রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১১:২৬ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ মধ্যনগরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে ভিডিও প্রচার করায় ৫ যুবক গ্রেফতার ◈ চরফ্যাসনে গৃহবধুকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, থানায় সমঝোতা ◈ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা একজন শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী ◈ উলিপুরে গুনাইগাছে ১১৫ জন দুস্থ নারীর মাঝে ফুট প্যাকেজ বিতরণ ◈ নীলফামারীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারী বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ◈ হাজার বছর নয়-সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান —পুলিশ সুপার, নওগাঁ ◈ লালমনিরহাটে বার্তা বাজার এর ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত ◈ রূপগঞ্জে জালিয়াতি করে কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা ◈ কুড়িগ্রামে বিআরটিসি বাস ও প্রাইভেটকার মুখোমুখি সংঘর্ষে  নিহত ৪ ◈ সিরাজগঞ্জে অটোরিকশা চালককে শ্বাসরোধ করে হত্যা

ধামইরহাট উপজেলার ইতিহাস -ঐতিহ্য ও প্রাসঙ্গিক আলোচনায় অধ্যক্ষ মোঃ শহীদুল ইসলাম

প্রকাশিত : ০৯:০৩ PM, ১ জুলাই ২০২০ Wednesday ২৩৪ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ধামইরহাট উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে দৈনিক আলোকিত সকালকে  দেয়া বিশেষ স্বাক্ষাৎকারে অধ্যক্ষ  মো. শহীদুল ইসলাম বলেন…

ধামইরহাটের সন্তান এবং ইতিহাসের ছাত্র হিসাবে জন্মভূমির ইতিহাসঐতিহ্য সম্পর্কে আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। বরেন্দ্র ভূমির প্রাণকেন্দ্র এই অঞ্চলের গৌরবের অতীত সম্পর্কে বিশদভাবে জানার এবং সকলকে জানানোরএকান্ত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে হৃদয়গত এই বিষয়ে যথেষ্ট মনোযোগ দিতে পারিনি।ঐতিহাসিক কাজী মোহাম্মদ মিছের সম্পাদিতরাজশাহী জেলার ইতিহাসএবং অন্যান্য কিছু লেখা থেকে আমাদের প্রত্নস্থানগুলি সম্পর্কে অবহিত হয়ে ভীষণ অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। তখন থেকেই জগদ্দল মহাবিহার উৎখননের বিষয়টি আমাকে তাড়িত করত।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুবাদে তদানীন্তন বানিজ্য মন্ত্রী শ্রদ্ধেয় নেতা জলিল ভাইকে জগদল কলেজ মাঠের জনসভায় জগদ্দল মহাবিহার এর উৎখনন কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার অনুরোধের ফলশ্রুতিতেইআমাদের গৌরবের অতীত সকলের সামনে উন্মোচিত হয়েছে, যা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করি।


এরপর ২০১২ সালে ধামইরহাট উপজেলা প্রশাসন কর্তৃকউদ্ভাসনামের সঙ্কলন প্রকাশ কালে বিশেষ অনুরোধে একান্ত বাধ্য হয়েই একটি লেখা জমা দেই।ধামইরহাট উপজেলার ইতিহাসঐতিহ্য প্রাসঙ্গিক আলোচনাশিরোনামের লেখাটি প্রকাশিত হয়। লেখার মান যাই হোক, ধামইরহাটের নামকরণের আলোচনা সকলের কাছেই গ্রহনযোগ্য হয়েছে। অন্তত তারপর থেকে কেউই আরধামইরহাটেরস্হলেধামুরহাটউচ্চারণ করে না।এপ্রসঙ্গে সল্প পরিসরে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ধামইরহাটের নামকরণ কোন মৌজার নামে পরিচিতি লাভ করেনি। প্রাচীনকালে কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বিশেষ করে ধান পরিমাপের জন্য এই এলাকায় বেতের তৈরি ধামার কোন বিকল্প ছিলনা। ধামাসহ বাঁশ বেতের তৈরি পণ্য সামগ্রীর বেচাকেনার জন্য রবিবার দিনের সাপ্তাহিক হাটটিই প্রসিদ্ধি লাভ করায় ধামইরহাট নামের প্রচলন হয়েছে।
ইতোমধ্যে ধামইরহাটের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী,ভূমিপুত্র, জননন্দিত নেতা শহীদুজ্জামান সরকার এম,পি মহোদয়ের একান্ত প্রচেষ্টায়বরেন্দ্র চর্চা কেন্দ্র “– রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ধামইরহাটপত্নীতলা ; ইতিহাস ঐতিহ্যশিরোনামের একটি মূল্যবান গ্রন্থ প্রকাশ করে। গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছিল। গ্রন্থটি আমাদের এলাকার কয়েকজন গুনী, নিবেদিত প্রাণ পন্ডিতের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফসল। যা ইতিহাস পাঠক গবেষকদের জন্য অমূল্য দলিল হিসেবে আলোর পথ দেখাবে। এই গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক কালে সংস্কৃতিমনা কিছু তরুণ সমাজকর্মী এই এলাকার প্রচলিত আঞ্চলিক ভাষা ভিত্তিকহামরা ধামরের ছলব্যানারে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরম্ভ করেছে। মূল্যবোধের অবক্ষয়ের এই যুগে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে যারা এগিয়ে এসেছে তাদের সাধুবাদ জানাতেই হয়। তবে অতীত ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার প্রচেষ্টা থাকা বাঞ্ছনীয়। ভুলে যাওয়ার কথা নয়, এইতো সেদিন
২০১৮ সালে রাজধানী ঢাকা টাঙ্গাইল থেকে বাঙলা সাহিত্যের পন্ডিতগণ বিনা আমন্ত্রণে হঠাৎ করেই চর্যাপদ গীতির নাট্যদলসহ ধামইরহাট উপজেলায় উপস্থিত হয়ে সুধীজনের সামনে তাঁদের নৃত্য গীতির মনোমুগ্ধকর গীতি আলেখ্য উপস্হাপন করেছিলেন। সৌভাগ্যক্রমে আমি অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছিলাম। আমরা জেনেছি, জয়পুরহাট নওগাঁ জেলা সদরেও অনুরূপ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। সন্মানীয় অতিথি গনের আকাঙ্ক্ষা ছিল, যে পূন্য ভূমিতে বাঙলা সাহিত্যের আদি রূপ চর্যাপদ রচিত হয়েছিল,সেই পীঠস্থান রামচরিত মহাকাব্যের রচয়িতা সন্ধ্যাকর নন্দির ভাষায়– “মানুষের হৃদয়ের অনুরাগ বা শ্রদ্ধার কেন্দ্রস্হলজগদ্দল মহাবিহার এবং পাহাড়পুর বিহারের পাদদেশে তাঁদের নৃত্য গীতির মহরা প্রদর্শনের মাধ্যমে আমাদের সামনে পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া পত্নসম্পদে পরিপূর্ণ ভান্ডারের সিংহ দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া। আর আমরা যেন তা ধারণ লালন করি। ভাগ্য বিড়ম্বনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা জনিত সমস্যার কারণে সকল কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত করে তাঁরা ফিরে গেলেন। যেন দেবদূতের মতোই তাঁরা নিমিষেই অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমাদের পূর্বপরিচয় ; আমরা বরেন্দ্র জনপদের অধিবাসী। আমাদের আছে হাজার হাজার বছরের গৌরবের সোনালী অতীত সমৃদ্ধ ইতিহাস। এই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের সকলেরই পবিত্র দায়িত্ব। সেই মহান দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন ভূমির শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা,যাদের কথা পূর্বেই উল্লেখ করেছি। আসুন,আমরা তাদের নির্দেশিত পথ অনুসরণ করি। শুধু ধামইরহাটপত্নীতলা নয় সমগ্র বরেন্দ্র তথা বাঙালি জাতির ইতিহাস পাঠে মনোনিবেশ করি। আমাদের গৌরবের অতীত কেন হারিয়ে গেল ? সে প্রশ্নের সদুত্তর পেতে হলেও ইতিহাসের গভীরে যেতেই হবে।


ধামইরহাটপত্নীতলা ; ইতিহাস ঐতিহ্য গ্রন্থে উপজেলা দুটির পরিচিতি, ভৌগলিক অবস্হান,নদনদী, ভূপ্রকৃতি ,জনজীবন, সহ ঐতিহাসিক জগদ্দল মহাবিহার, বরেন্দ্র জনপদের পরিচিতি, মাহীসন্তোষ নগরী, বাদাল স্তম্ভ/ভীমের পান্টি দিব্যোক স্মৃতি স্তম্ভের ইতিহাস পাঠকদের মনযোগ আকর্ষণ করেছে। তবে রামাবতি নগরীর সন্ধান না পাওয়া, আগ্রাদ্বিগুন গড়ের অসম্পূর্ণ ইতিহাস, অনেক পুরাতন দালানকোঠা, বসতবাড়ি, মন্দিরমঠ ,গীর্জা, মসজিদ, দরগাখানকা,পথঘাটের বিলুপ্ত প্রায় স্মৃতি চিহ্ন ধ্বংসাবশেষ, দিঘীপুষ্করীণির অস্তিত্ব সম্পর্কে কোন বর্ণনা না থাকায় ; বিশেষভাবে ধামইরহাটের পর্যটন স্হান ঐতিহাসিক আলতা দিঘী সম্পর্কে কোন আলোচনা এই গ্রন্থে স্হান না পাওয়ায় সাধারণ পাঠকেরা হতাশ হয়েছেন। অনাগত ভবিষ্যতে আমাদের হারিয়ে যাওয়া অতীত ঐতিহ্য সম্পর্কে বিশদভাবে তুলে ধরা সম্ভব হলে তাদের প্রত্যাশা অনেকাংশে পূরণ হবে।

বাংলাদেশের চারটি জেলা প্রাকৃতিক শালবনের জন্য বিখ্যাত। তন্মধ্যে নওগাঁ জেলার এই স্হানে শালবনে ঘেরা প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ আলতা দিঘির নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
২০১১ সালে ঐতিহাসিক আলতা দিঘী মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য জননেতা মোঃ শহীদুজ্জামান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় জাতীয় উদ্যানের মর্যাদায় উন্নীত হওয়ার পরবছর জুড়ে দর্শনার্থীদের ভীড় লেগেই থাকে। পহেলা বৈশাখ, ঈদের দিন
উৎসবের দিনগুলিতে বনভোজনের জন্য মানুষের ঢল নামে। আলতা দিঘির ইতিহাস সম্পর্কে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই।
বহুদিন আগে থেকেই একটি রূপকথার প্রচলন আছে। কাহিনীর বর্ণনা মতে
১৬০০ সালে এখানকার রাজা বিশ্বনাথ তাঁর রানীকে সন্তূষ্ট করতেই দিঘীটি খনন করেছিলেন। রানীর শর্ত ছিল যে, তিনি যতদূর পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যাবেন ততোদূর পর্যন্ত দিঘীটি খনন করতে হবে। রাজা কৌশলে রানীর পায়ে আলতা ছিটিয়ে দিয়ে তোমার পায়ে রক্ত!এই বলে তাঁকে থামিয়ে দিয়েছিলেন।ঐতিহাসিক আলতা দিঘী হিন্দু/পাল আমলের কীর্তি হিসেবে সহমত প্রকাশ
করলেও রাজা বিশ্বনাথ তাঁর রাজত্বকাল
সম্পর্কে কোন তথ্য প্রমাণ নাই।
ধামইরহাটপত্নীতলা; ইতিহাসঐতিহ্য গ্রন্থ থেকে জানা যায়, প্রখ্যাত ইতিহাস গবেষক, প্রত্নতত্ববিদ,বহু ভাষাবিদ আবুল কালাম মোহাম্মদ জাকারিয়া (১৯১৮২০১৬ খৃঃ) যিনি আমাদের গৌরবের ইতিহাস বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করেছেন। চীরস্মরনীয় এই প্রত্নবিশারদ ১৯৬৮১৯৮৮ সালের মধ্যে জগদ্দল মহাবিহার অনুসন্ধাকালে জগদল, জগৎনগর,ছোটশিবপুর, রূপনারায়য়নপুর, উস্তমাবাদ,মইশড় দাদনপুর মৌজায় এক বা একাধিকবার পরিদর্শন অনুসন্ধান করে জগদ্দল নগরীর আয়তন ছয় বর্গ
কিঃ মিঃ বলে উল্লেখ করেছেন। জগদ্দল মহাবিহার থেকে আলতা দিঘির দূরত্ব তিন কিঃ মিঃ। সুতরাং আলতাদিঘী থেকেও বহুদূর পর্যন্ত জগদ্দল নগরীর সীমানা বিস্তৃত ছিল বলে মেনে নিতেই হবে। আলতা দিঘীর সন্নিকটে পশ্চিম দিক দিয়ে প্রবাহিত ঘুকশী নদীর অপর প্রান্তে দূর্গাপুর ভাঙ্গাদিঘী এবং তার নিকটবর্তী বর্তমানে একটি বড় ঈদগাহ মাঠ বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ির লাগোয়া পুরাতন ইমারতের ধ্বংসাবশেষ এখনও বিদ্যমান। জনশ্রুতি রয়েছে, এখানে একটি রাজবাড়ী ছিল। এখান থেকে বিভিন্ন সময় প্রত্ন সম্পদের প্রস্তর খণ্ড রাজশাহী পাহাড়পুর জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সংগ্রহ করেছেন। রাজবাড়ীর উত্তরে চকশব্দল থেকে অমরপুর হয়ে ধামইরহাট থানার কাছাকাছি উত্তর চকযদু গ্রাম পর্যন্ত এবং নদীর পূর্ব তীরে আলতা দিঘী থেকে ত্রীমোহিনী পর্যন্ত প্রাচীনকালের জনবসতির সুস্পষ্ট আলামত বিদ্যমান। এইসব এলাকায় প্রস্তর খণ্ডের দেবদেবীর মূর্তি প্রত্নবস্তূ যেখানে সেখানে পড়ে থাকতে দেখা যেত। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, উপজেলার অধিকাংশ ভূমির মাটির রঙ ইষৎ লাল গেরুয়া ধরণের হলেও প্রাচীনকালের জনবসতি সংলগ্ন মাটির রঙ কৃষ্ণনাভ রঙের।এর আয়তন নেহায়েতই কম নয়।


ঐতিহাসিক কাজী মোহাম্মদ মিছের বর্তমান কালের ঘুকসী নদীকে আত্রাই নদীর আদি খাত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জগদ্দল মহাবিহারের কিছু দক্ষিণে নদীর উভয় তীরে চান্দর আড়ানগড় গ্রাম দূটিকে রামাবতির সমসাময়িক ধ্বংসাবশেষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর তথ্য মতে এখান থেকে সংগৃহীত কিছু প্রত্নতাত্বিক সম্পদ রাজশাহী বরেন্দ্র যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
ধামইরহাটের কৃতি সন্তান .. রেজাউল করিম _”ধামইরহাটপত্নীতলা ; ইতিহাস ঐতিহ্য গ্রন্থেবাদাল স্তম্ভ ; বাংলার ইতিহাসের এক অনন্যসাধারণ উৎস
প্রবন্ধে মঙ্গলবাড়ীর বাদাল স্তম্ভ লিপি এবং
এই প্রত্ন সম্পদের ইতিহাস সুনিপুণ ভাবে আলোকপাত করেছেন। তাঁর প্রবন্ধে আমাদের সাহিত্য সংস্কৃতির অতীত
ঐতিহ্যের অনণ্য সাধারণ উৎস এই স্তম্ভ লিপির বঙ্গানুবাদ উপস্থাপন করে ইতিহাস পাঠকদের কৃতার্থ করেছেন। তবে মিশ্র পরিবারের মন্ত্রী ভবন এবং বাদাল কুঠি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ না থাকায় বিস্তারিত আলোচনা এতে স্হান পায়নি। এবিষয়ে অধিকতর গবেষণা কার্য সম্পন্ন হলে পাঠকদের প্রত্যাশা পূরণ হবে।


ইতিহাসবিদ কাজী মোহাম্মদ মিছের স্তম্ভ লিপির ষষ্ঠ শ্লোকের উদ্ধৃতি দিয়ে স্তম্ভটি
মন্ত্রী ভবণের একাংশ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সত্তরের দশকে পরিদর্শন কালে সমসাময়িক পাল শাসনামলের ইমারতের ধ্বংসাবশেষ নিদর্শনগুলো পর্যালোচনা করেই এইরূপ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে থাকতে পারেন। তিনি মঙ্গলবাড়ীর চতুর্দিকে বহু দীঘি পুস্করিণী, উঁচু উঁচু ভিটা কয়েকটি রাজবাড়ীর চিহ্নাবশেষ এর কথা উল্লেখ করেছেন।
ঐতিহাসিক এই স্হান সংলগ্ন বড়শিবপুর এবং পূর্ব তাহেরপুর মৌজার সর্বত্র পুরাতন ইমারতের স্মৃতি চিহ্ন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। পূর্ব তাহেরপুর মৌজায় রামপুরা নামের একটি হাট বাজার আজও রাজা রামপালের স্মৃতি বহন করছে।
( চলবে )

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT