রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ১৭ মে ২০২১, ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৬:০১ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ লোহাগড়ায় ১৭ই মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত ◈ কালিহাতী থানায় নতুন ওসির যোগদান ◈ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ২৪০ বস্তা চাল জব্দ, আটক-১ ◈ নওগাঁর আত্রাইয়ে শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদককে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা ◈ ঈদ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ,বড় দল বনাম ছোট দল, বিশেষ আকর্ষণ দেশের দ্রুত তম মানব ইসমাইল ◈ বিরলে শেখ হাসিনা’র স্বদেশ-প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে যুবলীগের দোয়া ও খাদ্য বিতরণ ◈ বুড়িচং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের মতবিনিময় সভা অনষ্ঠিত ◈ মতিন খসরু’র স্মরণ সভা ও পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত ◈ স্ত্রী কানিজ ফাতিমা হত্যায় আটক সেনা সদস্য স্বামী রাকিবুলের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ◈ বাঁশখালীতে বেড়াতে আসা তরুণীকে ধর্ষণ করে আবারো আলোচনায় সেই নূরু
ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ আ.লীগের সম্মেলন ৩০ নভেম্বর

নেতৃত্বে আসছে নতুন মুখ

প্রকাশিত : ০২:২৬ AM, ২৮ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার ১৩১ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আগামী ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সাত বছর পর অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব পাবে শাখা দুটি। সম্মেলনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিদায় ঘটছে। তাদের স্থানে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব আসবে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সম্প্রতি ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্যাসিনো ব্যবসাসহ নানা অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নাম উঠে আসে। আটক ও পলাতক রয়েছেন কয়েকশ নেতা।

এরপর সহযোগী সংগঠনগুলোতে বিতর্কমুক্ত নেতৃত্ব আনতে জাতীয় সম্মেলনের উদ্যোগ নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রধান সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সহযোগী সংগঠনের মতো মূল দল আওয়ামী লীগের বিতর্কিত, চাঁদাবাজ ও হাইব্রিড নেতাদের ছেঁটে ফেলতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার প্রতিফলন ঘটবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম শক্ত স্তম্ভ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগে। দলের জন্য নিবেদিত, ত্যাগী এবং ক্লিন ইমেজের নেতাদের দায়িত্বে আনা হবে।

আগামী ৩০ নভেম্বর একই মঞ্চে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে সম্মেলনকে সামনে রেখে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। দুই মহানগর কমিটির বিশেষ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত উপ-কমিটিগুলো নিজেদের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এনেছেন। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের মূল আয়োজন করা হচ্ছে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার কারণে মঞ্চ ও গোটা সোহরাওয়ার্দী ঘিরে নানা ধরনের ব্যতিক্রমী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মঞ্চ ও সাজ-সজ্জা কমিটি। প্রস্তুত করা হয়েছে কাউন্সিলরদের তালিকা। ডেলিগেট কার্ড ও আমন্ত্রিত অতিথির আমন্ত্রণপত্র বিতরণ শুরু হয়েছে।

সম্মেলন প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। নৌকার আদলে তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন মূল মঞ্চ। বর্ণিল সাজে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও আশপাশে সাজানো হবে।

আওয়ামী লীগ সূত্র মতে, টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গত ১১ বছরে দেশে উন্নয়ন হয়েছে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কিন্তু সরকার দলীয় এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসী রাজনীতির কারণে সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মিলিয়ে যাচ্ছে। যার কারণে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালনের আগেই দল ও সরকারকে পরিচ্ছন্ন ইমেজে আনতে অনড় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তৃণমূল থেকে কেন্দ্র প্রতিটি সংগঠনে সম্মেলনের মাধ্যমে ত্যাগী, মেধাবী, পরিচ্ছন্ন নেতাদের আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। একই সঙ্গে দলের মধ্যে থেকে যারা প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে অর্থ লোপাট করেছেন তাদের মূল উৎপাটন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যার ফলশ্রুতিতে দেশব্যাপী শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন।

সূত্র আরও জানায়, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতি মানেই প্রভাব আর বিত্তশালী বনে যাওয়া। দলীয় পদের প্রভাবে অবৈধ ব্যবসা, দখল আর চাঁদাবাজি করে অঢেল সম্পদ গড়েছেন অনেকেই। চলমান শুদ্ধি অভিযানে আটক বেশ কয়েকজনের মাধ্যমে তার প্রমাণ মেলে।

আটককৃতরা ছাড়াই দলীয় পদের প্রভাবে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন, এমন নেতার ছড়াছড়ি দুই মহানগরেই। যার কারণে দুই মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতেই নেতৃত্বে গুণগত পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা। বর্তমান নেতৃত্ব থেকে অনেকেই বাদ পড়ছেন আর দলের মধ্যে থেকেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত করা হবে।

সম্মেলনকে সামনে রেখে দলটির শীর্ষ পদে আসতে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দলটির ত্যাগী, পরিশ্রমী ও ক্লিন ইমেজের নেতারা। সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থাকতে দলটির হাইকমান্ডের দায়িত্বশীল নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। ওইসব পদপ্রত্যাশী ও সমর্থকদের পদচারণায় মুখরিত ধানমন্ডিস্থ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগে সভাপতির আলোচনায় আছেন, শেখ বজলুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও সাদেক খান। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ কাদের খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ওয়াকিল উদ্দিন, এস এম মান্নান কচি ও হাবিব হাসান। নতুন পদপ্রত্যাশীদের পাশাপাশি ফের দায়িত্ব পেতে কাজ করছেন বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।

আলোচনায় থাকা ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে মোহাম্মদপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া উত্তর মহানগরের রাজনীতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও শক্ত অবস্থান গড়েছেন। তাকে সভাপতি দেখতে প্রচারণা চালাচ্ছেন অনুসারীরা।

উত্তরের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এবার আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির অর্থ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. ওয়াকিল উদ্দিন। গুলশান, বনানী, বারিধারা, ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা, বাড্ডা, রামপুরা ও মহাখালীসহ মহানগর উত্তরে শক্ত অবস্থান রয়েছে তার।

ওয়াকিল উদ্দিন দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। পরিচ্ছন্ন এবং ত্যাগী নেতা হিসেবে দলের হাইকমান্ডের সুনজরে রয়েছেন তিনি। জানতে চাইলে মো. ওয়াকিল উদ্দিন বলেন, দল ও আদর্শ সব সময় মেনে রাজনীতি করে আসছি। নেত্রী সুযোগ দিলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবো।

সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও বিজিএমইর নেতা এস এম মান্নান কচি অবিভক্ত ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতির এই দীর্ঘ সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যার ফলে মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে তার আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন— সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মেয়র সাঈদ খোকন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি, কাউন্সিলর আবু আহমেদ মান্নাফী, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, মো. হুমায়ুন কবির। সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু, বর্তমান সহ-সভাপতি আওলাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শেদ কামাল, যুগ্ম সম্পাদক ডা. দিলীপ কুমার রায়, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ওমর বিন আজিজ, উপদপ্তর সম্পাদক মিরাজ হোসেন। এর বাইরে বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও আলোচনায় আছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, সম্মেলনে পরিবর্তন আসাটা স্বাভাবিত। তবে এবার বিষয়টা একটু ভিন্ন। নেত্রী কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন, বিতর্কিতরা কেউ দায়িত্বে আসবে না। স্বচ্ছ, সৎ, দক্ষ, দুর্নীতিমুক্ত নেতারাই দায়িত্বে আসবে।

সর্বশেষ ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময়ও একীভূত মহানগর কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ৩ বছর পর ২০১৬ সালে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাজি আবুল হাসনাত এবং সাধারণ সম্পাদক হন শাহে আলম মুরাদ। আর উত্তর আওয়ামী লীগে একেএম রহমত উল্লাহ সভাপতি এবং সাদেক খান সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT