রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০২:১৮ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ শেরপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে ইংল্যান্ডের কাউন্সিলর মর্তুজার মতবিনিময় ◈ রাজশাহীর দূর্গাপুর থানার ওসি খুরশিদা বানুর তৎপরতায় আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি ◈ নতুন দায়িত্বে নূরে আলম মামুন ◈ ভাষা সৈনিকের নাতি শুভ্র’র খুনীরা যতই শক্তিশালী হোক তারা রেহাই পাবে না…..গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ◈ ২ টাকার খাবারের কার্যক্রম এবার ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ◈ রাজশাহীতে মানবাধিকার রক্ষাকারী নেটওয়ার্ক সভা ◈ রায়পু‌রে পুকু‌রে প‌ড়ে দুই শিশুর করুন মৃত‌্যু ◈ পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে কাতার প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন ◈ মহানবী (সাঃ)এর ব্যাঙ্গ চিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে,মধ্যনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত ◈ পত্নীতলায় আমণের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

তবুও রেকর্ড ব্যয়ে ড্রেজিং

প্রকাশিত : ০৮:০০ AM, ৭ অক্টোবর ২০১৯ Monday ১৩৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সম্প্রতি অযৌক্তিকভাবে ব্যয় ধরায় ব্যাপকভাবে সমালোচনার ঝড় বইছে। তারপরও থোক বরাদ্দ ৫ কোটি টাকারও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। সংকটপূর্ণ এলাকা না হলেও প্রতি ঘনমিটার ড্রেজিংয়ে অনেক বেশি ১৮০ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। অসংখ্য ড্রেজার থাকার পরও বেসরকারি কাউকে সুযোগ দিতে এই ব্যয় ধরা হয়েছে। মাটির ডাইক নির্মাণেও বেকর্ড ভেঙে প্রতি ঘনমিটারে ১২০ টাকা ধরা হয়েছে। নদীতীর রক্ষা ও ওয়াকওয়ে নির্মাণে ৯ হাজার টাকা মিটার ধরা হয়েছে।

এভাবে বিভিন্ন অঙ্গে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় আটশ কোটি টাকা। সরকার উন্নয়নকাজ করতে কিছু নিয়ম বেধে দিলেও এভাবেই মানা হয়নি ‘গোমতী নদীর নব্য উন্নয়ন ও সংস্কার’ প্রকল্পে। তা যাচাই করতে সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভায় ধরা পড়ে। একইসঙ্গে এসব ব্যয়ের যৌক্তিকতা ও দর নির্ধাণের ভিত্তির দলিল চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। ২০২২ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সার্বিক ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর মোহাম্মদ মাহবুব-উল ইসলাম আমার সংবাদকে বলেন, মাটির প্রকারভেদে ড্রেজিংয়ের ব্যয় হয়ে থাকে। যেমন— পদ্মা নদীর ড্রেজিং ২৩০ টাকা ঘনমিটার। তা বিবেচনা করে এ প্রকল্পে কম ব্যয় ধরা হয়েছে। তা আগের রেট সিডিউল। সবকিছুর দাম বাড়ায় বর্তমানে বেশি হবে।

তিনি আরও বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আইডব্লিউএমের মাধ্যমে ফিজিবিলিটি স্টাডি করেই এ প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতেই সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কম বেশি হতে পারে প্রাক্কলিত ব্যয়। তিনি আরও বলেন, সব সময় সরকারি ড্রেজার পাওয়া যায় না। তাই সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি ৮০ শতাংশ বেসরকারি খাত থেকে নেয়া হবে। কাজেই কোনো অঙ্গে বেশি ব্যয় দেখানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

নৌ-পরিবহম মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সূত্র জানায়, গোমতী নদীটি কুমিল্লা জেলার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়ন দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এর প্রায় ৯৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। কিন্তু পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল গোমতী নদী খননের জন্য মৌখিক নির্দেশ দেন। তারপরই বিআইডব্লিউটিএ ও সিইজিআইএস একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির সুপারিশে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রকল্পটি তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়।

তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৯৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ২০২২ সালের জুনে এটি বাস্তবায়ন করার কথা। প্রকল্পের প্রধান অঙ্গ ১০৮টি ক্যাপিটাল ড্রেজিং। ১৯ হাজার ৪৪০ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হবে। কিন্তু এ ব্যয় বেশি করে ১৮০ টাকা ঘনমিটার ধরা হয়েছে। যা অত্যন্ত বেশি। কারণ সম্প্রতি অনুমোদিত অন্য প্রকল্পে সরকারি পর্যায়ে ১২০ টাকা এবং বেসরকারি ড্রেজিংয়ে ১৫০ টাকা হারে নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই পিইসি সভায় কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে এবং এর সপক্ষে দলিল দিতে বলা হয়েছে।

একই অবস্থা ডাইক নির্মাণের ক্ষেত্রে। সেখানে মাটির ডাইক নির্মাণে প্রতি ঘনমিটারে ১০০ টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছে। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। যেখানে সম্প্রতি অনুমোদিত প্রকল্প ব্যয় হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা ঘনমিটার। তাই সভায় যৌক্তিকভাবে ব্যয় নির্ধারণ এবং দর নির্ধারণের ভিত্তির দলিল দিতে বলা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশন থেকে। নদীতীর রক্ষায়ও বেশি করে প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। একইভাবে নদীতীর রক্ষা বাঁধ এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণে বেশি রেট ধরা হয়েছে। ৩০ হাজার মিটারে ব্যয় প্রায় ২৩০ কোটি টাকা। এসব অঙ্গ ব্যয়ের যৌক্তিকতা জানতে চেয়ে দর নির্ধাণের ভিত্তির দলিল চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

সভায় আরও বলা হয়েছে— প্রকল্পে প্রস্তাবিত ১০টি ল্যান্ডিং সিঁড়ি ও র্যাম্প কোন কোন স্থানে নির্ধারণ করা হবে তা উল্লেখ করা হয়নি ডিপিপিতে। তাই সংশোধন করে এর প্রস্তাবিত স্থান নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। পানির গতি ঠিক রাখতে গোমতী নদীর ড্রেজিং করতে একটি জিপ গাড়ি ও একটি পিক-আপ ভ্যান কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া পরামর্শক খাতের জন্যও ২টি মাইক্রোবাস কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া থোক বরাদ্দ ৫ কোটি টাকারও বেশি ধরা হয়েছে। যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে পরিকল্পনা কমিশন আপত্তি করে। এসব সংশোধন করে পুনর্গঠিত ডিপিপি নৌ-মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হলেই একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানায়।

সূত্র আরও জানায়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের চলতি ২০১৯-২০ অর্থ বছরে চলমান ৪৮টি প্রকল্প রয়েছে। যা বাস্তবায়নে তিন হাজার ১৩১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বেশকিছু নতুন প্রকল্প ইতোমধ্যে পিইসি থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি ‘জিনাই, ঘাঘট, বংশী ও বাগদা নদীর প্রবাহ পুনরুদ্ধারের জন্য শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ নিশ্চিতকরণ, নৌ-পথের উন্নয়ন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে এতে ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৭৮৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

প্রকল্প এলাকা ধরা হয়েছে রংপুর, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১০ জেলার ৩২টি উপজেলা। এরমধ্যে রংপুর জেলা সদর, মিঠাপুকুর, পীরগাছা ও গঙ্গাচড়া উপজেলা ধরা হয়েছে। গাইবান্ধা জেলা সদর, সাদুল্লাহপুর, ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ। নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলা।

ঢাকা জেলার সাভার, কেরানীগঞ্জ ও ধামরাই রয়েছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কাপাসিয়া ও কালিগঞ্জ। মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর। জামালপুর সদর, সরিয়াবাড়ী, মেলানদহ ও মাদারগঞ্জ। টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর, ঘাটাইল, কালিহাতী, বাসাইল, সখীপুর, মির্জাপুর, গোপালপুর ও ভুয়াপুর উপজেলা এবং শেরপুর সদর উপজেলাও রয়েছে।

ওই চার নদী গফরগাঁও উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত না হলেও তার নাম যুক্ত করা হয়। বিভিন্ন অঙ্গে বেশি করে ব্যয় ধরায় পরিকল্পনা কমিশন থেকে আপত্তি করে তা কমাতে বলে। এ নিয়ে দৈনিক আমার সংবাদে সংবাদ প্রকাশিত হলে ব্যাপকভাবে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ব্যাপারে নৌ-সচিব আবদুস সালাম জানান, ভুলে গফরগাঁওয়ের নাম দেয়া হয়েছে। তা বাদ দেয়া হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT