রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০শে চৈত্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১১:৪০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ রামগঞ্জে কার্যক্রম চালু রাখায় ২টি ইটভাটা বন্ধ করলেন ইউএনও ◈ লক্ষ্মীপুরে শফিউল বারী বাবু’র পক্ষ থেকে ছাত্রদলের নেতা রিফাদ’র ত্রান বিতরন ◈ লক্ষ্মীপুরে আইসোলেশনে থাকা দুই জনই করোনামুক্ত ◈ আজ থেকে মক্কা ও মদীনায় ২৪ ঘন্টার কারফিউ ◈ না.ঞ্জের বন্দরে করোনায় নারীর মৃত্যু, ১শ’ পরিবার লকডাউন ◈ বাড়িভাড়া ও ব্যাংক লোন-সংক্রান্ত প্রচারটি গুজব ◈ প্রতি উপজেলার দু’জনের নমুনা পরীক্ষার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী দেননি! ◈ বগুড়ায় ৯৯৯ এ ফোনের ৩০ মিনিটেই খাবার পেল ক্ষুধার্ত পরিবার ◈ বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের পক্ষে অসহায়দের খাদ্য বিতরণ ◈ নারায়ণগ‌ঞ্জে মৃত‌্যুর পর রি‌পোর্ট এলো ক‌রোনা অাক্রান্ত

দারিদ্র্যতার কষাঘাতে জর্জরিত শান্তনা রানী নিজের অদম্য ইচ্ছা ও চেষ্টায় আজ ঢাবির ছাত্রী

প্রকাশিত : ১১:৩৬ PM, ১৫ অক্টোবর ২০১৯ Tuesday ৭১৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার আদর্শনগরের শহীদস্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রী শান্তনা রানী সরকার। তিনি দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত হয়েও নিজের অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও চেষ্টায় আজ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী।

শান্তনা নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের সাতগাঁও গ্রামের সজল সরকারের মেয়ে। তিনি এ বছর শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ ফাইভ পেয়েছেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ‘খ’ ইউনিটে ৮৫০ তম স্থান অর্জন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা করতে হয়েছে শান্তনা রানী সরকারকে। এসএসসি পরীক্ষার আগে শান্তনার কৃষক বাবা সজল সরকার প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে পড়লে চরম বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হয় শান্তনাকে। বাধ্য হয়েই তিনি টিউশনি করে নিজের পড়াশোনা ও সংসার চালাতে শুরু করেন। সেইসঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট ভাইটির পড়াশোনার খরচও চালিয়ে নেন।

কিন্তু এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় অভাবের সংসার যখন কিছুতেই চলছিল না, তখন বড় ভাইয়ের মতো তিনিও গার্মেন্টসে চাকরি করার সিদ্ধান্ত নেন। অবশেষে শিক্ষকদের প্রেরণা ও সকলের সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সাহস পান শান্তনা। শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে চরম দারিদ্র্যতার মধ্য দিয়ে নিজের অদম্য ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুফল হিসেবে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয় থেকে জিপিএ ফাইভ অর্জন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তার এই সাফল্যে তার কলেজের শিক্ষক, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সবাই খুশি। তারা সকলেই আশীর্বাদ করেন শান্তনা যেন তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।

এ ব্যাপারে শান্তনা রানী বলেন, আমার এই সাফল্যের জন্য আমি আমার পরিবার ও কলেজের শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের একান্ত চেষ্টাতেই এতোটা পথ পাড়ি দিতে পেরেছি।

সেইসঙ্গে তিনি শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, স্যার আমাদের এই হাওরাঞ্চলে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করার জন্যই এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারছে। উনার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। শান্তনা ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করতে চান। তার স্বপ্ন পড়াশোনা শেষ করে বিসিএস দিয়ে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি করা। শুধু নিজের সংসারের অভাব ঘোচানোই নয়, দেশ ও সমাজের জন্য তিনি কিছু করতে চান।

শান্তনা রানী সরকারের শিক্ষক ও শহীদস্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক এফ. এম. সাকির বলেন, আমি শান্তনাকে হাই স্কুলেও পড়িয়েছি। সে দশম শ্রেনীতে পড়া অবস্থায়ই আমি আন্দাজ করে ছিলাম সে পারবে। তার এ সাফল্যে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। দুয়া করি তার স্বপ্ন পূরণ হোক।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT