রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দারিদ্র্যবিমোচন ত্বরান্বিত হোক

প্রকাশিত : 05:46 AM, 10 October 2019 Thursday ৭৬ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ৩০ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। তবে তিনি এ কথাও বলেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এ দেশে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য থাকবে না। প্রবৃদ্ধি হচ্ছে দারিদ্র্য নিরসনের মূল চাবিকাঠি। দেশে টেকসই ও মানসম্পন্ন প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। প্রবৃদ্ধির এ অর্জন দেশের প্রত্যেক মানুষকে স্পর্শ করছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি দারিদ্র্য কমাচ্ছে। শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এখানে নতুন করে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শহর আর গ্রামের মাঝে আগামীতে কোনো পার্থক্য থাকবে না।

অর্থমন্ত্রীর উচ্চারিত শব্দাবলির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে বলতে চাই, বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হোক—আমরাও এ স্বপ্ন দেখি। এ ধরনের স্বপ্নের মধ্যেই আমাদের বেঁচে থাকা। আর এ ধরনের স্বপ্নই আমাদের একটি পতাকা এবং একটি রাষ্ট্র এনে দিয়েছে।

এদিকে বিশ্বব্যাংক বলছে, দেশে দারিদ্র্য হ্রাসের গতি এখন অনেকটা কমে এসেছে। সংস্থাটির মতে, এ দারিদ্র্য হ্রাসের গতি-প্রকৃতি হচ্ছে অসম। ২০৩০ সাল নাগাদ দরিদ্রদের ৫০ শতাংশই বসবাস করবে বড় শহরে। বিশেষ করে ঢাকামুখী হবে দরিদ্রের কাফেলা। ২০১০ সাল থেকে পূর্ব ও পশ্চিমের বিভাগগুলোর মধ্যকার দারিদ্র্য পরিস্থিতির ঐতিহাসিক পার্থক্য আবার ফিরে এসেছে। পশ্চিমে রংপুর বিভাগের দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। চট্টগ্রামে কমেছে স্বল্পমাত্রায়। বরিশাল, সিলেট ও ঢাকায় কমার হার দ্রুত। এটাই হলো বিশ্বব্যাংকের দেওয়া সার্বিক চিত্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে এখনো প্রতি চারজনের মধ্যে একজন দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। আর বিষয়টি মোকাবিলার জন্য দারিদ্র্যের নতুন ক্ষেত্রগুলোর প্রতি নজর দিতে হবে। বিশেষ করে শহর এলাকার দারিদ্র্য মোকাবিলাকে বিশেষ নজরদারিতে আনতে হবে। প্রতিবেদন মতে, ২০০০ সালে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০০৫ সালে সেটি কমে আসে ৪০ শতাংশে। ২০১০ সালে তা ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে এবং ২০১৬ সালে ২৪ দশমিক ৫ শতাংশে এসে দাঁড়ায়। অন্যদিকে ২০০০ সালে অতি দারিদ্র্যের পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০০৫ সালে ২৫ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১০ সালে ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০১৬ সালে তা নেমে আসে ১৩ শতাংশে।

আমরা মনে করি, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। তবে গতি যদি মন্থর হয়ে পড়ে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে আরো একটি কথা স্মরণে রাখা জরুরি যে, প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের জনসংখ্যার একটি অংশকে নিঃস্ব করে যাচ্ছে। বিশেষ করে এবারের বন্যা বেশ কিছু মানুষকে দেশের অভ্যন্তরেই উদ্বাস্তুতে পরিণত করেছে। তারা ঘরবাড়ি, জমিজিরাত হারিয়ে দারিদ্র্যের কাফেলায় যোগ দিয়েছে। প্রতি বছর কত মানুষ এভাবে নিঃস্ব হচ্ছে; তার কোনো সঠিক পরিসংখ্যান আমাদের হাতে নেই। এদেরকেও হিসাবের আওতায় এনে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের কাছে জাতির এটুকুই প্রত্যাশা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT