রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দেশের পর্যটন খাতে দুর্দিন

প্রকাশিত : 05:43 AM, 19 November 2019 Tuesday ৪২ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

দেশজুড়ে নানা রকম দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকলেও দেশীয় পর্যটকদের বিদেশ ভ্রমণ ও বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে না পারায় দেশের পর্যটন খাত ছন্দহীন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া নানা প্রতিবন্ধকতা এবং বিভিন্ন দেশের ঢাকাস্থ দূতাবাস বিদেশিদের পর্যটন স্পর্ট ঘুরাঘুরিতে সতর্কবার্তা থাকায় বছরের পর বছর দেশের বেশির ভাগ হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্ট খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।

পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, সব ধরনের উন্নয়নে পর্যটন খাতকে সম্পৃক্ত বা মাথায় রাখতে হবে। প্রতিবেশী ভারতের অন্যতম যোগাযোগ ব্যবস্থা রেলপথ। উন্নত রেল যোগাযোগ ও চাহিদার কারণে বিশাল দেশটিতে অন্তত পাঁচ দিন আগেও মেলে না রেলের টিকিট। ভারতে বিদেশিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে আকাশপথ, সড়কপথেও। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো সে ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করছে।

এর মধ্যে বিদেশি পর্যটক মাত্র কয়েক শতাংশ। অথচ বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য কুয়াকাটা, প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনস, বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, নিঝুম দ্বীপ, চা-বাগান, নদী, পাহাড়, হাওর ও পুরাকীর্তিসহ নানা বৈচিত্র্যপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণে ভরপুর বাংলাদেশ। অদক্ষতা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে বিশ্বের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর তালিকায় পড়েছে বাংলাদেশ।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও জামায়াতের রাজনৈতিক সহিংসতায় বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলো বিদেশিদের পর্যটন এলাকায় ঘোরাঘুরিতে সতর্কতা জারি করেন। এতে দেশের পর্যটন খাতে নেমে আসে বিপর্যয়। তখন বাংলাদেশের পর্যটনের প্রধান আকর্ষণ কক্সবাজার, সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কুয়াকাটা পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। দূতাবাসগুলো সেই সতর্কবার্তা আজও প্রত্যাহার করেনি। রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের পর্যটন শিল্পের ক্ষতির পরিমাণ বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ছিলো। দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ ফিরে এলেও এই ক্ষতি আগামী কয়েক বছরেও পুষিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকরা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশকে তাই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সতর্কবার্তা জারি করে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, হংকং, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, জাপান, ফ্রান্স, ইউক্রেনসহ ইউরোপের প্রায় সব দেশ। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এ সতর্কবার্তায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাংলাদেশ ভ্রমণ না করতে নাগরিকদের পরামর্শ দিয়ে ছিলো দেশগুলো।

বিদেশি পর্যটকদের বাংলাদেশের পর্যটন স্থানগুলোতে ঘুরাঘুরিতে ঢাকাস্থ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সতর্কবার্তার বিষয়ে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান রাম চন্দ্র দাস আমার সংবাদকে বলেন, দেশের পর্যটনখাত এগিয়ে নিতে দেশিয় পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকরা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের পর্যটন স্পর্টগুলোতে বিদেশি পর্যটকদের ঘুরাঘুরিতে বিভিন্ন দেশের ঢাকাস্থ দূতাবাসগুলো সতর্কবার্তা জারি করে রেখেছে। ফলে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের একটা বড় রকমের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের পর্যটন স্পর্টগুলো নিরাপত্তা দিতে ও সৌন্দর্য বাড়াতে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। আমরা এখন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অবহিত করেছি যে, দেশের পর্যটন স্পর্টগুলো যথেষ্ট নিরাপত্তা রয়েছে। বিভিন্ন দেশের দূতবাস যে সতর্কবার্তা দিয়েছে তা যেন তুলে নেয়। এ নিয়ে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যেই সমস্যা দূর হবে এবং বিদেশি পর্যটকরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণে আগ্রহ পাবেন।

মার্কিন উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশ ভ্রমণে আসা বিদেশি নাগরিকদের সবচেয়ে বড় অংশই আসে তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি হিসেবে, যা মোট বিদেশির ৪০ শতাংশ। এর পরই রয়েছে উন্নয়ন খাতের বিভিন্ন কাজে আসা বিদেশিরা। মোট বিদেশির মধ্যে এদের হার ২৫ শতাংশ। এ ছাড়া বেসরকারি খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট ও বিভিন্ন দূতাবাস-সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন ১৫ শতাংশ করে। বিদেশিদের মধ্যে বাকি পাঁচ শতাংশ বাংলাদেশে আসছে প্রকৃত পর্যটক হিসেবে।

এদিকে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০১৯ সালের ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কমপিটিটিভনেস রিপোর্টে নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় সবচেয়ে বেশি উন্নতির কারণে যদিও পাঁচ ধাপ এগিয়ে ১২৫ থেকে ১২০ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। বিমান পরিবহন অবকাঠামো, নিরাপত্তা, সংস্কৃতি, বাসস্থান, টাকার মান ও স্থিতিশীল ভ্রমণের সুযোগসহ ৯০টি মানদণ্ডের মধ্যে অনুন্নত পর্যটন সেবা অবকাঠামো, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতা বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্জনকে ম্ল্যান করেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটন খাতের কোনো মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিল্পনা না থাকায় অপরিকল্পিত উন্নয়ন হয়েছে পর্যটনের। এতে আকর্ষণ হারিয়েছে প্রধান পর্যটন গন্তব্যগুলো। এ ছাড়া সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পর্যটন পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা ও বিপণন করতে না পারার কারণে এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সেভাবে পর্যটক আসছে না।

ট্যুরিজম ডেভেলপার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিডাব) চেয়ারম্যান সৈয়দ হাবিব আলী বলেন, দেশে পর্যটনের অনেক সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগাতে যে কর্মতৎপরতা ও পেশাদারিত্ব প্রয়োজন তা নেই। এ কারণে এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা পর্যটন খাতে পিছিয়ে আছি। আমাদের হোটেলগুলোর এখনো সঠিকভাবে স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারণ করা যায়নি। অনেকে টু স্টার মানের না হলেও ফাইভ স্টার হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তদারকি বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পর্যটকদের আরো ভালো সেবা দেয়ার জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা দরকার, যেগুলো অন্যান্য দেশে আছে তা নিশ্চিত করতে হবে।

দেশের পর্যটন খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি তৌফিক উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘২০১৬ সালে স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো তিন বছরব্যাপী (২০১৬-১৮) পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করা হলো। তৎকালীন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ১০ লাখ পর্যটক আনার ঘোষণা দিলেন, কিন্তু আমরা পর্যটকের দেখা পেলাম না। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা দাবি করছেন বিদেশি পর্যটক আগমন বেড়েছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো আমাদের অনেক ট্যুর অপারেটর ব্যবসা চালাতে পারছেন না। হতাশ হয়ে তারা অনেকেই এখন অন্য ব্যবসায় চলে যাচ্ছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT