রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ৩০ মে ২০২০, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৯:১২ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ মক্কার মসজিদ ছাড়া সব মসজিদ খুলে দেওয়ার ঘোষণা ◈ আখাউড়ায় অতিরিক্ত লোডশেডিং ,ডিজিএম’র সমালোচনায় সরব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ◈ উলিপুরে আরো ৩জন করোনা রোগী সনাক্ত ◈ ধুনটে বিষাক্ত মদপা‌নে দুই যুব‌কের মৃত্যু : হোমিও চিকিৎসক গ্রেফতার ◈ কেশবপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক স্বর্গীয় তরুণ অধিকারীর ১৪ তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত ◈ ছেলে বউয়ের মারধোরে শেষ বয়সে রাস্তায় মা ◈ তিতাসে অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামবাসীর মানববন্ধন ◈ তাড়াইলে সহকারী কমিশনার ভূমি (ম্যাজিস্ট্রেট) আবু রিয়াদ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ◈ বীর মুক্তিযোদ্ধা ঝন্টু কুমার দে এর গার্ড অব অনার প্রদান ◈ র‍্যাব ৮ পটুয়াখালী ক্যাম্পের উদ্দোগে মহিপুরে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

ঢোল বাদক খুদিরাম

প্রকাশিত : ০৮:০৯ PM, ২৯ নভেম্বর ২০১৯ Friday ২২৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ঢোল শব্দটি বাংলার সুপরিচিত এক নাম। এই নামের সাথে রয়েছে দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। এটি প্রকার চর্মাচ্ছদিত বাদ্যযন্ত্র। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আর্কষনীয় বিষয়ের মধ্যে অন্যতম লোক বাদ্যযন্ত্র এটি। যে কোনও লোকসঙ্গীতের আসরে ঢোল এক প্রধান বাদ্যযন্ত্র। টাকডুম টাকডুম আওয়াজ শোনলেই বুঝা যায় কোথাও ঢোল বাজছে। ঢোলবিহীন আসর যেন জমেই না। কাঠির বারিতে ঢোলের তালে তালে জমে উঠে সব উৎসব। বাদ্যযন্ত্রটি সকল শ্রেনী পেশা মানুষের কাছে বাংলার সংস্কৃতিতে এক প্রিয় বস্তু ঢোল। ঢোলকে ঢাক নামেও চিনেন। ঢোল ঢাকের চেয়ে ছোট। খোদাই করা কাঠের তৈরী উভয় দিকে চামড়া দিয়ে ঢাকা ও দুই মুখ খোলা এবং ভিতরটা ফাঁপা। আর এই বাদ্যযন্ত্রটি যিনি বাজায় তাকে বলে ঢুলি বা ঢোলি। এমনই একজন ঢুলি খুদিরাম (৬৩)।

তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকার নয়াবাড়ি গ্রামে। সে ওই গ্রামের প্রিয় নাথের পুত্র। জন্ম সূত্রে তিনি এই পেশা বেছে নিয়েছেন। তার বাপ দাদারাও এই পেশায় কাজ করে গেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিয়ে-সাদী, খেলাধুলা, পূজা উৎসব, মেলা, সরকারি উচ্ছেদ কাজসহ বিভিন্ন সামজিক অনুষ্ঠানে ঢোলের বাদক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তবে কালের বিবর্তণে আধুনিক যুগে আগের মত কাজকর্মের সন্ধান আসেনা তার কাছে। দিন দিন যেন এই ঢোল ও বাদকরা হাড়িয়ে যেতে বসছে।

খোঁজ খবর নিয়ে জানাযায়, ভাগ্যকুলে দুই জন রয়েছেন এই পেশায়। খুদিরাম গ্রুপ ও কানাই গ্রুপ। আর পুরো উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে হাতেগুনা কয়েকটি গোষ্ঠি আছেন এই পেশায়। তারা বিকল্প কাজের পাশাপাশি পূর্ব পুরুষের পেশাটি এখনও ধরে রেখেছেন। খুদিরাম এই পেশায় ৫০ বছর যাবত কাজ করছেন। সংসার জীবনে স্ত্রী, দুই পুত্র ও তিন কন্যা রয়েছে তার। এই পেশায় আয় রুজি করে চার ছেলে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন তিনি। বিয়ের বাকি রয়েছে ছোট মেয়ের। বাদকের কাজ করেই তিনি সংসার চালাচ্ছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঢোল বা ব্যান্ডপার্টির প্রয়োজন হলে কাজের বিবরণসহ তাকে আগাম জানিয়ে দেওয়া হয়। দলনেতা খুদিরাম এই গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে নিদিষ্ট দিন-তারিখ ও সময় অনুযায়ী হাজির হন অনুষ্ঠানে। মূলত তাদের ব্যস্ততা, সিজন এবং সময় অনুযায়ী বাদক দলের জন্য ডিমান্ড নিয়ে থাকেন তিনি।

ঢোল বাদক খুদিরাম বলেন, এক সময় দেশের যে কোনও অনুষ্ঠানে ব্যান্ডপার্টি ও ঢোল বাদকদের কদর ছিলো। কালের বিবর্তণে এবং আধুনিক যুগে পেশাটি আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে। হাড়িয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢোল ও বাদকসহ সংশ্লিষ্ট পেশার মানুষ গুলো। বছরের বেশীর ভাগ সময়েই আগের মত কাজ থাকেনা। বিভিন্ন পূজা, বিয়ে, মেলা-গলিয়া, গানের আসর থেকে আগের মত ডাক পাচ্ছেননা তারা। খুদিরাম আরো বলেন, যখন কাজ না থাকে তখন বাড়িতে বসে মাছ ধরার চাই বানাই। পাইকাররা বাড়িতে এসে চাইগুলো নিয়ে যায়। তারা বিভিন্ন হাটে বাজারে এই চাই খুচরা দরে বিক্রি করেন। এখানেও তার আয় ভালই হয়। আর বাদক পেশা থেকে বছরে লাখ টাকা আয় হয়ে থাকে তার। থাকার বাড়ি টুকু ছাড়া জমিজমা নেই তার। তার পরেও পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করছেন বলে জানান খুদিরাম।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT