রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ৩০ মে ২০২০, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৩:১৫ অপরাহ্ণ

দুর্নীতির বেড়াজালে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ১১:২০ PM, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ Thursday ১৮৭ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

মু. এনামুল হক মিঠুঃ

মূলত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি থেকে দেশে ব্যক্তিগত দুর্নীতির ডালপালা ছড়িয়েছে।প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিবাজরা যখন একের পর এক অপকর্ম করে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় পার পেয়ে গেছেন বা যাচ্ছেন,তখন ব্যক্তিগত পর্যায়ের দুর্নীতিবাজরা দিনের পর দিন দুর্নীতি করতে
উৎসাহিত হচ্ছে ।

দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি বন্ধের চলমান উদ্যোগ কার্যকর হলে দেশে ব্যক্তিগত পর্যায়েও দুর্নীতি কমে আসবে।সব স্তরের দুর্নীতিবাজরা জনগণের সম্পদ লুট করছে, দেশে বর্তমানে সামগ্রিক উন্নয়নের যে সৌন্দর্য বিরাজ করছে তা ধ্বংস করছে।

এই লুটেরাদের সঙ্গে ধর্ষকদের কোনো অমিল বা পার্থক্য নেই। একজন ধর্ষক তার কাম লালসা চরিতার্থ করতে শিশু-তরুণী-কিশোরী বা নারীর ওপর হামলে পড়ে জীবন ধ্বংস করে দিয়ে তার নগ্ন যৌন বাসনা পূর্ণ করে । তেমনি একজন দুর্নীতিবাজ তার অর্থ-সম্পদ লালসা চরিতার্থ করতে জাতীয় ও জনসম্পদের উপর হামলে পড়ে রাষ্ট্রেীয় বিকাশের স্পন্দন থামিয়ে দেয়।

তাই একজন দুর্নীতিবাজকে “রাষ্ট্র ধর্ষক ” বললে তা মোটেও বাড়িয়ে বলা হবেনা। এরা মানুষের অধিকার হরণ করে নিজের দেশ বিনাশী লালসা চরিতার্থ করে। এদের মানবতাবিরোধী অপরাধী বা রাষ্ট্রদ্রোহী বললেও অত্যুক্তি হবেনা।

কারণ রাষ্ট্র দুর্নীতিকে নিরুৎসাহিত করেছে। এ ধরনের লুটেরা-ধর্ষক ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি জনগণকেও সোচ্চার হতে হবে।

দুর্নীতি এমন এক মরণ ব্যাধি, যা একটি দেশ ও সমাজকে কুড়ে কুড়ে ধ্বংস করে দেয়। দুর্নীতি সমাজের উন্নয়নকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো : দুর্নীতির কারণে সামাজিক ও মনোজাগতিক যে অস্থিরতা তৈরি হয় তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে কুপ্রভাব ফেলতে থাকে। সে কারণে সভ্যসমাজে দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সমাজ বিকাশের বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দুর্নীতি বন্ধে বা নিয়ন্ত্রণে বিশ্বব্যাপী নানা ধরনের ফর্মুলা ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল আসেনি। বাংলাদেশেও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে নানা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে। দুর্নীতি দমনে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা ঘোষণার পাশাপাশি অ্যাকশনও শুরু করেছেন। সে অ্যাকশনে আতঙ্ক যতটা ছড়িয়েছে, ফলাফল ততটা কার্যকর নয়। তাই দেশ ও জাতি দুর্নীতির কারণে মারাত্মক সঙ্কটে ভুগছে।

দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ একক বা সংঘবদ্ধভাবে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত দুর্নীতির কালোথাবায় বাংলাদেশকে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নবিদ্ধ হতে হয়েছে ও হচ্ছে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের টানা তিন মেয়াদে অর্জনের পরিমাণ অনেক। এসব অর্জন বাংলাদেশকে শুধু গতিশীল-ই করেনি, আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে অনেক উজ্জ্বল করেছে। আজ বিশ্বসভায় বাংলাদেশ অনন্য এক
মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। এর সবকিছুই ম্লান হয়ে যাবে যদি দুর্নীতির বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা না যায়।

সে ক্ষেত্রে দোর্দন্ড প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ তথা এ লুটেরা-ধর্ষক, মানবতাবিরোধী রাষ্ট্রদ্রোহী চক্রকে রুখতে পারবেন একমাত্র শেখ হাসিনা। জাতির পিতার অসীম সাহসী কন্যা শেখ হাসিনা-ই পারবেন দেশটাকে তার পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে। সে জন্য সব স্তরের দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করতে হবে,রুখে দাঁড়াতে হবে।

একজন চোর, ডাকাত বা ধর্ষক যেমন সমাজে ঘৃণিত, তেমনিভাবে দুর্নীতিবাজদের জন্য ঘৃণার স্তূপ গড়ে তুলতে হবে।আজ থেকেই দুর্নীতিকে “না ” বলার পাশাপাশি দুর্নীতিবাজদের নাম উচ্চারণ করার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সমস্ত ঘৃণা ছুঁড়ে দেওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT