রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২২ অক্টোবর ২০২১, ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৭:৫৮ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব শাহ আলমের নির্বাচনী উঠান বৈঠক। ◈ তাহিরপুর সীমান্তে ভারতীয় মাদকের চালান সহ বিভিন্ন মালামাল আটক ◈ ফুলবাড়ীর ছয় ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হলেন যারা ◈ সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কলমাকান্দায় মানববন্ধন ◈ ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শশিকর বাজারে শুভ উদ্বোধন ◈ তাহিরপুরে তথ্য অধিকার বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষন কমিটির সভা ◈ রাজারহাটে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন ত্রাণ ও দূর্যোগ প্রতিমন্ত্রী ◈ রংপুরে তিস্তা পাড়ের বন্যার্তদের পাশে জেলা আ’ লীগ সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম রাজু ◈ শাহজাদপুরে ইউপি নির্বাচনে পুনরায় নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল বাতেনের সমর্থনে জনসভা অনুষ্ঠিত ◈ জামালগঞ্জে ইমামের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার বাড়ছে

প্রকাশিত : ০৫:৪১ AM, ২৫ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার ৬৬৭ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পৌরসভার বানিয়াবাড়ী এলাকায় ডোবার পানিতে ডুবে গত ১৮ নভেম্বর নাহিদ ও আবির নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যাদের উভয়ের বয়স ছিল চার বছর। তাদের পরিবার জানায়, সকালে সবার অজান্তে নাহিদ ও আবির খেলতে খেলতে বাড়ির পাশে ডোবার পানিতে খেলনা পুতুল ধোয়ার জন্য যায়। এ সময় তারা পা পিছলে পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর পরিবারের লোকজন তাদের খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের ডোবায় দুজনের লাশ ভেসে ওঠে। পরে লাশ দুটি উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন বাড়িতে নিয়ে যান। নাহিদ ও আবিরের মতো প্রতিদিন ৪০ জনের বেশি শিশুর মৃত্যু হয় পানিতে ডুবে।

পরিসংখ্যান বলছে, বছরে প্রায় ১৪ হাজারের বেশি শিশু পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করছে। পানিতে ডুবে মৃত্যুর ৪০ শতাংশের বয়স ১৫ বছরের কম। যার মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। এর মধ্যে ডোবা বা পুকুরে ডুবে শিশু মৃত্যুর ৮০ ভাগই ঘটে বাড়ি থেকে ২০ মিটারের মধ্যের পুকুরে পড়ে। পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। জনসচেতনতার অভাবে বিশেষ করে শিশুরা পানিতে বেশি ডুবে মারা যাচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিনই অনেক শিশু পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছে যার সবগুলো খবর গণমাধ্যমে আসছে না। পরদিকে ২০১৫ সালে গৃহীত সকল শিশুকে সাঁতার শেখানোর মতো সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলেও কার্যত এর কোনো অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে শিক্ষা, মহিলা ও শিশু, সমাজ কল্যাণ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ ১২টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে বাংলাদেশ যে আন্তঃসরকারি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। তবে এই টাস্কফোর্স পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে একটি জাতীয় কৌশলপত্র এখনো প্রণয়ন করতে পারেনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খবর নিয়ে গেছে কৌশলপত্র প্রণয়নের কাজ এখনো চলমান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে পানিতে ডুবে প্রতিদিন গড়ে মারা যায় ৪০ জন শিশু। যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। এই হার অসুখ-বিসুখে মৃত্যুর চেয়েও বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বিষয়ে সবার আগে দরকার সচেতনতা। যা তৈরিতে প্রয়োজন সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ। পরিসংখ্যান বলছে, বছরে প্রায় ১৪ হাজারের বেশি শিশু পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করছে। পানিতে ডুবে মৃত্যুর ৪০ শতাংশের বয়স ১৫ বছরের কম। যার মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।

বাংলাদেশ হেলথ অ্যান্ড ইনজুরি সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি ৩০ মিনিটে একটি শিশু মারা যায় পানিতে ডুবে। দিনে চল্লিশেরও বেশি। অসুখ-বিসুখ নয়, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হারই সবচেয়ে বেশি। আর সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবির) গবেষণায় দেখা যায়, বরিশাল বিভাগের ২৪টি উপজেলায় ৬৭ শতাংশ মৃত্যুই হয়েছে, পানিতে ডুবে এবং তা বাড়ির ১০০ মিটারের মধ্যে। শিশুদের ক্ষেত্রে ৬৩ শতাংশ দুর্ঘটনাই ঘটে, সকাল ৯টা থেকে ১টার মধ্যে। এ সময়টায় গ্রামীণ নারীরা ব্যস্ত থাকেন গৃহস্থালি কাজে।এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর কমপক্ষে তিন লাখ ২২ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান, যার ৯০ শতাংশেরও বেশি নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পানিতে ডুবে বেশি শিশুর মৃত্যু ঘটে এশিয়াতেই। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়াতে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমাজে জনসচেতনতার পাশাপশি পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে হবে। এ ছাড়াও পাঁচ বছরের বেশি বয়সি শিশুদের সাঁতার শেখানো গেলে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু অনেকাংশে কমে আসবে। সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি) নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পানিতে ডুবে মৃত্যুর প্রতিরোধে বেশ কিছু কাজ করে যাচ্ছে।

সিআইপিআরবি সূত্র জানায়, পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু প্রতিরোধে তারা আঁচল, ভাসা (ফ্লোটিং), সিসেফ নামের কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যার মাধ্যমে সমাজে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পাঁচ বছরের বেশি বয়সি শিশুদের সাঁতার শেখানো এবং পরিবারে এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করাসহ পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে। পানিতে ডুবে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান না থাকায় অনেক সময় শিশু বা কিশোরদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে বলে জানিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে শিশুদের মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে, সিআইপিআরবি গ্রামগুলোতে গড়ে তুলেছে তিন হাজারেরও বেশি সুরক্ষা কেন্দ্র। এ ছাড়াও সারা দেশে সাত লাখেরও বেশি শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে সিআইপিআরবির পরিচালক ডা. আমিনুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা এক ধরনের নীরব মহামারি। এই মৃত্যুর হাত থেকে আমাদের সাঁতার শেখার কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, শিশুকে দেখা শোনার অভাবে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার বাড়ছে।

পানিতে ডুবে রেকর্ড সংখ্যক শিশুমৃত্যুর উল্লেখযোগ্য কারণ উল্লেখ করে ডা. আমিনুর রহমান আরো বলেন, গ্রামের বাড়ির চারদিকে বিভিন্ন ধরনের জলাশয়, পুকুর, নদী, ডোবা, খাল-বিলে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়টাতে বেশি পানি থাকে। আর দুর্ঘটনা এ সময় বেশি ঘটে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT