামত তুলে ধরেন। সভায় পরিবেশ ও জলবায়ু সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরীকে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটির সদস্য সচিব করা হয় পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ কে এম রফিক আহাম্মদকে। কর্মশালায় অংশ নেয়া মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সদস্য করা হয়। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, কমিটির প্রতিবেদন পেলেই পাহাড়ধসে করণীয় ঠিক করে তা বাস্তবায়নে যাওয়া হবে। তিনি বলেন, পাহাড়ধস মোকাবিলায় প্রশাসনকে অনেক সময় আইনগত জটিলতা, কখনো সমন্বয়হীনতা পড়তে হয়। একটি নীতিমালা থাকলে তা দূর হবে। এ ছাড়া আইনগত অন্যান্য বিষয়গুলো অধিকতর পর্যালোচনা করে আশু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কী করা যায় তাও প্রতিবেদনে আনতে বলা হয়েছে।

কমিটির সদস্য সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম রফিক আহম্মদ বলেন, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। তালিকা পাওয়ার পরপরই আমরা পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে যাবো।

ওই সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও ভূমিক্ষয় রোধে বনায়ন, পাহাড় সংরক্ষণ, টেকসই কৃষি প্রবর্তন, পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। পাহাড়ের ম্যাপিং, জোনিংসহ পাহাড়ি এলাকায় বিস্তারিত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা, পাহাড় সংরক্ষণ এবং পাহাড়ি এলাকায় ব্যবহার সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, পাহাড়ে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর গৃহব্যবস্থা, পাহাড় নির্ভয় জীবিকা ইত্যাদির ওপর গবেষণা ও সমীক্ষা চালিয়ে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

একই সঙ্গে টেকসই পাহাড় ব্যবস্থাপনা জন্য পাহাড় টিলার গঠনশৈলী, পাহাড়ি নদ-নদীর ঝরনা, স্থায়ীত্ব, ধসে পড়ার ঝুঁকি, পরিবেশ-প্রতিবেশ জীববৈচিত্র্যর ওপর সমীক্ষা চালানো হবে। নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করতে কার্যকরী ব্যবস্থা, পার্বত্য জেলাগুলোতে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় স্থাপন করার উদ্যোগ নেয়ার জন্য মতামত দেন তারা।

বন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি জানান, মাটির গভীরে যেতে পারে এমন শিকড় জাতীয় পরিবেশবান্ধব গাছ পাহাড়ে রোপণ করা হবে। পাহাড়ের পানি নিষ্কাপন ব্যবস্থা, পরিকল্পিতভাবে রাস্তাঘাট নির্মাণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ পাহাড় কাটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে জাতীয় স্বার্থে পাহাড় কেটে রাস্তা করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর পাহাড় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ছাড়পত্র দিতে পারে। পাহাড়ে রাস্তা বানানোর সময় পাহাড়ের ঢাল কোনোভাবেই যেন ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রির বেশি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

এছাড়াও পাহাড়ের গায়ে থাকা জাতীয় গাছ, জঙ্গল পোড়ানো বন্ধ করা, পাহাড়ের ঢালে সিমেন্ট ব্লক বসানো, ঘাসের আচ্ছাদন লাগানো যেতে পারে। পাহাড় কেটে সমান করে পাহাড়ের ডাল এবং পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঘরবাড়ি বানানো বন্ধ করতে হবে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি বলেন, পাহাড় ধসে যাওয়া ভূমি পুনরুদ্ধারে পাহাড়ে স্লোপ, গঠনশৈলী, জিও মরফোলজি ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যগুলো কারিগরি ও প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা নিতে হবে এবং পরিবেশগত সমীক্ষা করে জুট জিও টেক্সটাইলের ব্যবহার করা হবে। পাহাড়ের পাদদেশ বিদ্যমান রাস্তা, স্থাপনা সৃষ্ট পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে এবং সে জন্য নালা নর্দমা, খাল, ছড়া পরিষ্কার রাখতে হবে।

পাহাড়ের তলদেশে অবৈধ বসতি স্থাপন নিরুৎসাহিত করার জন্য সেবা সংযোগ (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস) বন্ধ বা বিচ্ছিন্ন করা হবে। সুষ্ঠু পাহাড় ব্যবস্থাপনা জন্য প্রতিবেশী দেশগুলো (ভারত, নেপাল, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, চীন) অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় পাহাড় ব্যবস্থাপনা নীতিমালা করা হবে। এছাড়াও পাহাড়ি এলাকায় জমির মালিকানা নির্ধারণ করে প্রতিটি পাহাড় সংরক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মালিকদের নিকট হস্তান্তর করা যেতে পারে। এর সঙ্গে পাহাড়ের যে কোনো ঘটনা বা পরিস্থিতিতে সে মালিক দায়বদ্ধ থাকবেন। অর্থাৎ পাহাড় রক্ষাকারী কমিটি গঠন করা হবে।

স্থানীয় সরকারের বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, পাহাড়ে বসবসারত জনগোষ্ঠী পাহাড়ের ওপর নির্ভয়শীলতা কমিয়ে বিকল্প উপার্জনের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রচারণার উদ্যোগ নিতে হবে। দুযোর্গকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময় দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অতিদ্রুত সমন্বয় করা যায় সে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাহাড় কাটার কুফল সম্পর্কে এলাকাবাসীকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম নেয়া যেতে পারে।

পাবত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি বলেন, পাহাড় বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস না করে একসঙ্গে বা দলবদ্ধভাবে পাড়া গঠনপূর্বক প্রথাগত পদ্ধতিতে মাচাং ঘর তৈরি করে বসবাস করলে এতে পাহাড় কাটার প্রয়োজন তুলনামূলক কমে আসবে। যত্রতত্র বসবাসের কারণে পাহাড় খোঁড়াখুঁড়ি বেশি হয় এবং পাহাড় ধসের সম্ভবনা বাড়ে।

তাছাড়া তাদের অর্থনৈতিক বিবেচনায় ফলজ ও নিজস্ব চাহিদা মোতাবেক পাহাড়ে ব্যাপক বনায়ন কার্যক্রম নিলে পাহাড়ধস কমে আসবে। জুম চাষে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস না হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় এনে পদ্ধতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে জুমচাষ আধুনিকীকারণ করাও দরকার। পাহাড়ে বসতি স্থাপন ও রাস্তা নির্মাণকালে পাহাড় শাসন ৪০ ডিগ্রি এবং তার নিচে কোণে ঢাক ব্যবস্থাপনা করার হলে পাহাড়ধস কমে আাাসবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রতিনিধি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ে বিদ্যমান স্থাপনা ও সড়কের রক্ষার জন্য পাহাড় ঢালকে আরসিসি পাইলিংয়ের মাধ্যমে মজবুত করতে হবে। পরবর্তীতে বনায়ন ও সবুজ আস্থাঙ্গন কার্যক্রম পরিচালনা করলে করে পাহাড়ধস কমানো সম্ভব।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT