রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০২:০৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ করোনার দ্বিতীয় টিকা নিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান – মোফাজ্জল হোসেন খান ◈ কাভার্ডভ‌্যান চাপায় না.গ‌ঞ্জ সিআইডির কন‌স্টেবল নিহত ◈ নারায়ণগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে মিলছে দুধ ডিম মাংস ◈ ধামইরহাটে নর্থওয়েষ্ট ক্যাবল নেটওয়ার্কে তালা, ভোগান্তিতে স্যাটেলাইট গ্রাহকরা ◈ ধামইরহাটে ২য় ধাপের করোনা মোকাবিলায় তৎপর প্রশাসন করোনায় আক্রান্ত স্বাস্থ্য প্রশাসক ও মুক্তিযোদ্ধা আইসোলেশনে ◈ দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিলেন  গৌরীপুরের গণমাধ্যমকর্মীরা ◈ ইউএনও’র মোবাইল নাম্বার ক্লোন করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টাকা দাবি ! ◈ রাজারহাট উপজেলা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর শুভ উদ্বোধন ◈ শ্রীনগরে বাড়ৈগাঁও-পশ্চিম নওপাড়া সড়কটি এখন মৃত্যুকুপ! ◈ তিতাসে গোমতী নদীর পাড় ও ডিম চরের মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়

‘নাগা মরিচ চারায়’ রাজিয়ার ভাগ্য বদলের চেষ্টা

প্রকাশিত : ০২:০৬ AM, ১৫ অগাস্ট ২০১৯ বৃহস্পতিবার ৩৫২ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

নাগা মরিচ চারা উৎপাদন করে রাজিয়া নামে এক গৃহবধূ নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন।

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার ফয়জাবাদ পাহাড়ে অবস্থিত সরকারি আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দা তিনি। স্বামীর নাম ফুল মিয়া। তিন ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তার সংসার। অভাব অনটন সবসময় লেগেই থাকতো তার সংসারে। কিন্তু নিজের মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে রাজিয়া সেই অভাবকে জয় করেছেন। এখন তিনি এলাকায় এক সফল নারী চাষি।

রাজিয়া সমবায় সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে শুরু করেন নাগা মরিচের চারা উৎপাদনের কাজ। এ চারা লেবু বাগানের চাষিরা ক্রয় করেন। চারাগুলো লেবু গাছের নিচে রোপণ করে চাষিরা মরিচের বাম্পার ফলন পান। সেই থেকে পাহাড়ি লেবু বাগানে ব্যাপকভাবে চাষ হয়ে আসছে এই নাগা মরিচ।

রাজিয়া খাতুন প্রতিটি মরিচের চারা ৪ টাকায় বিক্রি করেন। বর্তমানে তিনি বছরে প্রায় এক লাখ নাগা মরিচের চারা বিক্রি করেন। এতে করে তার বছরে ৪ লাখ টাকা আসে। এতে কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা লাভ হয়। এ দিয়ে তিনি সংসার চালান। বাড়তি টাকায় জমি ক্রয় করেছেন। তার সাথে সাথে সংসারে ফিরেছে সুদিন।

আশ্রয়ণ পরিদর্শনকালে দেখা যায়, রাজিয়া খাতুন ঘরের নিকটে নাগা মরিচের নার্সারিতে পরিচর্যায় ব্যস্ত। আলাপকালে তিনি জানান, গোবর ও মাটি মিশ্রিত করে বীজ বপণ করেন। প্রায় এক সপ্তাহে চারা ফুটে যায়। তারপর পরিচর্যার মাধ্যমে চারা বড় হয়। রোপণের উপযুক্ত হলে বিক্রি শুরু হয় চারা।

বিশেষ করে এ চারা লেবু চাষিরা বেশি ক্রয় করেন। প্রতিটি লেবু গাছের নিচে নিচে এ চারা রোপণের কিছুদিন পরেই নাগা মরিচ আসে।

প্রতিটি গাছ কমপক্ষে দুই বছর ফসল দেয়। তবে ভাল পরিচর্যা করলে তিন বছরও ফসল পাওয়া সম্ভব। মূলত এই চারা বিক্রির টাকায় তার সংসার চলে।

তিনি আরো বলেন, নিজস্ব পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারায় বাহুবলের পাহাড়ি অঞ্চলে নাগার বাম্পার ফলন পেয়ে লেবু চাষিরাও লাভবান। সেই সাথে তিনিও এ চারা বিক্রি করে ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছেন। যার ফলে সফলতাও পাচ্ছেন।

লেবু চাষি শাহজাহান মিয়া বলেন, রাজিয়া খাতুনের উৎপাদিত চারায় নাগা মরিচের ভাল ফলন পেয়েছি। তাই লেবু চাষিরা তার (রাজিয়া খাতুন) কাছ থেকে এ চারা ক্রয় করছেন। অন্যান্য চাষিও সফলতা পেয়েছেন। তাই নাগা মরিচ চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, রাজিয়া খাতুন নাগা মরিচের চারা বিক্রি করে নিজে লাভবান হয়েছেন। তেমনি লেবু চাষিরাও এ চারা রোপণ করে ভাল ফলন পান। পাহাড়ে এ ফসলটি বার মাস চাষ হচ্ছে। এই চাষে কেমিক্যাল প্রয়োগ করতে হয় না। বিষয়টি সত্যিই চমৎকার।

তিনি আরো বলেন, এ নারী বাড়িতে বসেই নাগা মরিচের চারা উৎপাদন করে বছরে লাখ টাকা আয় করতে পারছেন। শুনে ভাল লাগছে।

তার ন্যায় বেকার নারীরা বাড়ি বাড়ি কৃষির মাধ্যমে কর্মসংস্থান গড়ে তুলবেন এই প্রত্যাশা করেন তিনি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT