রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৭:৪৯ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ কাপাসিয়ায় কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ◈ কটিয়াদীতে ট্রিপল মার্ডার : মা ভাইবোন সহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের ◈ হরিরামপুরে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে জখম ◈ কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২০ উপলক্ষে মধ্যনগর থানায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ◈ রাসুলকে (সাঃ)’র অপমানের প্রতিবাদে কাপাসিয়া কওমী পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশ ◈ টঙ্গীবাড়িতে ডাঃ আজিজুল হক ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ ◈ ঘাটাইলে কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ◈ নাগেশ্বরীতে গাঁজাসহ আটক-২ ◈ রক্ষাগোলা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নেতৃত্বের সাথে স্কুল শিক্ষকবৃন্দের মতবিনিময় ◈ মানুষকে প্রাধান্য দিয়ে নগর পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান

তারা এখন ‘দৌড়ের ওপর’

প্রকাশিত : ০৭:৩৪ AM, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Monday ১০৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

সারা দেশে চলমান সাঁড়াশি অভিযানে ‘দৌড়ের ওপর’ রয়েছেন আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর দুর্নীতিবাজ নেতা-কর্মীরা। আতঙ্ক বিরাজ করছে তাদের মধ্যে। গত শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনেও ছাত্রলীগ ছাড়া তেমন কোনও কর্মসূচি দেখা যায় নি দলের কয়েকটি সংগঠনের।

জানা গেছে, গ্রেফতারের আতঙ্কে সংগঠনগুলোর দুর্নীতিবাজ নেতারা প্রকাশ্যে চলা-ফেরা করতে ভয় পাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ সতর্ক অবস্থানে থেকে চলা-ফেরা করছেন। শুদ্ধি অভিযানের পর থেকে রাজধানীতে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বহু নেতা গা ঢাকা দিয়েছেন। ওয়ার্ডগুলোর কার্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। অথচ কিছুদিন আগেও কার্যালয়গুলোতে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে ছিল সরগরম।

পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা এখন অনেকটাই নিশ্চুপ। আত্মগোপনে চলে গেছেন বহু নেতা। কেউ কেউ চলে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। আবার কেউ পালিয়ে গেছেন দেশ ছেড়ে। যুবলীগ নেতা কাজী আনিসুর রহমান কলকাতায় গা ঢাকা দিয়েছেন। গত শনিবার কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় সপরিবারে তাকে দেখতে পাওয়া গেছে। ওই নেতা অবৈধ উপায়ে অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন গত ১০ বছরে।

পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন স্থানে মূল দল আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সাথে অপরাধে যুক্ত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপ নেয়া হবে- এটা ধরে নিয়েই সতর্ক অবস্থায় চলা-ফেরা করছেন দুর্নীতিবাজ নেতা-কর্মীরা। কেউ কেউ ঢাকায় থাকলেও দলীয় কার্যালয়ে আসছেন না। সবচেয়ে আতঙ্কে রয়েছেন যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা।

এবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে ওইসব সহযোগী সংগঠনের নেতাদের ব্যানার-পোস্টারও দেখা মেলে নি। ওইদিন দলের ওয়ার্ড পর্যায়ের বহু কার্যালয় তালাবদ্ধ ছিল।

জানা গেছে, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের যে সকল নেতাদের খবরদারি দৃশ্যমান হতো গত কয়েক দিন ধরে তা আর দেখা যাচ্ছে না রাজধানীতে। কয়েকদিন আগেও চাঁদা দাবি করে ব্যবসায়ীদের ভয়-ভীতি দেখাতো যে সব নেতা-কর্মী, তাদের আর দেখা যাচ্ছে না। নেই কোনও চাঁদাবাজির হুমকি-ধামকি। তাই ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা স্বস্তির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন।

নগরীর অলি-গলিতে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা জটলা দিয়ে আড্ডাবাজিতে মেতে থাকতেন, সে রকম দৃশ্যও দেখা যাচ্ছে না। কমে গেছে ছাত্রলীগের ‘হোন্ডা’ বাহিনীর দৌরাত্ম্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক যুবলীগ নেতা দৈনিক জাগরণকে বলেন, চলমান সাঁড়াশি অভিযানের কারণে সংগঠনের নেতাদের মধ্যে ভয়-ভীতি কাজ করছে। সংগঠনের বেশ কয়েকজন ত্যাগী নেতা মন্তব্য করে বলেন, যুবলীগের বর্তমান অবস্থার জন্য সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বই দায়ী। দুর্নীতিবাজ নেতাদের অপকর্মের কারণে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। একই সঙ্গে যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের বর্তমান কমিটি ভেঙে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন দলের ত্যাগী নেতারা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের এক নেতা দৈনিক জাগরণকে বলেন, আতঙ্কের কারণের সংগঠনের নেতারা এখন কেউ কাউকে বিশ্বাস করে কিছুই বলছেন না। এমনকি নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ ও ফোনালাপ বন্ধ হয়ে গেছে। যুবলীগের যে সব নেতাদের মধ্যে চরম দুর্বলতা আছে তারা দৌড়ের ওপরে রয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে যারা যুবলীগকে বেঁচে-কিনে খেয়েছেন, তারাও দৌড়ের ওপরে রয়েছেন।

জানা গেছে, শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দলীয় প্রধানের জন্মদিনে কোনও কর্মসূচি ছিল না মহানগর যুবলীগের। কেন্দ্রীয়ভাবেও যুবলীগ থেকে কোনও কর্মসূচি পালিত হয় নি। শুধু আওয়ামী লীগের আয়োজনে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইন্সটিটিউটে অংশ নেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি দিয়েছিল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ। এ উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয় বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়। তবে শেখ হাসিনার জন্মদিনের দিন তেমন কোনও কর্মসূচিই পালন করে নি কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতারা। গত ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে চাঁদাবাজির টাকায় জন্মদিনের আয়োজন করায় যুবলীগের নেতাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের এক নেতা। তখন শেখ হাসিনা বলেন, চাঁদাবাজির টাকা বৈধ করতেই এসব মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করা হয়। নিজের জন্য এমন মিলাদ ও দোয়া মাহফিল চান না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তার পর থেকে যুবলীগের মাসব্যাপী কর্মসূচি স্থগিত হয়ে যায়। এমনকি শেখ হাসিনার জন্মদিনে তেমন কোনও কর্মসূচি পালন করে নি কেন্দ্রীয় যুবলীগও।

রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করে কৃষক লীগ। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের প্রধান কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

কৃষক লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৯ জুলাই কৃষক লীগের সম্মেলন হয়। তিন বছরের কমিটির বয়স এখন বর্তমানে সাত বছর। অনেক জেলা পর্যায়ের কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব কারণে কৃষক লীগের কর্মকাণ্ড অনেকটা ঝিমিয়ে পরেছে। এর সঙ্গে সারা দেশে চলমান সাঁড়াশি অভিযানে বেশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, চলমান শুদ্ধি অভিযানে সবচেয়ে বেশি ভাবমূর্তি সঙ্কটে পরেছে যুবলীগ। বিভিন্ন অনিয়মে যুব নেতাদের জড়িয়ে পরার কারণে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ মহানগর কমিটির বিষয়ে নির্দেশনা আসতে পারে। আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগেই যুবলীগের কমিটি ভেঙে দিয়ে কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়ে যেতে পারে বলেও আভাস দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রগুলো।

জানা গেছে, টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার সুবাদে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর এক শ্রেণির নেতা-কর্মী নানা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে অন্যদল থেকে ক্ষমতাসীন দলে যোগদানকারী হাইব্রিড নেতা-কর্মীদের অনেকেই মন্ত্রী-এমপিদের ছত্রছায়ায় থেকে এসব অপরাধ করে আসছেন, যা দল ও সরকারের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে বিপণ্ণ করে তুলেছে। এর ফলে সরকারের বিষ্ময়কর উন্নয়ন ও অগ্রগতির অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর দল ও সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় আর কোনও ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১৯ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাতে গণভবনে ছাত্রলীগের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ বলেন, ‘কোনও নালিশ শুনতে চাই না। ছাত্রলীগের পর যুবলীগ ধরেছি। সমাজের অসঙ্গতি এখন দূর করব। একে একে এসব ধরতে হবে। জানি কঠিন কাজ কিন্তু আমি করব।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT