রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ১৬ আগস্ট ২০২২, ১লা ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

০৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নারীদের‘প্যানিক রুমে’আটকে নির্যাতন করতেন বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার ◈ ৭৫ বছর পর ভারত-পাকিস্তানের ২ ভাইয়ের দেখা ◈ পাবনা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালন ◈ শোক দিবসে কাঙালি ভোজের আয়োজনে আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০ ◈ বাংলাদেশ এশিয়া কাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে না ◈ পাপ থেকে বাঁচার উপায় জানালেন প্রভা ◈ শিশুটি চোখের সামনে বেঁচে ছিল, উদ্ধার করতে পারলাম না : রড মিস্ত্রী ইমরান  ◈ ডামুড্যা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ৪৭ তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন । ◈ জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ পাবনার দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত ◈ বঙ্গবন্ধু ছিলেন জাতীয় মানের নেতা, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি

পদোন্নতি না নিলে শাস্তি

প্রকাশিত : 06:12 AM, 22 September 2019 Sunday 562 বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

খাদ্য বিভাগের কোন কর্মকর্তা কর্মচারি পদোন্নতি নিতে না চাইলে তা আসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর দায়ে সরকারি চাকরি বিধি অনুসারে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই বিভাগের বদলী, পদায়ন, পদোন্নতিসহ যাবতীয় কর্মে তদবিরে অতিষ্ঠ হয়ে নতুন করে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। আর তাতেই এমন শান্তির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। আর্থিক দুর্নীতির কারণে বিচারে যার কাছ থেকে সরকারি অর্থ আদায়ের আদেশ রয়েছে অথবা গুরুদণ্ডে দন্ডিত হয়েছেন এমন কোন কর্মকর্তাকে সরকারি গুদামের ইনচার্জ, বড়গুদামের ম্যানেজার কিংবা সাইলোতে কোন ভাবেই পোস্টিং দেওয়া যাবে না। নতুন এই নীতিমালা খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিগণের বদলী, পদায়ন নীতিমালা-২০১৯ নামে অভিহিত হবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) নাজমান আরা খানম বলেন, সরকারি চাকরিতে বদলির তদবিরের প্রথা প্রচলিত আছে। সরকারের অন্যান্য বিভাগের বদলি আর খাদ্য বিভাগের বদলি এক নয়। খাদ্য বিভাগের বদলির সঙ্গে সরকারি স্বার্থ জড়িত থাকে। এ কারণে এই বিভাগের বদলিকে আমরা ভিন্ন চোখে দেখি। এখানে বদলির তদবিরের চাপ অন্য যে কোন বিভাগের চেয়ে একটু হলেও বেশি। বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে আমরা নীতিমালা হালনাগাদ করতে বাধ্য হয়েছি। তাছাড়া খাদ্য বিভাগের গুদাম কর্মকর্তারা পদোন্নতি নিতে চান না। পদোন্নতি হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে কর্মকর্তা কর্মচারিদের জন্য দেওয়া একটি সম্মান ও মর্যাদা। এতে তিনি সামাজিক ও আর্থিকভাবে লাভবান হন। এখন থেকে পদোন্নতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যে পদোন্নতি নেবেন না, তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত পরিচালক, সাইলো অধীক্ষক সমমান,তদুর্ধ পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা পর্যায়ের অফিস প্রধান কর্মকর্তা এবং নবম গ্রেড বা তদুর্ধ গ্রেডের সকল ক্যাডার কর্মকর্তাকে বদলি, পদায়ন করবে খাদ্য মন্ত্রণালয়। জেলা পর্যায়ের অফিস প্রধান, অধিদপ্তরের নবম গ্রেড বা তদুর্ধ ক্যাডার কর্মকর্তা ছাড়া অন্যান্য কর্মকর্তা, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অথবা সমমানের নবম গ্রেডের কর্মকর্তা, এ ও বি গ্রেডের এলএসডি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সিএসডি’র ম্যানেজার, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের সকল কর্মচারির আন্তবিভাগীয় বদলী, পদায়ন করবে খাদ্য অধিদপ্তর।

ইতিপূর্বে এলএসডি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অনেক পদে কর্মরতদের বদলী করতেন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা(আরসি-ফুড)। খাদ্য পরিদর্শক ও সমমানের কর্মকর্তা এবং সি গ্রেডের এলএসডি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বদলী, পদায়ন করবেন আরসি-ফুডরা। ১১তম থেকে ২০ গ্রেডের কর্মকর্তা কর্মচারিদের আন্ত:জেলা বদলীর কাজ করবেন আরসি-ফুডরা। জেলার অভ্যন্তরে খাদ্য পরিদর্শক সমমান ছাড়া ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারিদের বদলি করবেন ডিসি-ফুডরা।

নতুন এই নীতিমালার শুরুতেই বলা হয়েছে, অনেক কর্মকর্তাকে বদলির আদেশ জারি করা হলেও তারা নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে চান না। নতুন কর্মস্থলে যোগদানে তারা অনীহা প্রকাশ করেন। যেন বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে না হয় সে জন্য অহেতুক কালক্ষেপন করেন। বদলির আদেশ বাতিলের জন্য অযাচিত তদবির করেন।

কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লিখিত কর্মের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। উল্লিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত খাদ্য অধিদপ্তরের ক্যাডার নন ক্যাডার কর্মকর্তা কর্মচারিদের বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং শৃঙ্খলা আনতে এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হলো। নীতিমালার শেষ পর্যায়ে তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বদলির আদেশ জারির সাত কর্মদিবসের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। তা না হলে সাতদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন। অর্থাৎ স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। কেউ বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করলে তিনি কর্তৃপক্ষের আদেশ লঙ্ঘন করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যা তার সার্ভিস জীবনের জন্য একটি নেতিবাচক দিক হিসেবে গণ্য হবে।

নীতিমালার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, একই কর্মস্থলে ধারাবাহিকভাবে দুই বছর দায়িত্ব পালন করলে তার চাকরি বদলিযোগ্য হবে। একই কর্মস্থলে কোন কর্মচারিকে তিন বছরের বেশি নিয়োজিত রাখা যাবে না। পার্বত্য ও দূর্গম এলাকায় যারা দায়িত্বপালন করবেন সমগ্র চাকরি জীবনে চার বছরের বেশি দায়িত্বপালন করবেন না।

তবে নীতিমালার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের ‘খ’ অংশে বলা হয়েছে জনস্বার্থে অথবা প্রশাসনিক প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ যে কোন সময় যে কাউকে যে কোন স্থানে বদলি করতে পারবেন। এই ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করলেও জনস্বার্থের কোন সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। কী কী কারণকে জনস্বার্থ হিসেবে গণ্য করা হবে তা উল্লেখ না থাকা নীতিমালার চরম দূর্বলতা বলে মনে করছেন খাদ্য বিভাগের সাবেক এবং বর্তমান কর্মকর্তারা।

নীতিমালা অনুসারে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকে (আরসি-ফুড) নিজ বিভাগে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে (ডিসি-ফুড) নিজ জেলায়, নবম গ্রেডের ক্যাডার এবং নন ক্যাডার পদে সিএসডি ম্যানেজার, এলএসডি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিজ জেলায় নিয়োগ দেওয়া যাবে না। দশম থেকে থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের নিজ উপজেলায় পোস্টিং দেওয়া যাবে না। তবে যার বয়স ৫৮ বছর তাকে নিজ উপজেলায় বদলি করা যাবে। কোন কর্মকর্তা কর্মচারি লঘুদণ্ডে দণ্ডিত হলে, দণ্ড আরোপের পর থেকে এক বছর অতিক্রান্ত না হতে পুনরায় তাকে এলএসডি, সিএসডি, অথবা সাইলোতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT