রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৯:৫৬ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ রাজশাহীতে মানবাধিকার রক্ষাকারী নেটওয়ার্ক সভা ◈ রায়পু‌রে পুকু‌রে প‌ড়ে দুই শিশুর করুন মৃত‌্যু ◈ পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে কাতার প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন ◈ মহানবী (সাঃ)এর ব্যাঙ্গ চিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে,মধ্যনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত ◈ পত্নীতলায় আমণের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ◈ ধামইরহাটে মজিবুর রহমান স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ◈ ঘাটাইলে ঝুকি নিয়ে চলছে এলপি গ্যাসের ব্যবসা ◈ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)কে উদ্দেশ্য করে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ◈ কটিয়াদীতে মাটি খুঁড়ে একই পরিবারের ৩ জনের লাশ উদ্ধার, ভাই বোন সহ আটক ৪ ◈ ফ্রান্সে মহানবী  (সাঃ) এর ব্যঙ্গচিত্রর  প্রতিবাদে পত্নীতলায়  বিক্ষোভ সমাবেশ
মোহামেডান-আরামবাগসহ চার ক্লাবে পুলিশের অভিযান

নজরদারিতে ক্যাসিনো গডফাদাররা

প্রকাশিত : ০৭:৩৫ AM, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Monday ২৩৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের হোতারা বড়ই খারাপ সময় পার করছেন। একের পর এক অবৈধ ক্যাসিনো ও নানা অপকর্মবিরোধী অভিযানের কারণে এক শ্রেণির প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারাও এখন গর্তে ঢুকে গেছে। যাদের ভয়ে কদিন আগেও বিভিন্ন খাত (সেক্টর), সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ও এলাকার মানুষ তটস্থ থাকত তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তবে ক্যাসিনোর গডফাদারদের অবস্থানের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় রোববারও রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় মোহামেডান, আরামবাগ, দিলকুশা ও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে জুয়া বা ক্যাসিনোর সরঞ্জামসহ নানা সামগ্রী।

এসব ক্যাসিনোর ভেতরটায় এমন সাজসজ্জা ছিল যে চোখ আটকে যাওয়ার মতো অবস্থা। তবে অভিযানকালে কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। গতকাল যে চারটি ক্লাবের ক্যাসিনোতে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে সেসব ক্লাব থেকে মতিঝিল থানার দূরত্ব খুবই কম। বলতে গেলে পুলিশের নাকের ডগায় বা থানার পাশেই গড়ে উঠেছিল এসব অবৈধ ক্যাসিনো। গত কয়েক বছর ধরে এসব ক্যাসিনোতে অপকর্ম চলে এলেও পুলিশ নাকি এসব বিষয়ে আগে জানতোই না। আগে নাকি চোখেই পড়েনি। অথচ স্থানীয় পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এসব ক্যাসিনো থেকে মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তারপরও রোববার এসব ক্যাসিনোতে অভিযানের পর সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ক্যাসিনো ক্লাবের এসব অপতৎপরতার নেপথ্যের হোতা হিসেবে রয়েছেন যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, মমিনুল হক সাইদ, মোহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের লোকমান হোসেন ভুঁইয়া, খালেদ ভুঁইয়া ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা মোল্লা আবু কাওসারসহ বেশকিছু প্রভাবশালী নেতা। খালেদ এরই মধ্যে গ্রেফতার হলেও অনেকেই নিজেদের বাঁচাতে নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন। কেউ কেউ অসুস্থতা দেখিয়ে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছেন। অনেকেই ক্ষমতাসীন বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রীদের হাতে রাখার চেষ্টা করছেন। তবে কোথাও সেভাবে পাত্তা পাচ্ছেন না তারা।

কেননা স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবৈধ এসব কারবার, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। অপকর্মে জড়িত নিজ দলের কতিপয় রাঘব বোয়ালদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর এ কঠোর অ্যাকশনের কারণে সারা দেশে সাধারণ মানুষের মনে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে এসব র‌্যাব ও পুলিশের এসব অভিযান।

পুলিশের নাকের ডগায় ছিল ক্লাব-ক্যাসিনো : মতিঝিল থানার অদূরেই আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের অবস্থান। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এ চারটি ক্লাবেরই নিয়ন্ত্রক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। এসব ক্লাবে দিন-রাত জুয়া, মদ ও ক্যাসিনো চলত। ক্লাবগুলো খেলাধুলার চেয়ে বর্তমানে জুয়া-ক্যাসিনোর কারণেই বেশি আলোচিত। থানার পাশে হওয়ায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এতদিন কীভাবে চলেছে এসব ক্লাবের ক্যাসিনোগুলো। অভিযোগ রয়েছে, এসব ক্লাবে অনেক সময় বাইরে পুলিশের প্রহরাও দেখেছেন স্থানীয়রা। ফলে পুলিশসহ বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করেই এত দিন ক্যাসিনোগুলো চালানো হয়েছে বলেই ধারণা করেন সাধারণ মানুষ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের কাছে খবর আসা মাত্রই অভিযানে এসেছি। কতদিন ধরে চলছে, কারা এর সঙ্গে জড়িতÑ এসব বিষয় তদন্ত করে দেখব। চারটি ক্লাবই পুলিশের নাকের ডগায় ছিল, এটা অস্বীকারের কোনো উপায় নেই। তবে আমরা জানা মাত্রই অভিযান শুরু করেছি। ক্যাসিনো পরিচালনা করা অবৈধ। এখান থেকে যাদের নাম আসবে তারা যতই প্রভাবশালী হোক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

চারটি ক্লাবের ক্যাসিনোতে অভিযান : রোববার বিকালে অভিযান শুরুর পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ক্যাসিনো হলে কারুকার্য খচিত কাঠের দরজা। সেই দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই পাশে অভ্যর্থনা ডেক্স। ডেক্সের সামনে অভ্যন্তরীণ সরু গলিতেই চোখে পড়ল ভিআইপিদের জন্য আলাদা কক্ষ। সেই কক্ষে দুটি করে ক্যাসিনো বোর্ড। ক্যাসিনোর ইলেক্ট্রনিক্স বোর্ডও চোখে পড়লো সেখানে। বোর্ডের চারপাশে বিভিন্ন রঙ-বেরঙের বাতি বসানো। আরেকটি কক্ষে দরজায় লেখা ‘ভিআইপি’। তার ভেতরেও বিশাল ক্যাসিনোর বোর্ড। প্রতিটি কক্ষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। দেওয়ালের ফাঁকে ফাঁকে বড় বড় আয়না আর বিদেশি নারীর আবেদনময়ী ও ক্যাসিনো খেলার দৃশ্য সংবলিত ছবি টাঙানো।

এক পাশে ক্যাশিয়ারের কক্ষ। কক্ষটি কাচঘেরা। ক্যাশিয়ারের কক্ষে ক্যাসিনোর অসংখ্য চিপস, মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্যাসিনো খেলার লুজারদের ভাউচার, টাকাপয়সা, টাকা গণনার তিনটি বড় বড় মেশিন। ছোট ছোট লকার, চোখ জুড়ানো জুয়ার দুটি চরকি, ক্যাসিনোর বড় বড় লাল বোর্ড। পুরো ঘরে জ্বলছে বিভিন্ন রঙের বাতি। সব মিলিয়ে এ যেন অন্য কোনো এক জগৎ, অন্যরকম এক পরিবেশ। যা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হওয়ার কথা নয়। রোববার বিকালে যখন অভিযান শেষ করা হয় তখন উদ্ধারকৃত জিনিসপত্র জব্দের প্রস্তুতি চলছিল। পুলিশ পুরো কক্ষটিকে ঘিরে রাখে। এরই ফাঁকে গণমাধ্যমকর্মীসহ উৎসুক অনেকে ছবিও তুলছিলেন। ক্যাসিনো বোর্ডের চরকি, বোর্ডগুলোর সঙ্গে অনেকে সেলফিও তুলছেন। পুরো কক্ষেই উৎসুক জনতার ভিড়ে সিজার তালিকা তৈরি করছে পুলিশ। প্রতিটি ক্লাবের বাইরে ছিল বিপুল মানুষের ভিড়। তবে ক্লাবগুলোর ভেতরে প্রবেশে পুলিশ কাউকে তেমন বাধা দেয়নি।

মোহামেডান ক্লাবটিতে আরও দেখা গেছে, ক্যাশিয়ারের কক্ষের সামনে কাচের গøাসে ঝুলছে ক্যাসিনোর নিয়ম সংবলিত নোটিস। সেই নোটিসে লেখা রয়েছেÑ ১০ হাজার থেকে ৪৯ হাজার পর্যন্ত ১০ শতাংশ লুজিং, এবং ১ লাখ টাকায় দেওয়া হবে ২০ শতাংশ লুজিং। কত টাকায় ক্যাসিনো খেলতে হবে, কী নিয়ম নানা তথ্য। ক্যাসিনোর টেবিলে কত টাকায় খেলা যাবে তার নোটিসও চোখে পড়ল। পাশের একটি কক্ষে দুটি জুয়ার দুটি বোর্ড। অনেকেই দেখছেন ও নাড়ছেন। মাঝখানে বিশাল কক্ষটির তিন কোনে বসানো হয়েছে ১০টি ক্যাসিনো বোর্ড। বড় বড় বোর্ডের একটিতে লেখা গোল্ডেন ঢাকা। এসব আলামত জব্দ করে পুলিশ তখন তালিকা তৈরি করছিল। তখন অবশ্য ক্যাসিনোর বেশ কিছু বোর্ড জব্দ করে সেগুলো গুটিয়ে রেখেছে পুলিশ।

অন্যদিকে ভিক্টেরিয়া স্পোটিং ক্লাবে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাবের বড় হলরুমের মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ক্যাসিনোর চিপস। ছয়টি ক্যাসিনোর টেবিল। এ টেবিলগুলোতেই খেলা হতো জুয়া ও ক্যাসিনো। টেবিলের ওপরে পুলিশ বিভিন্ন ক্যাসিনোর খেলার বিভিন্ন সরঞ্জাম সাজিয়ে রেখেছে। এক কোণে ক্যাশিয়ারের রুম। ক্যাশিয়ারের রুমে বিভিন্ন চিপস, সিল ও জুয়ার কার্ড রাখা। ভিআইপিদের জন্য এক কোণে ভাগ দিয়ে দুটি কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। সেখানেও রাখা হয়েছে একটি করে ক্যাসিনোর টেবিল ও চেয়ার। ক্যাশিয়ারের কক্ষের ভেতরে গিয়ে দেখা গেল, জুয়া ও ক্যাসিনোর খেলার কার্ড এবং চিপসগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। কোনোটা মেঝেতে পড়ে আছে কোনোটা সাজিয়ে রাখা হয়েছে টেবিলের ওপরে।

তবে এ টেবিলের একটিতে মিলল কোন খেলোয়াড় কত টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং কত টাকা নিয়ে খেলার পর চলে গেছে। ক্লাবটির ভেতরের চারপাশের দেওয়াল জুড়ে ক্যাসিনোর খেলার দৃশ্য সংবলিত বড় বড় ছবি। রয়েছে পুরো ঘর জুড়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রও। সব মিলিয়ে কী নেই এই ক্লাবে। ঘরের পরিবেশকে ঠিক রাখতে প্রতি দশ থেকে পনের ফুট পরপর এয়ার পিউরিফায়ারও মেশিন রয়েছে। তিনটি রুমের সামনে লেখা প্রবেশ সংরক্ষিত। বোঝাই যাচ্ছে, এ রুমগুলোয় বসতেন নিয়ন্ত্রকরা। তবে ভিআইপিদের একটি কক্ষে মিলল কৃষ্ণা নামের এক ব্যক্তির ভিজিটিং কার্ড। তাতে তার মোবাইল নাম্বার ও টেলিফোন নাম্বার দেওয়া আছে। সঙ্গে রয়েছে মেইল ঠিকানাও। কিন্তু নম্বরগুলোতে ফোন করা হলেও বন্ধ পাওয়া গেছে। একইভাবে দিলকুশা ও আরামবাগ ক্লাবে গিয়েও ক্যাসিনো হলের অভিন্ন চিত্র লক্ষ করা যায়।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার ফকিরাপুলে ইয়ংমেন্স ক্লাবের ক্যাসিনোতে অভিযানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনোবিরোধী র‌্যাবের অভিযান। ওই রাতেই গ্রেফতার করা হয় ক্যাসিনো হোতা ও চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজ যুবলীগ নেতা খালেদ ভ‚ঁইয়াকে। এরপর বিপুল টাকা ও এফডিআর, অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেফতার হন আরেক মাফিয়া জিকে শামীম। তারপর গত শুক্রবার ঢাকার কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ও ধানমন্ডি ক্লাবেও অভিযান চালায় র‌্যাব। কলাবাগান ক্রীড়াচক্র থেকে ক্লাব সভাপতি কৃষক লীগ নেতা সফিকুল আলম ফিরোজ ওরফে সন্ত্রাসী কালা ফিরোজসহ পাঁচজনকে অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT