রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১১:২৯ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ মুক্তি পাওয়ার সাথেই সোশাল মিডিয়ার ব্যাপক সাড়া ধামইরহাটের কণ্ঠশিল্পী জাহাঙ্গীরের গানে ◈ ইনাতগঞ্জ পল্লী চিকিৎসক সমিতির আয়োজনে বিশ্ব করোনাকালীন সচেতনতা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক কনফারেন্সে অনুষ্ঠিত ◈ নজিপুর ইজি বাইক কল্যাণ সমিতির   বার্ষিক বনভোজন ◈ গোপালগঞ্জে দোলা পরিবহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ◈ মিম হত্যা বিচারের দাবীতে পত্নীতলায় মানববন্ধন ◈ ধামইরহাটে সোনার বাংলা সংগীত নিকেতনের বার্ষিক বনভোজন ◈ ধামইরহাটে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ◈ পত্নীতলায় করোনা সচেতনতায় নারীদের পাশে তথ্য আপা ◈ ফুলবাড়ীয়া ২ টাকার খাবার ও মাস্ক বিতরণ ◈ কাতারে ফেনী জেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের দোয়া মাহফিল

দিনাজপুরে সৌদির আজোয়া জাতের খেঁজুর চাষে ব্যাপক সাফল্য

প্রকাশিত : ০২:৫৮ AM, ১৫ অগাস্ট ২০১৯ Thursday ২৪৪ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

 

সৌদি আরবের বিখ্যাত আজোয়া জাতের খেঁজুর চাষে সাফল্য পেয়েছে দিনাজপুর শহরের বালুয়াডাঙ্গা নিবাসী মাহবুবুর রহমান। মরুভূমির ফসল হিসাবে পরিচিত সৌদি আরবের বিখ্যাত আজোয়া জাতের খেঁজুর তার বাড়ির ছাদে টবে চাষ করে এ সাফল্য পান তিনি।

দিনাজপুর শহরের বালুয়াডাঙ্গা শহীদ মিনার মোড়ে এক সময়ের সৌদি প্রবাসি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ও শামসুন নাহার দম্পতির ছেলে মো. মাহাবুবুর রহমান বাড়ীর ছাদে প্রাথমিকভাবে চাষ করা একটি গাছে থোকায় থোকায় আজোয়া খেজুর ঝুলছে। পরীক্ষামূলক চাষে সফল হওয়ায় এখন তিনি আজোয়া জাতের খেজুরের চারা উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বর্তমানে বাড়ীর ছাদে মাটিতে রোপন উপযোগী ৬ শতাধিক চারা প্রস্তুত রয়েছে। প্রায় ৩‘শ বিচি থেকে চারা উৎপাদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে চুড়ান্ত ভাবে বড় পরিসরে জমিতে আজোয়া জাতের খেজুর চারা রোপন ও বিক্রি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন মাহবুবুর রহমান। ইতিমধ্যে আজোয়া জাতের খেজুর চাষ করে সফল হওয়া দেখে মাহবুবুর রহমানের কাছে গাছের চারা কিনতে বিভিন্ন জেলা থেকে আসছেন অনেকেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ীর ছাদে অসংখ্য আজোয়া জাতের খেজুরের গাছের চারা রয়েছে। আর বড় গাছটির ২টি থোকায় ঝুলছে সবুজ-গোলাপী-হলুদ বর্ণের বড় বড় খেজুর। রাস্তা থেকে যে কারও নজর কাড়ছে খেজুরগুলো।

খেজুর চাষ করে সফল হওয়া মাহবুবুর রহমান জানান, তাঁর বাবা মো. মোয়াজ্জেম হোসেন প্রায় ৩৫ বছর মদিনায় চাকুরীরত ছিলেন। তিনি মদিনা ডেভেলপমেন্টের মেকানিকেল ও পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। অবসরের পর তিনি নিজ দেশ বাংলাদেশে চলে আসেন।

মাহবুবুর রহমান আরও জানান, মদিনায় আজোয়া জাতের খেজুরের কিছু বিচি সংগ্রহ করেন তিনি। সাধারণত আজোয়া জাতের খেজুর বাংলাদেশে চাষ করা সম্ভব নয়। এর জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। যদি কেউ প্রশিক্ষণ নিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করে গাছ বড় করতে পারে তাহলে এই জাতের খেজুর চাষ করা সম্ভব। সাধারণতঃ দেশে বিভিন্ন জাতের খেজুর গাছের চারা পাওয়া যায়। সেই চারাগুলো থেকে ১টি গাছ পাওয়া যায়। কিন্তু সৌদি আরবের আজোয়া জাতের চারা যখন গাছে রূপান্তরিত হবে তখন আরও অসংখ্য চারা জন্ম দেয়। এই গাছ বড় হলেই গোড়া থেকে একই জাতের অন্য ছোট চারা জন্ম হতে থাকে। এই আজোয়া জাতের খেজুর গাছের গড় আয়ু প্রায় ১০০ বছর। যা বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ুর চেয়ে অনেক বেশি।

তিনি আরও জানান, আজোয়া জাতের গাছের জন্য পরাগায়ন খুবই জরুরী। কোন বাগানে যদি ২০টি গাছের চারা রোপন করা হয় তাহলে সেই বাগানে ১টি পুরুষ গাছ রোপন করতে হবে পরাগায়নের জন্য। প্রথমে ১টি বিচিকে ১টি মাটির পাত্রে রোপন করতে হয়। তারপর গাছের চারা একই বড় হয়ে ৪ থেকে ৬ ইঞ্জি হলেই অন্য একটি বড় মাটির পাত্রে রোপন করতে হয়। ভবিষ্যতে দিনাজপুর শহরকে একটি খেজুতের শহরে পরিণত করার চিন্তা রয়েছে তাঁর।

তিনি জানান, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় অনেক চাষী এই আজোয়া জাতের খেজুর চাষ করে সফল হয়েছেন এবং তারা বিশাল বিশাল বাগান গড়ে তুলেছেন। সেই রকম বিশাল বাগান গড়ে তোলার চিন্তা করছেন তিনি। আর সে কারণে সে সব দেশের বাগানীদের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করে চলেছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর বাড়ীর ছাদে ৬ শতাধিক রোপন উপযোগী চারা রয়েছে। এছাড়াও বিচি থেকে চারা প্রস্তুত করা হচ্ছে আরও ৩ শতাধিক। ১টি গাছ বিচি থেকে রোপন উপযোগী করতে তাঁর ব্যয় হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার টাকা। ইতিমধ্যে অনেকজন তাঁর সাথে যোগাযোগ করেছে গাছের চারার জন্য।

তিনি আরও জানান, বাবা যখন মদিনা থেকে প্রথম আজোয়া জাতের খেজুরের বিচি আনেন তখন মা শামসুন নাহার নিজ হাতে ১টি মাটির পাত্রে বিচি রোপন করেছিলেন। আজোয়া জাতের গাছ সব সময় পরিচর্যা পছন্দ করে। যত ভালো পরিচর্যা করা হবে তত ভালো থাকবে গাছটি। গাছটি মাটিতে রোপনের প্রায় ৪ বছরের মাথায় প্রথম ফল দিবে। সাধারণ ফেব্রæয়ারী মাসের দিকে গাছে ফুল আসে। তখন পুরুষ গাছ থেকে পরাগায়নের জন্য পাউডার সংগ্রহ করতে হয়। যা পরায়গনের বিশেষ সময় পাউডার গুলো ফুলে ছিটিয়ে দিতে হয়। তাহলে গাছে খেজুরের ফলন ভালো হয়। যে দিন গাছে প্রথম ফুল আসে সে দিনই ৩ থেকে ৪ বার পাউডার ছিটাতে হয়। বর্তমানে যে গাছের ২টি থোকায় খেজুর ধরেছে তাতে আনুমানিক ১৫ কেজি খেজুর পাওয়া যেতে পারে। তবে এরপরের বছর এর থেকে ৩ গুন বেশি খেজুর পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান। খেজুর গুলো সব সময় নেট দিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়াও বৃষ্টি থেকে রক্ষা করতে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়।

আগামীতে খুব বড় পরিসরে এই বিখ্যাত আজোয়া জাতের খেঁজুরের চাষ শুরু করতে সরকারী পৃষ্টপোষকতা আশা করেন তিনি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT