রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০২:৪৮ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নারীর সম্ভ্রম হারানোর অভিযোগে শ্রীনগরে ভন্ড ফকির গ্রেফতার ◈ কালিহাতীতে অজ্ঞাত ট্রাকের চাপায় বৃদ্ধ নিহত ◈ টেক‌নোল‌জিষ্ট আ‌ছে মে‌শিন নেই, মে‌শিন আ‌ছে টেক‌নোল‌জিষ্ট নেই ◈ পুলিশ সদস্য নিয়োগে ডামুড্যা থানা পুলিশের প্রচার অভিযান”চাকরি নয়, সেবা”কনেস্টেবল পদে নিয়োগ ◈ কারিতাস সবুজ জীবিকায়ন প্রকল্পের উদ্যোগে নগদ অর্থ বিতরণ ◈ মধ্যনগরে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা ◈ পীরগাছায় খাদ্য ভিত্তিক পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্টিত ◈ ভূঞাপুরে আঙ্গুল কেটে ফেলা সেই কাউন্সিলরকে কারাগারে প্রেরণ ◈ ডামুড্যা উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। ◈ তাহিরপুর সীমান্তে বারকী নৌকাসহ ভারতীয় কয়লা ও পাথর আটক
ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি

দায় এড়াতে পারে না কেউ

প্রকাশিত : ০৭:৪৩ AM, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শুক্রবার ৭১৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে টালমাটাল রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রভাবশালী অনেক নেতা গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন, বিদেশে পালানোর পাঁয়তারাও করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে অভিযান পরিচালনার মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসতে থাকে একের পর এক থলের বিড়াল। বাংলাদেশেই যে ‘আন্তর্জাতিক মানের’ ক্যাসিনো, জুয়ার আসর রয়েছে তা জানা ছিল না দেশের অনেকেরই।

চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে টালমাটাল রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রভাবশালী অনেক নেতা গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন, বিদেশে পালানোর পাঁয়তারাও করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকেই। গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাবে অভিযান পরিচালনার মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসতে থাকে একের পর এক থলের বিড়াল। বাংলাদেশেই যে ‘আন্তর্জাতিক মানের’ ক্যাসিনো, জুয়ার আসর রয়েছে তা জানা ছিল না দেশের অনেকেরই।

পরবর্তীকালে এ অভিযান ছড়িয়ে পড়ে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম ও বগুড়ায়। একের পর এক যে সব তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে তাতে অনেকেরই চক্ষু চড়কগাছ। প্রভাবশালীদের কে নেই এই তালিকায় তা এখন বড় প্রশ্ন। র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে ক্যাসিনো সাম্রাজ্য তছনছ হয়ে গেলেও মূল গডফাদাররা এখনো রয়ে গেছেন আড়ালে- এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্যাসিনো সম্রাট ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের গ্রেফতারের গুঞ্জন শোনা গেলেও তাকে রাখা হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারিতে। এখানে সরকারের সঙ্গে উঁচু মহলের দেনদরবারের বিষয় রয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সব শ্রেণি অপেক্ষায় ভণ্ডদের মুখোশ উন্মোচনের। দেশে সম্মানের আসনে যারা আসীন, তারাই জড়িত হাজার কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্যে।

বছরের পর বছর ক্যাসিনো প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল ‘বোবা, কালা, অন্ধের’ ভূমিকায়! এর নেপথ্যে ছিল অনৈতিক বাণিজ্য; ঘুষ ও বখরার হিসাবনিকাশ। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলেও গত ১৮ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কয়েকজন যুবলীগ নেতা সদ্য বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর চেয়েও খারাপ- প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু হয় ‘অ্যাকশন’।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বাধ্য হয়ে অভিযানে নামে। যদিও এর মধ্যে ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’- এমন নজির প্রতিষ্ঠিত করেছে পুলিশ। থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ায় ক্রীড়াঙ্গন কীভাবে কলুষিত হয়েছে আলোচিত হচ্ছে এসব বিষয়। খেলার জায়গায় উন্নত বিশ্বের আদলে গড়ে ওঠা ক্যাসিনো সংস্কৃতির দায় কার? এ দায় কেউ কি এড়াতে পারেন!

গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে খোলা কাগজ মুখোমুখি হয় তিন বিশিষ্টজনের। লেখক-বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ, সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নূরুল হুদা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম প্রাসঙ্গিক বলেছেন নানা কথা।

লেখক-বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ক্যাসিনোর এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা যাবে না। দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নষ্ট চিত্রের একটি অংশ মাত্র। ক্যাসিনোয় রাজনৈতিক নেতারা জড়িত। সামাজিক ও অর্থনৈতিক জগতের বড় বড় মানুষ সম্পৃক্ত। খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক জগতে খ্যাতিমানরাও জড়িত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেকেরই সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্টদের আনুকূল্য ছাড়া এই ধরনের বেআইনি ও সমাজবিরোধী কর্মকা- চলতে পারে না। সমাজ ও রাষ্ট্রকে অনৈতিক পথে পরিচালনার লক্ষ্যে এই ক্যাসিনোর জমজমাট ব্যবসা। এই ব্যবসা শুধু খেলার সরঞ্জাম দিয়ে হয় না। প্রয়োজন পড়ে দামি মদ ও যুবতী নারীর। বর্তমানে সমাজ যে জায়গায় এসেছে তার পেছনে একটি নষ্ট শক্তি কাজ করছে। সেই নষ্ট শক্তি রাষ্ট্রযন্ত্রের সমস্ত অংশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা চাচ্ছে। এই অভিযান যদি অব্যাহত না থাকে এবং এর পেছনে যে বিরাট সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে তাকে যদি বিনষ্ট করা না যায় তাহলে ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনো বন্ধ হতে পারে কিন্তু অন্য প্রকারে অসামাজিকতা চলবে বলে মন্তব্য করেন খ্যাতনামা এই সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নূরুল হুদা বলেন, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে সবারই দায় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে যে সব লোক, যারা নিয়ন্ত্রণ করে, তত্ত্বাবধান করে সবারই দায়িত্ব ছিল কিন্তু তারা তা পালন না করে উল্টোপথে হেঁটেছে। দেখা যাচ্ছে অভিযান পরিচালনা করা হলেই কারও না কারও সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসছে। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও সঠিক দায়িত্ব পালন করেনি। দায় এড়াতে পারে না কেউই। একাধিক সংস্থা এর সঙ্গে জড়িত। রাজনীতিবিদ, নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসন সবার যোগসাজশেই ক্যাসিনো কালচার পোক্ত হয়েছে দিনে দিনে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, এখানে হঠাৎ করে কেন ধরপাকড় শুরু হলো? এটা তো রাতারাতি গজিয়ে ওঠেনি, আরও আগে থেকেই ছিল। কয়েক বছর যাবৎ চলছে। হঠাৎ করে কেন ধরল, এটা কি অভ্যন্তরীণ কোনো দ্বন্দ্বের কারণে হলো নাকি অন্যকিছু! সেটা একটা ব্যাপার। অনেকের নাম আসছে, যে নাম বেরিয়ে আসছে এগুলো কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি না। চুনোপুঁটিদের মধ্যেই সম্রাটকে (ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট) ধরছে না কেন? ওকে এখনো কেন নজরদারিতে রেখেছে? এই সম্রাটকে বা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে যারা চালায় তাদের নাম আসছে না কেন? তারা তো আরও উঁচু স্তরের। আওয়ামী লীগের মধ্যে, প্রশাসনের মধ্যে। ওদের ধরা হচ্ছে না কেন, আমার প্রশ্ন সেখানে।

এ সমাজবিজ্ঞানী আরও বলেন, এখন চোখধাঁধানো কথাবার্তা বলে কোনো লাভ হবে না। ওদের ধরুক, সব একসঙ্গে আনুক, তারপর দেখি! এই করতে করতে ইয়াবা বদির (কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি) মতো ম্লান হয়ে যাবে সব। যারা এসব চালিয়েছে সেভাবে কারও নাম এখনো আসেনি। মন্ত্রীরা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে মনে করে কেউ? অবশ্যই তারা সম্পৃক্ত। তাদের নাম-পরিচয় খোঁজ করে বের করা উচিত।

যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টদের সমালোচনা করে নেহাল করিম বলেন, বুড়ো বয়সে ওমর ফারুক চৌধুরী যুবলীগ চেয়ারম্যান থাকেন এটা শুনতে ও দেখতে খারাপ লাগে। তিনি কি যুব? তিনি তো একদম বুড়ো! এমন অনেকেই আছেন। সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন আছেন; হুইপ শামসুল হকের নাম এসেছে। এসব ধরা হচ্ছে না কেন? ফটাফট বিচার করা উচিত। এসব দীর্ঘায়িত করে লাভ নেই। দেরি হলে সবকিছুই হালকা-পাতলা হয়ে যাবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমালোচনা করে এ সমাজবিজ্ঞানী বলেন, অন্যদের ধরা হচ্ছে না কেন, এমন অনেকেই আছে। বলে লাভ নেই। খামোখা দুই একটা কথা বলা। সরকারের মেজাজ-মর্র্জি বোঝা ভার। ধরার ইচ্ছা থাকলে, পুলিশ সব জানে, সব পারে। যেমন ফু-ওয়াং ক্লাবে পুলিশ পায়নি কিছুই। র‌্যাব গিয়ে অনেক কিছু উদ্ধার করল। এসব কী? একই জায়গায় দুই বাহিনী গেল- এক বাহিনী পেল, এক বাহিনী পেল না- ব্যাপারটা কী! সবকিছুই হ-য-ব-র-ল মনে হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাইলে সঙ্গে সঙ্গেই ধরতে পারে না? কেন কালক্ষেপণ করছে! কেন তদন্ত-ফদন্ত এসব বলে ওদের পার করে দেওয়ার চেষ্টা করছে? ক্যাসিনো পরিচালনাকারী নেপালিরা তো ভেগেছে, অন্যরাও ভাগবে। পচন মাথা থেকেই ধরে, সেটা দ্রুত পৌঁছে যায় নিচ পর্যন্ত। এসব বলে লাভ নেই। সব প্রতিষ্ঠানে চামচা, তোষামোদকারী, চাটুকার বসিয়ে রাখা হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠানই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT