রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১লা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৭:০২ পূর্বাহ্ণ

পদ হারাচ্ছেন ক্যাসিনোতে জড়িত আ’লীগ নেতারা

প্রকাশিত : ০৫:৫৬ AM, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার ২৬৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন নেতাসহ মহানগরী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের ক্যাসিনো, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিতে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। এগুলো যাচাই-বাছাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে ক্ষমতাসীন দল। অভিযোগ প্রমাণ হলে তাদেরকে সব পর্যায়ের পদ থেকে বাদ দেয়া হতে পারে। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে দলটির নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি দলের কাউন্সিলের ছয় মাস আগে থেকেই তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে থাকেন। সম্মেলনের মাধ্যমে যাতে কোনো অযোগ্য নেতা নেতৃত্বে না আসতে পারেন, এজন্যই এমনটি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও সম্মেলনের আগে সব পর্যায়ের নেতার সম্পর্কে জরিপের নির্দেশ দেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের বিষয়ে নেগেটিভ রিপোর্ট রয়েছে, তারা কোনো কমিটিতে পদ পাচ্ছেন না এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কালো তালিকায় অঙ্গ সংগঠনের নেতা ছাড়াও বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও ঢাকার চার এমপিসহ বর্তমান কয়েকজন এমপি রয়েছেন।

তা ছাড়া উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাসহ অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতার নামও রয়েছে এ তালিকায়। তাদের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো পরিচালনা, মদদ দেয়া, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, হাইব্রিডদের অনুপ্রবেশে সহায়তা, টাকার বিনিময়ে পদ দেওয়া ও দলের ভেতরে কোন্দল সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। অপাতত সবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নিলেও এসব অভিযোগে আগামী কাউন্সিলে দলীয় পদ থেকে বাদ পড়তে পারেন কয়েকজন নেতা। অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যেও এমন অপকর্মকারীরা পদ হারাবেন। বিশেষ করে যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগরীর শীর্ষ বেশ কয়েকজন নেতা এই ঝুঁকিতে রয়েছেন। এরই মধ্যে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা জানান, শুদ্ধি অভিযান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী ও দু-একজন শীর্ষ নেতা ছাড়া আর কেউ কিছুৃ জানেন না। তবে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের একাধিক বৈঠকে অপকর্মকারীদের ছেঁটে ফেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নও করা হচ্ছে।

এদিকে গোয়েন্দাদের একটি সূত্র বলছে, ঢাকা মহানগরীর অনেক কাউন্সিলরসহ অঙ্গ সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতার অপকর্মের ফিরিস্তি প্রধানমন্ত্রীর কাছে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ক্যাসিনোতে জড়িত থাকা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, কাউন্সিলরসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কোনো অপরাধ করলেও তাদের ছাড় দেয়া হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের অপরাধের শাস্তি হবে। এতে দল কোনো হস্তক্ষেপ করবে না। তবে যারা নানা অপকর্মের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কষ্টার্জিত সুনাম নষ্ট করছে, দল ও সরকাকে বিপাকে ফেলেছে তাদেরকে আগামীতে দলের কোনো পদে না রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আগামীতে ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি দেয়ার ক্ষেত্রেও বিতর্কিতদের বাদ দেয়া হবে। এরই অংশ হিসেবে দলছুট ও হাইব্রিড নেতাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন অপকর্মে যাদের নাম এসেছে, তাদের ব্যাপারে দলীয় প্রধান এখনো অনমনীয়।

অপরদিকে, শেখ হাসিনার কালো তালিকায় কার নাম আছে তা জানাতে পারছে না কেউ। এই তালিকায় নিজেদের নাম রয়েছে কি না সেটি জানতে দলীয় এমপিসহ সবাই কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নেতারাও তালিকায় কাদের নাম রয়েছে বলতে পারছেন না। ফলে মন্ত্রী-এমপি এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা কেউই এ নিয়ে মুখ খুলছেন না। তাই চিন্তা দূর হচ্ছে না দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এসব মন্ত্রী, এমপি ও নেতাদের। বেশির ভাগ নেতা অভিযানের পক্ষেও কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। চুপচাপ থাকাকেই শ্রেয় মনে করছেন।

আওয়ামী লীগের একজন সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য বলেন, সবার এক প্রশ্ন তালিকায় বর্তমান এমপিদের মধ্যে কারা রয়েছেন। এ ছাড়া সাবেক এমপি, উপজেলা ও জেলাপর্যায়ের নেতাদের বিষয়েও জানতে চান সবাই। তবে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও দু-একজন শীর্ষ নেতা ছাড়া আর কারো জানা নেই।

সূত্রমতে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস এবং ক্যাডার রাজনীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। ওইদিনই শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়। ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক অপসারণের মাধ্যমে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছিল। আওয়ামী লীগের এক শীর্ষনেতা বলেছেন, এ বছরের আগস্টে প্রধানমন্ত্রী লন্ডন থেকে ফিরলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা থেকে একটি ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব টিম দিয়ে এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখেন।

তা ছাড়া এর আগেও গত ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে কথা হয়।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবেই দলের এসব সুনাম ক্ষুণ্নকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা। ঢাকা থেকে পুরো দেশেই অভিযান চালানো হবে এবং বিতর্কিত, অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলনের মাধ্যমে সকল বিতর্কিত, অনুপ্রবেশকারীদের ছেঁটে ফেলা হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT