রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৭:৪৯ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ পত্নীতলায় করোনা সচেতনতায় নারীদের পাশে তথ্য আপা ◈ ফুলবাড়ীয়া ২ টাকার খাবার ও মাস্ক বিতরণ ◈ কাতারে ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের দোয়া মাহফিল ◈ হাসিবুর রহমান স্বপন এমপির রোগ মুক্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত ◈ দৈনিক আলোকিত সকালের ষ্টাফ রিপোর্টার আশাহীদ আলী আশার ৪৩তম জন্মদিন পালিত ◈ সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফুটবলার রফিকুল ইসলাম স্মরণে দোয়া ও মিলাদ আজ ◈ লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ও‌সির পুরস্কার পে‌লেন ও‌সি আবদুল জ‌লিল ◈ কাতার সেনাবাহিনীর বিপক্ষে বাংলাদেশের পরাজয় ◈ সম্প্রীতির হবিগঞ্জ সংগঠনের জেলা শাখার সিনিয়র সদস্য নির্বাচিত হলেন শাহিনুর রহমান ◈ ডুমুরিয়ায় আওয়ামীলীগ নেতা গাজী আব্দুল হাদি’র স্মরণ সভা

নিষ্ক্রিয় জামায়াতে বাড়ছে বিভক্তি

প্রকাশিত : ০৯:১৭ AM, ১ অক্টোবর ২০১৯ Tuesday ৯৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা এবং গণহত্যা-ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামী। শুধু ১৯৭১ নয়, আজন্ম বিতর্কই সঙ্গী ধর্মভিত্তিক দলটির। ১৯৪১ সালে মাওলানা মওদুদীর হাতে প্রতিষ্ঠিত দলটি নানা প্রক্রিয়া ও উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে জামায়াতে ইসলামী, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, সর্বশেষ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নাম ধারণ করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হলেও সম্প্রতি দলটি ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধে দলের শীর্ষ নেতাদের বিচার ও বিগত বছরগুলোতে জামায়াতের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কারণে সাংগঠনিকভাবে কোণঠাসা দলটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কড়া নজরদারির কারণে প্রকাশ্যে তেমন কোনো রাজনৈতিক তৎপরতা নেই সংগঠনটির। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার কারণে দলের পুরনো নেতৃত্বের সঙ্গে নতুনদের বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। জামায়াতের সংস্কারপন্থিরা নতুন দলের ঘোষণাও দিয়েছে। এ রকম নিষ্ক্রিয় দলে নেতাদের উঁচুদরের বেতন-ভাতা নেওয়া নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এ ইস্যুতে নিষ্ক্রিয় জামায়াতে বিভক্তি বেড়েই চলেছে।

জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, সংকটে জর্জরিত দলটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি এখন মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। রাজনীতির মাঠে সক্রিয় না থেকেও দলের নেতারা অনুদানের লাখ লাখ টাকা মাসিক ভাতা হিসেবে নিচ্ছেন। এ বিষয়টি ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মাঝে জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

গত বুধবার জামায়াতের মহানগর পর্যায়ের একজন নেতা সাবেক নেতা এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া দিগন্ত টেলিভিশনের একজন নির্বাহী ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। মামুন মাহফুজ নামে ওই নেতা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বেতন কত? আমিরে জামায়াতের ভাতা তার চেয়েও বেশি। মাত্র ২ লাখ! ফেনীর জেলা আমিরের ভাতা এক লাখ ৮০ হাজার, চট্টগ্রামের একজন থানা আমিরের ভাতা ৫৫ হাজার। অথচ জানেন, কুষ্টিয়ার সাবেক এমপি আবদুল ওয়াহেদ মাত্র তিন হাজার টাকা ভাতা নিয়ে সংসার চালাতেন। তার স্ত্রী সেলাইর কাজ করে কত কষ্টে সংসার চালিয়েছেন। সে দিনের সংগঠন আর আজকের সংগঠন…কত তফাৎ! আজ সংগঠনের কত জৌলুস। কত টাকা। আলহামদুলিল্লাহ। ভাই ও বোনেরা বেশি বেশি দান করবেন। আপনাদের গহনা থেকে শুরু করে মুষ্টি চাল, যার যা আছে সব সংগঠনকে দান করবেন। তারপর সরাসরি জান্নাতে চলে যাবেন। ফ্রি ভিসা…।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামুন মাহফুজ খোলা কাগজকে বলেন, জামায়াতের এক শ্রেণির নেতা এখন লুটেরার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। রাজনীতির মাঠে না থেকেও দলের ইয়ানতসহ (চাঁদা) বিভিন্ন উৎস থেকে আসা টাকা প্রতি মাসে ভাগ করে নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ের একজন আমির এক লাখ থেকে দুই লাখ এবং উপজেলা পর্যায়ের নেতারা ৫০-৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসিক ভাতা পাচ্ছেন। জামায়াত নেতাদের নিজেদের মধ্যে আর্থিক শুদ্ধি অভিযান চালানো উচিত বলে পরামর্শ দেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির একজন রোকন বলেন, জামায়াত নিয়ন্ত্রিত দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকার বন্ধ করে দিলেও গত এক দশকে দলটির এককালীন অনুদান বেড়েছে। এর বড় অংশই আসছে ইউরোপ, আমেরিকা, সৌদি আরব, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ও তুরস্ক থেকে। কিন্তু বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থের প্রায় বেশির ভাগ অংশই চলে যাচ্ছে বেতনভুক্ত নেতাদের পকেটে। ফুলটাইম নেতাদের চাহিদায় কেন্দ্রীয় বায়তুল মালের (কোষাগার) প্রায় পুরো অংশই ব্যয় হচ্ছে। এর বড় অংশ ব্যবহার হচ্ছে কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেতাদের ভরণপোষণে। দলের দুঃসময়ে প্রাপ্ত অর্থের বেশির ভাগ নেতাদের পেছনে ব্যয় হওয়ায় সাধারণ কর্মী-সমর্থক-ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তার আশঙ্কা, জামায়াতের এ ধরনের চর্চা আগামী দিনে দ্বন্দ্ব ও বিরোধ বাড়াবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিবিরের একজন সাবেক নেতা বলেন, মামলার দোহাই দিয়ে জেলা আমিরের অনেকেই কেন্দ্র থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা লুটপাট করছেন। যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার দেখভাল করার নামে কেন্দ্রীয় প্রচার ও আইন বিভাগের একজন নেতা বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এমন অভিযোগ তোলেন তিনি।

এ অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ও ট্রাইব্যুনালের মামলা দেখভালকারী আইনজীবীদের একজন মতিউর রহমান আকন্দ খোলা কাগজকে বলেন, আমি দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একজন আইনজীবী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে দলীয় নেতাদের পক্ষে আইনি লড়াই করছি। আমার সঙ্গে অনেকেই আছেন। এ ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। কেননা, এ বিষয়টা সরাসরি দলের সেক্রেটারি জেনারেল তদারকি করেন। তা ছাড়া ট্রাইব্যুনালের কাজ হয়েছে ২০১৬ সালে এখন কেন এসব নিয়ে কথা উঠছে?

দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মাসিক মোটা অঙ্কের ভাতা ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী একটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমী সংগঠন। সংগঠনের কেউ নিয়মিত বেতনভোগী নন। যদি কেউ এমন অভিযোগ করে থাকেন তাহলে এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT