রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১০:৩৭ অপরাহ্ণ

দখল-দূষণে বেহাল তুরাগ

প্রকাশিত : ০৪:৪৭ AM, ৪ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার ১২৪ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

বালু ফেলে ভরাট, নদ তীরবর্তী জায়গা দখল করে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন দখলের কারণে হারিয়ে যেতে বসেছে তুরাগ নদ। অসাধু কিছু বালু ব্যবসায়ীর ভয়াল থাবার কারণে ক্রমেই ছোটো হয়ে আসছে তুরাগ নদ। যা এখন রূপ নিয়েছে মৃত খাল হিসেবে। এরপরও দখলের থাবা থেকে রেহাই পাচ্ছে না তুরাগ। কালিয়াকৈর-সাভার সীমান্তের বংশাই নদ থেকে উত্পত্তি হয়ে মির্জাপুর, কড্ডা, কাশিমপুর, রুস্তমপুর, আশুলিয়া, বিরুলিয়া, গাবতলী-আমিনবাজার হয়ে মোহাম্মদপুরে বছিলায় বুড়িগঙ্গায় মিশেছে। ৭১ কিলোমিটার নদের পুরো অংশই এখন দূষণের শিকার।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর বছিলা থেকে শুরু করে মিরপুর বেড়িবাঁধ, আশুলিয়া থেকে টঙ্গী পর্যন্ত সর্বত্রই রয়েছে তুরাগ দখলের চিত্র। তবে বেশির ভাগ এলাকা দখল করে চলেছে বালু ব্যবসায়ীরা। মিরপুর বেড়িবাঁধ অংশ থেকে বিরুলিয়া ব্রিজ, বিরুলিয়া থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত বেশির ভাগ বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। এ অংশে নদটি দখল করে বালুর ব্যবসা যেমন চলছে, তেমনি বালু ফেলে পাড় দখল করাও হচ্ছে। এছাড়া একাধিক স্থানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। আশুলিয়া থেকে টঙ্গী পর্যন্ত দখলের নানা চিত্র লক্ষ করা গেছে। এছাড়া এ এলাকায় তুরাগের সীমানার ভেতরে গড়ে উঠেছে অট্টালিকা, সমবায় সমিতি, মার্কেট, শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা হোটেলে চলছে রমরমা ব্যবসা। এসব জায়গায় তারা কীভাবে এসব গড়ে তুলেছে—এমন প্রশ্নে একজন হোটেল মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এটি এমনি এমনি গড়ে ওঠেনি। এর জন্য বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা দিতে হয়। তুরাগের তীর ঘেঁষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কার্যকরী পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। অন্যদিকে এক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এখানে বালুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন। তাই ভয়ে কেউ কিছু বলে না। নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার চার নদ-নদীর মধ্যে তুরাগের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। পাড়ে বিভিন্ন ধরনের শিল্প-কারখানা গড়ে তুলে এটিকে এমনভাবে দখল করা হয়েছে, যা পরিণত হয়েছে সরু খালে। এ বিষয়ে পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, রাষ্ট্রকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। যারা অপকর্ম করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব। সে হিসেবে অবশ্যই এসব স্থাপনা উচ্ছেদ জরুরি বলে মনে করি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT