রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

০৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ

পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হোক

প্রকাশিত : 04:28 AM, 25 November 2019 Monday ৩৩ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

পাট বাংলাদেশের সোনালি আঁশ। ২০১০ সালের পর থেকে পাটের আবাদ কখনো নেমেছে আবার কখনো উঠেছে। বাজারমূল্য কমে গেলেও কখনো পাট চাষ থেকে মুখ ফেরাননি চাষিরা। কৃষকের এই দরদই বাঁচিয়ে রেখেছে সোনালি আঁশের সম্ভাবনা। এবার দেশ-বিদেশে পাটের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ এই প্রস্তাবনাটি জাতিসংঘে উত্থাপন করে। তিন মাস দর-কষাকষির পর জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রকে প্রস্তাবনাটির পক্ষে আনতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের আনা প্রস্তাবটিতে ৬৮টি দেশ সমর্থন জানায়। গত শুক্রবার এ সম্পর্কিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রথম প্রস্তাবনা, যেখানে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে টেকসই এবং সামাজিকভাবে লাভজনক কৃষিপণ্য পাট ও অন্যান্য প্রাকৃতিক তন্তুর চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্যতা তুলে ধরা হয়েছে।

আমরা মনে করি, এই প্রস্তাবনা পাট ও অন্যান্য প্রাকৃতিক তন্তুজাত পণ্যের জন্য একটি শক্তিশালী, কার্যকর ও সুনিপুণ গ্লোবাল ভ্যালু চেইনের পথ সুগম করল। ফলে বৈশ্বিক বাজারে পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং বাংলাদেশের পাটচাষি ও পাট ব্যবসায়ীদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি প্রস্তাবনাটি প্রাকৃতিক আঁশ ব্যবহারের সুবিধা ও কৃত্রিম তন্তু যেমন প্লাস্টিক ব্যবহারের অসুবিধা—এসব তুলে ধরার মাধ্যমে পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনরোধে ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া প্রস্তাবনায় সদস্য দেশগুলোকে পাট ও অন্যান্য প্রাকৃতিক তন্তুর ব্যবহার বিষয়ে নতুন নতুন আইন, নীতি ও পরিকল্পনা গ্রহণেরও আহ্বান জানানো হয়েছে, যা একটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য বিষয়। নিশ্চয়ই এটি সরকারের একটি বিশাল অর্জন। কারণ আমরা জানি, পাট নিয়ে দারুণ মনোকষ্টে রয়েছেন এ দেশের চাষিরা। উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছেন না তারা। এমনকি উৎপাদন খরচও উঠছে না। লোকসান গুনতে হচ্ছে অনেক চাষিকে। এ ছাড়া পাটের বাজারে রয়েছে বিশৃঙ্খলা। ফলে পাটের স্বর্ণযুগ ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে সরকার যে দায়িত্ব পালন করেছে, তা নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে জাতিসংঘের গৃহীত প্রস্তাবে দেশে কৃষকদের মধ্যে যে আশার সঞ্চার হয়েছে, এবার আমরা তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চাই। কারণ এর আগে পাট নিয়ে যে প্রত্যাশার কথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন তার সঙ্গেও দ্বিমত প্রকাশের সুযোগ নেই। তিনি বলেছেন, পাটকে কীভাবে লাভজনক করা যায় সেই পথ খুঁজে বের করতে হবে। বাংলাদেশকে একসময় সোনালি আঁশের দেশ বলা হতো। এর কারণ বাংলাদেশের পাটের বিশ্বময় সুখ্যাতি ছিল। এছাড়া বৈদেশিক আয়ের সিংহভাগ আসত পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি থেকে।

সরকার পাটকে কৃষিপণ্য ঘোষণা করেছে। পাট খাতের মাধ্যমে এখনো বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তাই পাটকে গুরুত্ব না দিয়ে উপায় নেই। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশকে কৃষি অর্থনীতির ওপর ভর করেই দাঁড়াতে হবে। আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে বেড়ে উঠতে হলে নিজের দেশে উৎপাদিত পণ্যের দিকে মনোযোগী হতে হবে। এ ব্যাপারে যুগোপযোগী এবং বাস্তবানুগ সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসবেন—এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT