রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১২ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৩:৫৮ অপরাহ্ণ

শিরোনাম

পদ্মায় পানি বৃদ্ধি, ভাঙন তীব্র

প্রকাশিত : ০৭:২১ AM, ৩ অক্টোবর ২০১৯ Thursday ১৩৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

উজান থেকে নেমে আসা পানি ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নাটোর, রাজশাহী, মাদারীপুর ও রাজবাড়ীতে নদীভাঙন তীব্র হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে রাজশাহীর দুটি টি বাঁধ। তীব্র স্রোতের কারণে পাটুরিয়ায় ফেরির সংখ্যা অর্ধেক কমানো হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভারতের ফারাক্কা বাঁধ অঞ্চলে বৃষ্টি কমায় বন্যা কমার আশা দেখছেন কর্মকর্তারা।

নাটোর : ফারাক্কার বাঁধ খুলে দেওয়া এবং উজান থেকে নেমে আসা পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে নাটোরের লালপুরের পদ্মা নদীতে। পানি বৃদ্ধির কারণে গতকাল নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে লালপুর, বিলমারিয়া ও ঈশ্বরদী—এ তিন ইউনিয়নের ১৮ চরের অন্তত তিন হাজার মানুষ। খোলা হয়েছে তিনটি ইউনিয়নে তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র। চর থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বন্যা দুর্গতদের। বন্যায় সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাজৈর (মাদারীপুর) : মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার কুমার নদের ভাঙনকবলিত এলাকায় বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যেগে তিন দিন ধরে এসব জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। আরো এক দিন লাগবে। উপজেলার শাখারপাড়, বদরপাশা, শংকরদীপাড়, গোয়ালবাথান, হরিদাসদী ও বিশ্বম্ভরদী এলাকায় কুমার নদের ভাঙনে রাস্তাসহ ২৫-৩০টি বসতবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : কয়েক দিন ধরে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের লালু মণ্ডলপাড়া, নতুনপাড়া, বেপারীপাড়া ও হাতেম মণ্ডলপাড়া গ্রাম এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন চলছে। গতকাল বুধবার ভোররাত থেকে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটসহ পাশের সিদ্দিক কাজীরপাড়া গ্রাম এলাকায়।

এ ছাড়া বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. আবু আবদুল্লাহ জানান, পদ্মায় স্রোতের গতিবেগ কমেনি। এ কারণে ফেরির ট্রিপসংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় নদীর পাড় ভাঙন শুরু হওয়ায় ১ ও ২ নম্বর ঘাট দুটি বন্ধ রয়েছে।

পাউবোর রাজবাড়ীর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফ সরকার জানান, পদ্মার প্রচণ্ড স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের কারণে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ১ ও ২ নম্বর ঘাট দুটি ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে।

রাজশাহী : পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে হুমকির মুখে পড়েছে রাজশাহীর দুটি টি বাঁধ। এর মধ্যে একটি বাঁধ রয়েছে নগরীর বুলনপুরে। আরেকটি রয়েছে শ্রীরামপুরে। বাঁধ রক্ষায় গতকাল বুধবার সকাল থেকে ফেলা হচ্ছে বালুভর্তি জিও ব্যাগ। তবে ধেয়ে আসা পানির প্রবল স্রোতে এখনো হুমকির মুখে রয়েছে বাঁধ দুটি। যদি বিপত্সীমার অনেকটা নিচ দিয়েই এখনো পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

শিবচর (মাদারীপুর) : পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শিবচরের চরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নে দ্বিতীয় দফায় তীব্র ভাঙন চলছে। গতকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বিলীন হয়েছে একটি মসজিদ ভবন, মাদরাসা, সড়ক ও অসংখ্য ঘরবাড়ি। এ ছাড়া ভাঙন আক্রান্ত হয়েছে বহুতলবিশিষ্ট তিনটি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ, বাজারসহ বহু স্থাপনা। পাউবো জিও ব্যাগ ফেলে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় উপজেলার চরাঞ্চলের বন্দরখোলা, কাঁঠালবাড়ী ও চরজানাজাতে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বন্দরখোলার কাজীসুরায় একটি পাকা মসজিদ, কাজীসুরা তাহফিজুল মাদরাসা নদীতে পতিত হওয়ায় মালামাল সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভাঙনের ১০০ মিটারের মধ্যে রয়েছে বন্দরখোলা ইউনিয়নের নূরুউদ্দিন মাদবরকান্দি এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, কাজীসুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ তিনটি বিদ্যালয়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। দ্বিতীয় দফা ভাঙনে এ পর্যন্ত কাঁঠালবাড়ীর মাগুরখণ্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি ভবন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হাজরা বাজার, চরজানাজাত মালেক তালুকদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সাড়ে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে কোনোমতে অন্যত্র সরে যাচ্ছে মানুষ।

ভারতের পরিস্থিতি : পদ্মার উজানে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলায় ফারাক্কা বাঁধ এলাকায় বৃষ্টি কমে আসায় গত মঙ্গলবার থেকে নদীর পানি কমে আসছে বলে জানিয়েছে কলকাতার পত্রিকা আনন্দবাজার। কলকাতার আরেক দৈনিক বর্তমান জানিয়েছে, রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রশাসন। বন্যা পরিস্থিতির খোঁজখবর নিতে জেলা শাসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা ও স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এ সময় জানানো হয়, মালদা জেলায় নদীর পানি বাড়ছে।

‘ঘোলা জলে ডুবে আছে মুর্শিদাবাদ’ এক প্রতিবেদনে আনন্দবাজার জানায়, টানা সাত দিন বৃষ্টির পর মঙ্গলবার ঝলমলে রোদ ওঠে মুর্শিদাবাদের আকাশে। এ দিন বৃষ্টি না হলেও প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে লাগাতার বৃষ্টির প্রভাব অবশ্য টের পেয়েছে মুর্শিদাবাদের নদীনালাগুলো। মঙ্গলবার গঙ্গা ও ব্রাহ্মণী নদীর জল বিপত্সীমার ওপর দিয়ে বইছিল। ভাগীরথী ও দ্বারকা নদীর জল বিপত্সীমা প্রায় ছুঁই ছুঁই। তবে জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় ভয় অনেকটা কমেছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT