রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২২ জানুয়ারি ২০২২, ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০২:৪০ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ আ’লীগ নেতা সৈয়দ মাসুদুল হক টুকুর পিতার ২১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ◈ ঘাটাইল আশ্রয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ◈ শীতার্তদের মুখে হাসি ফোটালেন সিদ্ধিরগঞ্জ মানব কল্যাণ সংস্থা ◈ হরিরামপুরে স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে বন্ধে স্ত্রীর অনশন ◈ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরীব-দুঃখীদের পাশে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র সচিব সাজ্জাদুল হাসান… ◈ কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগর করোনা এক্সপার্ট টিমের কম্বল বিতরণ ◈ পেইড পিয়ার ভলান্টিয়ারদের চাকরী স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন ◈ ফুলবাড়ীতে শীতার্তাদের মাঝে ডিয়ার এক্স টিমের শীতবস্ত্র বিতরণ ◈ রানীরবন্দর রুপালী ব্যাংক লিঃ ব্যবস্থাপকের বিদায় ও বরণ ◈ শার্শায় বাইক ছিনতাই করে চালককে হত্যায় জড়িত ৩ আসামী আটক

পাইলস চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি

ডা. মুহাম্মদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

প্রকাশিত : ০৭:৪৬ PM, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার ৯০২ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

পাইলস রোগটির সাথে আমরা হাজার বছর ধরে পরিচিত। এটা একপ্রকার ধাতুগত পীড়া। মলদ্বারের ভেতরে বা বাইরের চারপাশের শিরাগুলো ফুলে মোটরদানা কিংবা আঙ্গুরের মতো কিংবা ছাগলের বাঁটের মতো ছোট ছোট গলি বা টিউমার হলে তাকে অর্শ বা হেমোরয়েড বলে।

অর্শ প্রধানত দুই প্রকার, যথা— অন্তর্বলি ও বহির্বলি। এছাড়া এক প্রকার অর্শকে মিশ্রবলি বলে। যেটি ভেতরে-বাইরে উভয় স্থানে থাকে। ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সের ভেতর এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। ২০ বছর বয়সের নিচে পাইলস খুব একটা দেখা যায় না। পাইলস শনাক্ত করা খুব সহজ কাজ নয়।

একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক কেবল যন্ত্রের সাহায্যে পরীক্ষা করে পাইলস শনাক্ত করতে পারেন। কখনো কখনো টয়লেটে বসিয়ে কোঁথ দিতে হয়ে। আমাদের কাছে বিভিন্ন রোগী এসে বলে, আমার পাইলস। তখন রোগী লক্ষণ দেখে বুঝি এনাল ফিশার, পলিপ অথবা ফিস্টুলা।

অর্থাৎ মলদ্বারের যেকোনো রোগকে সবাই পাইলস হিসেবে জানেন। কিন্তু এখানে বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। এই রোগ মহিলাদের চেয়ে পুরুষের কিছুটা বেশি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ কোনো না কোনো সময় পাইলসের সমস্যায় ভোগেন।

কারণ : নানা কারণে অর্শ হতে পারে। প্রধান কারণ— লিভারের মধ্যে এবং ধমনীতে রক্তাধিক্য হলে অর্শ হয়। এ ছাড়া অলস প্রকৃতির লোকের সারা দিন বসে থাকা, ঘিয়ে ভাজা বা অধিক মসলাযুক্ত রান্না খাওয়া, অধিক কোঁথ দিয়ে পায়খানা করা, ঘন ঘন জোলাপের ওষুধ খাওয়া, মলদ্বারের ক্রিমির অত্যচারে বারবার খোঁচানো, কাম রিপুর উত্তেজনার কারণে এবং মা-বাবার এই রোগ থাকলে সন্তানেরও অর্শ হয়।

লক্ষণ : সময় সময় এগুলো চুলকায়। ধপ ধপ করে ব্যথা করে এবং জ্বালাপোড়া করে। কাটা-পোডার মতো ব্যথা এবং কোমরে ব্যথা। মল ত্যাগকালে রক্তস্রাব হয়। কোনো কোনো সময় রক্তস্রাব হয় না।

আনুষাঙ্গিক চিকিৎসা : তিনটি বিষয়ে লক্ষ রাখিতে হবে— ১. আহার ও ভ্রমণ সম্বন্ধে নিয়ম পালন; ২. নিয়মিত পায়খানা পরিষ্কার হওয়ার ব্যবস্থা; ৩. অর্শের স্থানটিকে ভালোভাবে পরিষ্কার রাখা।

এলোপ্যাথিক চিকিৎসা : অর্শে কোনো সুচিকিৎসা হয় না। অস্ত্রোপচার ছাড়া কোনো গতি নেই। কিন্তু তাতেও রোগ নির্মূল হয় না। অতএব, প্রথম থেকেই অর্গানন অনুসরণকারী হোমিওপ্যাথিতে চিকিৎসা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

পুরাতন রোগের বীজ রোগীর দেহে বর্তমান থেকে এই রোগের সৃষ্টি করেছে, সেই ধাতুগত দোষ দূরিকরণার্থে উপযুক্ত ওষুধ সেবন না করলে শুধু অস্ত্রোপচার বা এলোপ্যাথি ওষুধ খেলে কোনো লাভ হবে না।

হোমিও প্রতিবিধান : রোগ নয়, রোগীকে চিকিৎসা করা হয়। আবার অনেকে নিজেদের অর্শ-ভগন্দরের চিকিৎসক বলে থাকেন। কিন্তু ওইসব ডাক্তারবাবুরা রোগীদের ইনজেকশনের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। আবার মলম বা ক্রিম লাগাতে রোগীদের বলেন। যেটা সাময়িক নিরাময়।

কিন্তু পরে জঠিল আকার ধারণ করে। এরকম অনেক চিকিৎসক চট্টগ্রাম ফেনীসহ অনেক জায়গায় এসব রোগীর অপচিকিৎসা দিয়ে থাকে। এজন্য যেসব ডাক্তার নিজেদেরকে হানেমানের উত্তশ্বরী বলে থাকে তারা যেন রোগীর সঠিক লক্ষণ নির্বাচন করতে পারলে তাহালে হোমিওতে অর্শরোগীর চিকিৎসা আল্লাহর রহমতে দেয়া সম্ভব।

প্রাথমিকভাবে অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা যেসব মেডিসিন নির্বাচন করে থাকেন, যেমন— এলুমিনা, এলো, আর্সেনিক এল, এন্টিম ক্রোড, এমন কার্ব, নার্কস ভোম, সালফার, ইস্কিউর্লাস হিপ, কলিন সোনিয়া, এসিডি নাইট্রেকাম ইত্যাদিসহ আরো অনেক ওষুধ লক্ষণের উপর আসতে পারে । এসব ওষুধ বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক ছাড়া নিজে নিজে ব্যবহার করলে রোগ আরও জঠিল আকারে পৌঁছতে পারে।

লেখক : স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা, হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটি

কো-চেয়ারম্যান হোমিওবিজ্ঞান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT