রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০১:৩১ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ টেক‌নোল‌জিষ্ট আ‌ছে মে‌শিন নেই, মে‌শিন আ‌ছে টেক‌নোল‌জিষ্ট নেই ◈ পুলিশ সদস্য নিয়োগে ডামুড্যা থানা পুলিশের প্রচার অভিযান”চাকরি নয়, সেবা”কনেস্টেবল পদে নিয়োগ ◈ কারিতাস সবুজ জীবিকায়ন প্রকল্পের উদ্যোগে নগদ অর্থ বিতরণ ◈ মধ্যনগরে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা ◈ পীরগাছায় খাদ্য ভিত্তিক পুষ্টি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্টিত ◈ ভূঞাপুরে আঙ্গুল কেটে ফেলা সেই কাউন্সিলরকে কারাগারে প্রেরণ ◈ ডামুড্যা উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত। ◈ তাহিরপুর সীমান্তে বারকী নৌকাসহ ভারতীয় কয়লা ও পাথর আটক ◈ শ্রীনগরে খাহ্রায় ঘুরে বেড়াচ্ছে বানরের দল ◈ ইউনিয়ন পর্যায়ে নারী নেত্রীগণের সরকারী বেসরকারি কমিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

দলীয় এমপিদের নিয়ে বিএনপিতে বিবাদ

প্রকাশিত : ০৮:২১ AM, ৬ অক্টোবর ২০১৯ রবিবার ১৭৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয় নিয়ে দলের ৭ এমপির সঙ্গে দ্বন্ধ দেখা দিয়েছে দলটির শীর্ষ নেতাদের। দলটির সংসদ সদস্যরা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। আর এতেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, দলের এমপিরা বেগম জিয়ার আপসহীন উপাধি ভাঙতে চান।

গত বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বিএনপি চেয়ারপারসনকে দেখতে যান দলটির চার এমপি। সাক্ষাৎ শেষে তারা বলেন, খালেদা জিয়া রাজনৈতিক বন্দি। ফলে তার মুক্তি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে হবে। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইছেন তারা।

এরআগে গত মঙ্গলবার বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন বিএনপির তিন সংসদ সদস্য। সেখান থেকে বের হয়ে হারুনুর রশীদ এমপি বলেন, খালেদা জিয়া জামিন পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন। উনার (খালেদা জিয়া) যে সমস্ত অসুখ-বিসুখ রয়েছে, এগুলোর জন্য উনার অবিলম্বে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার দরকার। এটার জন্য বিদেশে তার চিকিৎসার দরকার। আমি সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব, বাস্তবিকই উনার জামিন পাওয়ার যে নৈতিক অধিকার, এই জামিনের অধিকার থেকে তাকে যেন বঞ্চিত করা না হয়।

এবিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা যারা বিরোধী দলে কষ্টে আছি। তারা আলোর সন্ধান খুঁজছি। হয়তো বা কিছু একটা হবে। এটা করতে গিয়ে, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আমাদের যে কিছু দায়িত্ববোধ আছে- সেই দায়িত্ববোধ আমরা ভুলে গেছি। আবার অতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের কিছু কিছু নেতৃবৃন্দরা (বিএনপির ৭ এমপি) জেলখানায় গিয়ে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। এটা নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। তারা যে নেত্রীর মুক্তির জন্য খুব বেশী আন্তরিক, সেটা আমাদের ও জনগণের মধ্যে আশ্বস্ত করতে গিয়ে একটা জিনিস ভালো করেছেন, ম্যাডামের যে আপসহীন উপাধি আছে, সেটা খারিজ করতে গিয়ে ধরা খাইছেন। অর্থাৎ খালেদা জিয়া সরকারের সাথে কোন সমঝোতা ও আপস করবেন না বা প্যারোলে মুক্তি নিবেন না। আর আমি মনে করি, খালেদা জিয়াকে অনুকম্পা করার যোগ্যতা বাংলাদেশের কারো নেই।

জানতে চাইলে বিএনপির দলীয় এমপি মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, উনি (গয়েশ্বর চন্দ্র রায়) আমার বয়োজ্যেষ্ঠ এবং সিনিয়র মানুষ। আর আমরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য গিয়েছিলাম, তা কিন্তু না। আমি (চার এমপি) দ্বিতীয় দফার উনা’র কাছে গিয়েছিলাম। আর প্রথম দফার আমাদের তিন এমপি গিয়েছিলেন। কারণ কারাবিধি অনুসারে ৭ জন এক সাথে দেখা করতে পারে না। আর আমরা নেত্রীর মুক্তি জন্য সেখানে যায়নি। দল থেকে আমরা নির্বাচিত হয়েছে। আর সেই দলের নেতৃত্ব যিনি দিচ্ছেন, তিনি বন্দি। তাই উনাকে দেখার জন্য এবং কুশল বিনিময় করতে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম।

মোশাররফ হোসেন বলেন, নেত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর সেখানে আমরা বলেছি, আইন সবার জন্য সমান। অনেক বড় বড় মামলায় অনেকের জামিন হলেও একটি সামান্য মামলায় আমাদের নেত্রীর জামিন হচ্ছে না। তাই আমরা সরকারের উদ্দেশ্য মৌখিকভাবে আবেদন করেছি, সরকার যাতে অবশ্যই আন্তরিক হয় এবং অবশ্যই যেন জামিন দেন।

বিএনপির আরেক এমপি হারুনুর রশীদ বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, সরকারের সাথে তো আমাদের কোন সমঝোতায় বিষয় নেই। কেনো সমঝোতায় বিষয় থাকবে? আইনি প্রক্রিয়ায় উনি মুক্তি পাবেন। কিন্তু সরকার যেন উনা’র শারীরিক অবস্থা এবং অসুস্থতা মানবিক দিক থেকে যাতে বিবেচনা করে। এখানে সরকারের সাথে কোন আপস, আলোচনা বা সমঝোতায় বিষয় নেই। আর আমরা তো প্রতিনিধি না। এখানে দলীয় নেতৃবৃন্দ আছেন, মহাসচিব আছেন এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আছেন- আলোচনা হলে তাদের সঙ্গে হবে। আমাদের সঙ্গে না।

এদিকে খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে হারুনুর রশীদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদেরের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তবে হারুনুর রশীদ বলছেন, বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয় নিয়ে সরকারের সাথে কথা বলবেন, বিএনপি মহাসচিব এবং দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বিএনপির এমপিরা নয়।

এবিষয়ে ওবায়দুর কাদের বলেন, যে সংসদ সদস্য এ কথা বলেছেন, তিনি আমার সাথে দেখা করেও এ কথা বলেছেন কয়েকদিন আগে, বেগম জিয়াকে ঘিরে তাদের অভিপ্রায়ের কথা, জামিন পেলে তিনি বিদেশে যাবেন। আর হারুনুর রশীদ এবিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে বলতে অনুরোধ করেছেন। এটা আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তিনি জামিন পাবেন কিনা সেটা আদালতের বিষয়। সরকার আদালতকে কীভাবে বলবে যে জামিন দিয়ে দেবেন? এটা কি বলা উচিত? তাহলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি সরকারের হস্তক্ষেপ হবে। আর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদ নিজে এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন।

জানতে চাইলে হারুনুর রশীদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয় নিয়ে সরকারের সাথে আলোচনার কোন অগ্রগতি হয়নি।

মোশাররফ হোসেন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি বিষয়ে এই মুহূর্তে সরকারের সাথে আমাদের তেমন কোন আলোচনা হয়নি। এটা হয়তো দলের হাই কমান্ড…। আমি বিষয়টা জানি না। তবে সরকারের স্বদিচ্ছা থাকলেই এটা সম্ভব। আর সরকার সদয় হবে বলে আমরা আশাবাদী।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ড নিয়ে গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দী খালেদা জিয়া। চিকিৎসার জন্য গত এপ্রিল থেকে তিনি রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT