রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১১:০৪ পূর্বাহ্ণ

পানি বৃদ্ধির কারণে বিলে এখনও দেখা যাচ্ছে প্রচুর শাপলা

প্রকাশিত : ০৫:৩১ PM, ৬ অক্টোবর ২০১৯ Sunday ১৬৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আমাদের দেশে নানা প্রজাতির ফুল রয়েছে, তার মধ্যে শাপলা আমাদের অন্যতম ও বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। এবছর হঠাৎ করে পুনরায় বন্যার পানি বৃদ্ধি কারণে নতুন করে বিলে প্রচুল শাপলা ফুল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। কিছুদিন আগেও বিলের পানি কমে যাওয়ায় শাপলা যেন প্রায় ফুড়িয়ে আসছিল। তবে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে বিলের দিকে তাকালে মনে হয় এবছর সবেমাত্র শাপলার সিজন শুরু হলো। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন বিল ও জলাশয় গুলোতে সাদা পাপড়ির বিছানা মেলে দাড়িয়ে আছে শাপলা ফুল। কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে বিলের ধারের রাস্তা দিয়ে হাটটে গিয়ে এমন অপরুপ দৃশ্য চোখে পড়ে। এদৃশ্য দেখার জন্য খানিটা দাড়িয়ে পড়েন পথীকরা।

প্রাকৃতিক নিয়মে এর জন্ম এবং বৃদ্ধি ঘটে বলে বর্ষার প্রায় শুরু থেকেই শরৎকাল পর্যন্ত শাপলা ফুল পাওয়া যায়। এ ফুলের কান্ড ও মূল থাকে পানির নিচে আর পাতা ও ফুল পানির উপরে ভেসে থাকে। শাপলা ফুল বাঙালীর জাতীয় প্রতিকের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম মাধ্যম। শাপলা মানুষের মাঝে জনপ্রিয় খাদ্য হিসেবেও এখন বিক্রি হচ্ছে গ্রামগঞ্জ ও শহরের বিভিন্ন হাট বাজারে। তাই এই অঞ্চলের অনেক পরিবার বিল থেকে শাপলা কুড়িয়ে তাদের সংসার চলে। বছরের এই সময়ে বিলের শাপলা প্রায় শেষ হয়ে আসলেও এবছর পুনরায় বন্যার পানি বৃদ্বি পাওয়ায় বিলে এখন প্রচুর পানি ও শাপলা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে আরো কিছু দিন বিলে প্রচুর শাপলা কুড়াতে পারবেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। বর্ষার সময়ে এলাকায় দিনমজুরের কাজ কম থাকায় অনেকেই শাপলা কুড়িয়ে তাদের সংসার চালাচ্ছেন। শাপলা কুড়িয়ে দৈনিক ৪০০ থেকে ৬০০ করে টাকা আয় রুজি করছেন তারা।

লক্ষ্য করা গেছে, শ্রীনগর উপজেলার কুকুটিয়া, বীরতাঁরা, তন্তর, ভাগ্যকুল, রাঢ়ীখাল, হাঁসাড়া, ষোলঘর, বাড়ৈখালী ও বিখ্যাত আড়িয়ল বিলেও প্রচুর শাপলা জন্মায় বর্ষাকালে। এসময় দিনমজুর মো. কামাল, আলম, শাহিদা বেগম, জালাল মিয়া, হোসেন মিয়াসহ অনেকের বলেন, শাপলা মানুষের খাবারের উপযোগী হওয়ায় তরকারী হিসাবে এর চাহিদা এখন ব্যাপক। এলাকায় এসময় কাজ কম থাকায় শাপলা কুড়িয়ে ভালই আয় হয় তাদের। সকাল থেকে কয়েক ঘন্টা বিলে ছোট নৌকা করে শাপলা কুড়ান তারা। পরে শাপলার পাইকাররা সময়মত এসে শাপলা নিয়ে বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করতে যান বলে জানান তারা।
শাপলার পাইকার জনী, মো. রনী, আব্দুল হাই, শহিদ ও জামাল বেপারী জানান, গ্রামগঞ্জের হাঁটে বাজারসহ শহরের বাজারগুলোতে শাপলার চাহিদা ভালো থাকায় শাপলা কুড়ানো কাজে এ অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের কয়েক মাসের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আয় রোজগার ভালোই হয়ে থাকে। শাপলা পিকআপ ভ্যানে করে গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন হাঁটবাজার ও রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে পাঠিয়ে দেই। অল্প পুঞ্জিতে এই ব্যবসায় আমাদের আয় রোজগারও ভালই হয়। অন্যদিকে কয়েক মাস শাপলা কুড়িয়ে দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের ওই আয়ে সংসার চালাতে পারছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT