রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১২:১৮ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ ৩ মাসেও উদ্ধার হয়নি সরকারি বিএস কোয়ার্টারের সম্পত্তি ◈ শাহজাদপুরে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত ◈ ফুলবাড়ীতে সাহিত্য পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও সম্মাননা প্রদান ◈ বগুড়ার শেরপুরে গণডাকাতির ঘটনার আঠারো দিনের মাথায় আবারও ডাকাতির চেষ্টা ◈ বগুড়ার শেরপুরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত নারীর মৃত্যু, থানায় মামলা গ্রেপ্তার ১ ◈ বগুড়ার শেরপুরে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার ◈ বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকশার ৪ যাত্রী নিহত ◈ বগুড়ায় দুপচাঁচিয়ায় ট্রাক চাপায় নিহত ২ ◈ বগুড়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় ৩ জন ছুরিকাহত, আটক ২ ◈ কালিহাতীতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মানববন্ধন

পার্বত্যাঞ্চলে চাঁদাবাজিতে জিম্মি মানুষ

ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হচ্ছে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো

প্রকাশিত : ১১:৪৪ AM, ৫ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার ১৮৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

রক্তাক্ত জনপদ হিসেবে তিন জেলা নিয়ে পরিচিত পার্বত্যাঞ্চল। দীর্ঘদিন এ অঞ্চলের আঞ্চলিক সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এদের চাঁদাবাজি, বিরোধ, পাহাড়ে জুম্মল্যাণ্ড ও স্বায়ত্তশাসিত সরকারসহ বিভিন্ন বিষয় টার্গেট নিয়েই মাঝে মধ্যেই তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে রাঙ্গামাটির পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলের সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো হচ্ছে— জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), জনসংহতি সমিতির সংস্কারপন্থি ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। এই সন্ত্রাসীগ্রুপগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র সংগ্রহ করছে। আর এই অস্ত্র সংগ্রহ এবং সন্ত্রাসী সদস্যদের খরচের জন্য তারা সাধারণ বাসিন্দাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। শুধু তাই নয়, পার্বত্যাঞ্চলে বিভিন্ন চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোাঁ অংকের টাকা চাঁদা আদায় করছে। ফলে তিন পার্বত্য জেলার সাধারণ মানুষ এদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, এই সন্ত্রাসীদের ভয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যেতেও তারা সাহস পাচ্ছেন না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাঙামাটির ৪টি আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক জেএসএস সংস্কারপন্থিদের এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে কাজ করা গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন পেশার লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, তারা এ অঞ্চলের শান্তি চুক্তির মাধ্যমে হত্যা, লুণ্ঠন, জ্বালাও-পোড়াও, অপহরণ, নারী নির্যাতনসহ অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে রেহাই পাওয়ার আশা করেছিলেন। কিন্তু সেই আশা এখন নিরাশায় পরিণত হয়েছে।

শুধু বাঙালি ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা নয়, পাহাড়িরাও অত্যাচারিত, নিপীড়িত এবং ভয়ংকর প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। জেএসএস, ইউপিডিএফ এবং সংস্কারবাদী নামে গড়ে ওঠা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত ও অনিয়মিতভাবে জোর-জবরদস্তি করে চাঁদা আদায় করা হয়।

আর আদায়কৃত চাঁদার টাকা দিয়ে অস্ত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। আর সেই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পুনরায় চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এই সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকসহ সাধারণ ব্যবসায়ীরাও। এসব সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের সদস্যদেরও মদত দিয়ে আসছে। তারা অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভেতরে প্রবেশ করে সন্ত্রাসীগ্রুপের সদস্যদের অস্ত্র-গুলিসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।

গত ২৫ আগস্ট ও অবৈধভাবে নাফনদী পার হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড (বিজিপি)। পরে তাদের বিজিবি আটক করে। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর তাদের চার সদস্যকে হস্তান্তর করা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সেতু এলাকায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের হস্তান্তর করা হয়।

তারা হলেন— মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুর নাগকুড়া ব্যাটালিয়নের মেগচিং ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন লি উইন কো মং (৩০), সার্জেন্ট ইয়ানাং তুন (৩১), সার্জেন্ট প্যায়াং গি (২৫) ও সিপাহী ক্য ক্য (২৮)। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ, টেকনাফস্থ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়সাল হাসান খান। আর মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিপির ১ নং ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কমান্ডিং অফিসার ক্য উইন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পার্বত্য অঞ্চলের সন্ত্রাসী তিনটি গ্রুপের মধ্যে প্রায় ২০০০ সদস্য এখন সক্রিয়। এই সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যরা বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পোশাক ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের রয়েছে এক হাজার সন্ত্রাসী সদস্য। এই গ্রুপে সামরিক কায়দায় বেশ কয়েকটি ইউনিটও রয়েছে।

আর জেএসএস (সংস্কার) একাধিক ইউনিট গঠন করেছে। এদের কয়েকশ সদস্য রয়েছে। আর ইউপিডিএফের ৭ শতাধিক সশস্ত্র সদস্য রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের প্রধান সামরিক বাহিনীর মতো বিভিন্ন পদবি ব্যবহার করছে তারা।স্বাধীন পার্বত্য অঞ্চল গড়ে তোলার কথা বলে প্রশিক্ষণসহ হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব সশস্ত্র সদস্যদের নিয়মিত বেতনও দেওয়া হচ্ছে।

তবে সাধারণ বাসিন্দারা বলছেন, অশান্ত পাহাড়ে বিনা রক্তপাতে শান্তি ফিরিয়ে এনেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। পাহাড়ের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ১৯৯৭ সালে। তৎকালীন সরকারপ্রধান এবং জনসংহতি সমিতির মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পাহাড়ে প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে সশস্ত্র আন্দোলন চলার পর ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়িতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠনিকভাবে অস্ত্র সমর্পণ করেন সন্তু লারমাসহ ১ হাজার ৯৬৮ জন শান্তিবাহিনীর সদস্য।

শান্তিচুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। কিন্তু সন্ত্রাসীগ্রুপগুলো আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরের দিন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে একটি মাইক্রোবাসে গুলি করে পাঁচজনকে হত্যা করা হয়। শক্তিমান চাকমা ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’ (এমএন লারমা) নামে একটি দলের কেন্দ্রী কমিটির সহসভাপতি ছিলেন?

গত ২০১০ সালে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’ থেকে বেরিয়ে তিনি ঐ নতুন দলে যোগ দিয়েছিলেন। সম্প্রতি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল দলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসবে কয়েকজন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যও নিহত হন। ওইসব হামলায় গুলি ও বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে বলে আমাদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

রাঙ্গামাটি জেলার পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির জানান, বর্তমানে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ আমার সংবাদকে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দুটি বিষয় নিয়ে এখন সমস্যা হচ্ছে। একটি হচ্ছে শান্তিচুক্তির পক্ষে আর একটি শান্তিচুক্তির বিপক্ষে।

তার মধ্যে ইউপিডিএফ শান্তিচুক্তির বিপক্ষে শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন দল উপদলের সৃষ্টি হয়েছে। এ দলগুলোর মধ্যে চাঁদাবাজি অভ্যান্তরীণ নেতৃত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে সংঘর্ষ হচ্ছে। এরমধ্যে চাঁদাবাজি ও মতের ভিন্নতা এবং চুক্তির বাস্তবায়ন পুরোপুরি না হওয়া।

তবে স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান এখন অনেক উন্নত। ফলে সাধারণ মানুষ এর বিরুদ্ধে যাচ্ছে না। ভূমির মালিকানা, চুক্তির সংশোধন অনেকটাই হয়েছে। তাই স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় শান্তি স্থাপন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শন্তু লারমান চুক্তির সময় তার যে রাজনৈতিক অবস্থান ছিল। এখন তা আর নেই।

এছাড়া, তাদের স্থানীয় নির্বাচনে উপজাতীরাই শুধু ভোটার হতে পারবে আর ভোট দিতে পারবে। বাংঙালিরা ভোটার হতে পারবে না। কিন্তু সেখানে জাতীয় নির্বাচনের যে ভোটার তালিকার ভিত্তিতেই ভোট নেয়া হয়। আর তারা সেখানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোশকতায় বসতি স্থাপনকারীদের উচ্ছেদের দাবি করছেন। এসব বিষয় নিয়েই মাঝে মধ্যে পাড়াতে উত্তেজনা দেখা দিলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি জানান।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT