রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২০, ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১১:০৬ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নিহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শুভ্র’র কবর জিয়ারত করলেন কেন্দ্রীয় নেতা. আফজালুর রহমান বাবু ◈ তাড়াইলে পীরের আস্তানায় ৭ বছর বয়সী শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু ◈ মধ্যনগরে ২৮টি পূজামণ্ডপে এমপি রতনের নগদ অর্থ সহয়তা প্রদান ◈ ঘাটাইলের সাবেক এমপি মতিউর রহমানের কবর জিয়ারত করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ রায়পুরায় স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ ছাত্রলীগ সভাপতি সহ ২ জনের বিরোদ্ধে মামলা, আটক ১ ◈ পত্নীতলায় নজিপুর সরকারি কলেজে মতবিণিময় সভা অনুষ্ঠিত ◈ হোসেনপুরে বঙ্গবন্ধুর নামে সড়ক উদ্বোধন করলেন কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ূন ◈ রবিউল আউয়ালের কথায় গাইলেন পাকিস্তানি কন্ঠশিল্পী সালমান আশরাফ ◈ বাগাতিপাড়ায় সাত লেভেল ক্রসিং অরক্ষিত, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল ◈ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে বারবার সংবাদ প্রকাশ করায় যুবলীগ নেতা আব্দুল কাদেরের সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ

পরিবহন চাঁদাবাজদের অবৈধ টাকার পাহাড়!

প্রকাশিত : ০৭:৩৪ AM, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Friday ২১০ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

সম্পদের পাহাড় গড়েছেন সড়কের চাঁদাবাজরা। মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন, হল্যারম্যান, রিয়ালম্যান ও রাজনৈতিক নেতাদের লাঠিয়ালবাহিনী সড়কে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বনে গেছেন কোটিপতি। সময় এসেছে এ চাঁদাবাজদের লাগাম টেনে ধরার। সম্প্রতি ক্যাসিনো ইস্যুতে সৃষ্ট অভিযানিক অস্থিরতায় থেমে নেই এসব চাঁদাবাজরাও। দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির মাধ্যমে গোছানো আখেরের ঠিকঠাক সামাল দিতেও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ইতোমধ্যে— এমনটাই বলছেন সড়ক সংশ্লিষ্টরা।

একাধিক সূত্রের দাবি, এখনই সময়, এদের সম্পদের হিসাব বের করার। পরিবহন মালিক সমিতির কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার সংবাদকে বলেন, মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনের কতিপয় নেতা চাঁদাবাজির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। এদের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের হিসাব বের করার মুক্ষম সময় এখনই। একটি গাড়ির শেয়ার নিয়ে পরিবহন ব্যবসা শুরু করা মালিক সমিতির এমনও নেতা রয়েছেন, যিনি বর্তমানে ৬০০-৭০০ গাড়িরও মালিক। আবার শ্রমিক সংগঠনের এমনও নেতা রয়েছেন যারা সংগঠন থেকে মাসিক ১০-১৫ হাজার টাকা ভাতা পেয়ে ২০-২৫টি গাড়িরও মালিক। মূলত এদের হাতেই জিম্মি সড়ক পরিবহন সেক্টর। বিভিন্ন সময়ে সৃষ্ট অস্থিরতার সঠিক সমাধানের অন্তরায়ও এ চাঁদবাজরা। এরা সরকারের উচ্চপর্যায়ে সম্পর্ক রেখেই চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে বলে দাবি করছে একাধিক সূত্র।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে সারা দেশে ২৩৩টি শ্রমিক সংগঠন সড়কে চাঁদাবাজি করছে। এসব সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধেও অভিযানের দাবি করছেন সড়ক সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা মহানগর অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন বলেন, শুধু রাজধানীতেই মিনি টার্মিনালসহ রয়েছে অন্তত ছয়টি টার্মিনাল। এর মধ্যে তুরাগ বাসকেই প্রতিদিন ১২০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়, ভিক্টর পরিবহন থেকেও আদায় করা হয় একই পরিমাণ চাঁদা। এ দুই পরিবহনেই নয়, সব পরিবহনকেই এই হারে চাঁদা দিতে হয়।

তথ্যমতে, রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন রুটে প্রায় ১৬ হাজার বাস থেকে প্রায় ২০ খাতে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয় বলে জানা গেছে। পরিবহন শ্রমিক সংগঠন, মালিক সমিতি, থানা পুলিশ ও ফাঁড়ি এবং রুট কমিটির ব্যানারে এসব চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। প্রতিটি বাস থেকে দৈনিক ৫০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেয়া হচ্ছে। শুধু বাসই নয়, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকেও আদায় করা হচ্ছে কোটি টাকার চাঁদা। রাজধানীর টার্মিনালগুলো থেকে বিভিন্ন জেলায় ছেড়ে যাওয়া গাড়িগুলোকেও সমপরিমাণ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এসব চাঁদা শুধু এক পক্ষই নয়, বহুপক্ষই আদায় করছে। এরমধ্যে সিটি কর্পোরেশন একভাগে, মালিক সমিতি একভাগে, শ্রমিক সংগঠন, হলারম্যান ও রিয়াল ম্যান বিভিন্ন নামে আদায় করছে। এছাড়া লাঠিয়ালবাহিনীতো রয়েছেই।

পুলিশ সদরদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পরিবহন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নামছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সমপ্রতি গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে খাত ও স্থান উল্লেখ করে জেলা-উপজেলার পরিবহন চাঁদাবাজদেরও তালিকা পুলিশ সদরদপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে।

সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই তালিকায় যাদের নাম এসেছে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।

হানিফ খোকন বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী নিয়ম হচ্ছে- শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের অফিসে নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধ করবে। এটা নিয়ম হলেও কার্যত কাগজে কলমে। বাস্তবে জোরপূর্বক নির্ধারিত চাঁদার চেয়েও বেশি চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এতে কোটিপতি বনে যাচ্ছেন অসাধু নেতারা। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী আদায়কৃত চাঁদার টাকার সঠিক হিসাব থাকবে সংগঠনের অফিসে এবং বছর শেষে অডিট করিয়ে শ্রম অফিসে সঠিক হিসাবের তথ্য জমা দেবে। কিন্তু এসব সংগঠনগুলোতে চাঁদার সঠিক কোনো হিসাব নেই। উল্টো এসব সংগঠনগুলোতে চাঁদার নামে চলছে লুটপাট। যারা সংগঠনগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে তাদের অনেকেই একাধিক বাড়ি-গাড়ির মালিক। সব সেক্টরেই এ অবস্থা বিরাজ করছে। সিএনজি অটোরিকশা সেক্টরেও বিরাজ করছে এমন অব্স্থা। সিএনজি মালিক সমিতিতে যারা আছেন তারাও বিভিন্নভাবে চাঁদাবাজি করেই চলেছেন। বিশেষ করে সিএনজির রিপ্লেসমেন্টের মাধ্যমে। এছাড়া বিআরটির ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমই হলো- সিএনজি মালিক সমিতি।

এ নেতার দাবি, যেসব চাঁদাবাজ নেতা চাঁদাবাজির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। তদন্ত করা হোক। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশের কাছেও এ তথ্য রয়েছে। কে কত সম্পত্তির মালিক এ খবর তাদের কাছে থাকার কথা। একজন শ্রমিক নেতা শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে মাসিক ভাতা পেলেও তা সর্বোচ্চ ১০-১৫ কিংবা ২০ হাজার টাকা হতে পারে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, তার পরিবার ২০-২৫টি গাড়ির মালিকানা রয়েছে। এসব কীভাবে পেয়েছে? একজন মালিক নেতা ২০ বছর আগেও একটি গাড়ির অর্ধেক শেয়ার কিনে ব্যবসা শুরু করে আজ ৬০০ থেকে ৭০০ গাড়ির মালিক। এসব গাড়ি পেলো কীভাবে? এসবই এখন খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনে পুরো বাংলাদেশের ২৩৩টি সংগঠন অন্তর্ভুক্তি হয়েছে, তাদের ইউনিয়নগুলোই চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। সড়ক পরিবহন আইন হলো, যেখানে এ আইনের বাস্তবায়নই হলো না সেখানে আবার সংশোধন। আইন করতে যাদের ডাকে সরকার, সংশোধন করতেও তাদেরই ডাকা হয়। এ আইন শ্রমিকবান্ধব বা মালিকবান্ধব হলেই চলবে না। এটা হতে হবে জনবান্ধব। কেউ কেউ বলছেন, সরকার যাদের আইন পাস ও সংশোধন করার জন ডাকেন তারাই সড়কে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকাও।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, পরিবহন খাতে যারা চাঁদাবাজি করে তাদের চিহ্নিত করে একাধিক তালিকা তৈরি করে জমা দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। আগেও আমরা পরিবহন চাঁদাবাজিতে যারা জড়িত তাদের নানাভাবে সতর্ক করেছি। চাঁদাবাজিতে যারাই জড়িত থাকুক তাদের সবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। জড়িতরা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী হলেও রেহাই পাবে না।

পরিবহন চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযানের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা বলেন, ‘যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে পুলিশ দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কেউ যদি কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির শিকার হন বা কেউ চাঁদা দাবি করে, তাহলে পুলিশের সহযোগিতা নিন। পুলিশকে অবহিত করুন, পুলিশ অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ছাড়াও প্রতিরোধমূলক পুলিশিং হিসেবে চিহ্নিত ও সম্ভাব্য চাঁদাবাজদের প্রতি নজর রাখা হচ্ছে। সকল প্রকার চাঁদাবাজি নির্মূল করতে বাংলাদেশ পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, চাঁদাবাজিসহ ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে পুলিশ সবসময় কঠোর। চাঁদাবাজিতে যারাই জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এদিকে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পুলিশ সদরদপ্তর সূত্র বলছে, জেলা-উপজেলায় সাধারণত পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ, মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতির নামে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতারাও বেপরোয়াভাবে চাঁদা তুলছেন। প্রতিটি রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা, বাস, ট্রাক, পিকআপসহ সব ধরনের যানবাহন থেকে চাঁদা তোলেন। এসব যানবাহন থেকে মাস ও দৈনিক হিসেবে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। টাকা আদায় হয় থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির নামেও।

পুলিশ সদরদপ্তরে জমা হওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু কিছু পৌরসভায় নির্ধারিত টোল রয়েছে। কিন্তু গাড়িগুলো থেকে নির্ধারিত টোলের বাইরে চার-পাঁচগুণ চাঁদা নেয়া হয়। কোন মোড়ে, কোন স্ট্যান্ডে কারা চাঁদা তোলে প্রতিবেদনে তাদের বিস্তারিত নাম ও ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্প্রতি বগুড়া থেকে পাঠানো একটি প্রতিবেদনে পরিবহন খাতে ১০ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাসে কয়েক কোটি টাকা চাঁদাবাজির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের বরাতে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বগুড়ায় পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা। কমপক্ষে ১০টি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিন-চার কোটি টাকা চাঁদা তোলা হয়। চাঁদা তোলা হয় সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও দূরপাল্লার বাস-কোচ, ট্রাক থেকে।

এসব বাহন থেকে দৈনিক সাত-আট লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়, যার একটি অংশ যায় অসাধু পুলিশের পকেটে। বগুড়া শহরেই প্রায় ২০ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রায় সাড়ে তিন হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যানে ২০-৩০ টাকা করে চাঁদা নেয়া হয়। প্রায় এক হাজার ইজিবাইকে ৩০-৫০ টাকা করে দৈনিক চাঁদা নেয়া হয়। এছাড়া রিকশা ও ভ্যানের মালিককে সমিতির সদস্যভুক্ত হতেও দুই হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের কথা বলা হয়।

বগুড়ার উপর দিয়ে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাস থেকে দিনে ও রাতে ২৫০-৩০০ টাকা করে চাঁদা নেয়া হয়। জেলার পাঁচ শতাধিক ট্রাক থেকে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। গাইবান্ধা শহরে প্রতিটি ইজিবাইক থেকে দৈনিক ৫০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চাঁদার টাকার ভাগাভাগি নিয়ে মারামারি, খুন-খারাবিসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতির কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এছাড়া সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কুমিল্লা শহরের সবকটি প্রবেশ পথেই কয়েকটি গ্রুপ নিজের সংগঠনের নামে স্লিপ তৈরি করে চাঁদা আদায় করছেন। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের নামেও আদায় করা হচ্ছে চাঁদা। যার পরিমাণ কোটি টাকার ঘরে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডেও যাত্রী ওঠানামা করার সময় বিভিন্ন নামে চাঁদা আদায় করা হয় বলে জানা যায়। দেশের বিভাগীয় শহরসহ জেলা শহরগুলোতেও চাঁদা আদায়ের একই অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানা যায় আমাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সড়কে পরিবহন নেতাদের চাঁদাবাজির প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপরেই পড়ে। সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে সরকার নির্ধারিত বাস এবং মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে এক টাকা ৬০ পয়সা এবং এক টাকা ৭০ পয়সা। দূরপাল্লার ক্ষেত্রে এক টাকা ৪২ পয়সা। কিন্তু তাদের চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষদের বহুগুণ বেশি বাড়তি বাস ভাড়া গুনতে হয়। পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের চাঁদা আদায়ের কারণে যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হয়। অথচ গণপরিবহন ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ, যারা নিন্ম আয়ের মানুষ।

উদাহরণ স্বরূপ তিনি বলেন, দশ হাজার টাকা বেতনের একজন দারোয়ান যখন ভাড়ার কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায় তখন তাকে চুরি করতে হয়। এতে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায় এবং অনৈতিক কাজগুলো বেড়ে যায়। এতে দুর্নীতিকে উসকে দেয়া হয়। কাজেই আমরা মনে করি, বর্তমান সরকারের এ সময়কালে দুর্নীতিবিরোধী যে অভিযান শুরু হয়েছে সেটা পরিবহন সেক্টরেও প্রভাব থাকা অত্যন্ত জরুরি। এর মধ্য দিয়েই আমরা সামাজিক অস্থিরতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT