রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৯:১৮ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নাটোরের লালপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত ◈ নাটোরে এমপির নির্দেশে নলডাঙ্গা পৌরসভার রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু ◈ নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক শিক্ষককে কারাদণ্ড দিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ◈ শুভ্র’র খুনীদের ফাঁসির দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের মানববন্ধন ◈ ধর্ষণ মামলার আসামী শরীফকে সাথে নিয়ে পুলিশের অস্ত্র উদ্ধার ◈ টঙ্গীবাড়িতে মা ইলিশ ধরার অপরাধে ৯ জেলেকে কারাদণ্ড ১জনকে অর্থদণ্ড ◈ ধামইরহাটে প্রতিহিংসার বিষে মরলো ১৫ লাখ টাকার মাছ, আটক-২ ◈ হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী কুপি বাতি ◈ ভালুকায় কোটি টাকা মুল্যের বনভুমি দখল রহস্যজনক কারনে নিরব বনবিভাগ ◈ নেয়াখালীতে ছেলের পরিকল্পনাতেই মাকে পাঁচ টুকরো

ঢাবির ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে বিভক্ত ছাত্রনেতারা

প্রকাশিত : ০৫:৫৬ AM, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Sunday ১৯২ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) তৃতীয় কার্যনির্বাহী সভায় গত বৃহস্পতিবার ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ার পর থেকেই চতুর্দিকে সমালোচনার ঝড়। ইসলামী দলের ছাত্রনেতারা বলেছেন, ডাকসুর গঠনতন্ত্রে ধর্মীয় ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোনো ধারা নেই। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় আইনেও নেই।

সুতরাং ডাকসু এরকম সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো এখতিয়ার রাখে না। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশন ইসলামী রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দিয়েছে, নির্বাচন করার বৈধতা দিয়েছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় কেন এর বিরোধিতা করবে? এদিকে ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা যারা মনে করেন ঠিক আছে, তাদের বক্তব্য হচ্ছে— বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতির একটি হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা।

সুতরাং সে দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুতরাং এটা নিয়ে যারা পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছেন, তারা মৌলবাদী। সংবিধান সবচেয়ে বড় আইনগ্রন্থ উল্লেখ করে ইসলামী দলের ছাত্রনেতারা বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের সকল নাগরিকের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু বাংলাদেশের বাইরের কোনো গ্রহ নয়, সুতরাং আইন ভিন্ন হতে পারে না। অন্যদিকে, এ প্রেক্ষিতে ডাকসু নেতারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন।

একপক্ষ বলছেন— ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নয়, বরং উগ্রপন্থি সংগঠনের ছাত্ররাজনীতি নিষেধ করা হয়েছে। আবার অন্যপক্ষ বলছে— ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষেধ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ডাকসুর নেতা এবং সংশ্লিষ্ট ছাত্রনেতাদের একটি সাক্ষাতকার তুলে ধরেছে আমার সংবাদ। সাক্ষাতকার গ্রহণ করেছেন আমার সংবাদের নিজস্ব প্রতিবেদক এনায়েত উল্লাহ ও ঢাবি প্রতিনিধি মোতাহার হোসেন

ধর্মকে পুঁজি করে রাজনৈতিক সুবিধা কখনো ছিলো না : ড.আখতারুজ্জামান ভিসি, ঢাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মকে পুঁজি করে রাজনৈতিক সুবিধা কখনো ছিলো না।’

ধর্মীয় রাজনীতি নিষেধ করার মধ্য দিয়ে ধর্মকে আঘাত করা হয়েছে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ধর্মকে নিষিদ্ধ করিনি। ধর্মীয় মূল্যবোধ একটি ভালো মূল্যবোধ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যে হলো মহান মুক্তিযুদ্ধের, অসামপ্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ। সে কারণে এখানে ধর্মকে পুঁজি করে রাজনৈতিক সুবিধা কখনো ছিলো না।’

কোনো নির্দিষ্ট দল ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করছে কি না— এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আমাদের নেই। এটা মূল্যবোধের জায়গা থেকে বলা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট দল-মতের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা হয়নি।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সভা শেষে ডাকসু সভাপতি ও উপাচার্য ক্যাম্পাসে ধর্মভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক, অসামপ্রদায়িক মূল্যবোধ ও চেতনার জায়গা, সুতরাং এখানে কোনো ধর্মের ধর্মভিত্তিক, সামপ্রদায়িক রাজনীতি চর্চার সুযোগ নেই। তাদের কোনো ধরনের তৎপরতা ঐতিহ্যগতভাবে এখানে নেই। সেটি যেন কোনো ক্রমেই না ঘটে।’

এদিকে সূত্রে জানা গেছে, ডাকসুর গঠনতন্ত্রে যেহেতু ধর্মীয় ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ বলে কোনো ধারা নেই, সুতরাং প্রস্তাবিত ধারাটি গঠনতন্ত্রে সন্নিবেশিত করা হবে। ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদ ক্যাম্পাসে সামপ্রদায়িক মৌলবাদী সংগঠনের তৎপরতা নিষিদ্ধ করেছিল এবং পরিবেশ পরিষদে এক সভায় ঢাবিতে শিবির ও জাতীয় ছাত্রসমাজের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যদিও বিগত বিএনপি-জামায়াতের চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ক্যাম্পাসে শিবিরের প্রকাশ্যে তৎপরতা দেখা গেছে। এখনো তারা গোপনে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে প্রায়ই সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়।

এ প্রেক্ষিতেই নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে তারা।” ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিপক্ষে একটি দল বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় রাজনীতি বন্ধের এই সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে আসেনি। ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই সব ছাত্র সংগঠন এ বিষয়ে একমত হয়ে কাজ করেছে। শহীদের রক্তস্নাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে এবং প্রতিষ্ঠাকালীন থেকেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বেমানান বলেও তারা মনে করেন।

অপর একটি পক্ষ বলছে, সাম্প্রদায়িকতা মানে হলো কোনো নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে সুযোগ করে দেয়া অথবা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে প্রাধান্য দেয়া। তাদের মতে, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে সাংবিধানিকভাবে সবার রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। প্রতিটি সংগঠনের একটি আদর্শ রয়েছে। প্রত্যেকটি সংগঠন তার নিজ আদর্শ অনুযায়ী চলে।

তাদের মতে, বাম সংগঠনগুলো চলে বাম আদর্শে, ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো চলে ধর্মীয় আদর্শে। প্রত্যেকটা সংগঠনই তার নিজ দর্শনকে ধারণ করে। ধর্মভিত্তিক দলগুলোতে শুধু ওই ধর্মের লোকেরা রাজনীতি করতে পারবে এমনটা নয়। তারা শুধু একটি আদর্শ ধারণ করে, আর তা হলো— ধর্মীয় আদর্শ।

তাদের মতে, তারা ধর্মীয় আদর্শকে ধারণ করে তারা গণতান্ত্রিক চর্চা করেন। ধর্ম মানেই সাম্প্রদায়িকতা নয়। তাদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বাইরের কোনো জনপদ বা বিচ্ছিন্ন কোনো ভূখণ্ড নয়। বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত দেশের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ। যেখানে বাংলাদেশের আইনে ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়নি, সেখানে বাংলাদেশের ভেতরের অবস্থিত একটি অংশে বাংলাদেশের সংবিধানের ব্যত্যয় ঘটাতে পারে না। এ প্রস্তাব বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ডাকসুতে সিদ্ধান্ত ছাত্রলীগের : নূরুল হক নূর ভিপি, ডাকসু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) গত বৃহস্পতিবারে বৈঠকে ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি সকলের সিদ্ধান্ত নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা ডাকসুতে ছাত্রলীগের সিদ্ধান্ত বলা যেতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ সিদ্ধান্তের বিরোধী ছিলাম। ডাকসুর নীতিমালায় নেই এ রকম অনেক কার্যক্রমে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ডাকসুর নীতিমালায় আজীবন সদস্য করার কোনো বিধান না থাকলেও তারা প্রধানমন্ত্রীকে আজীবন সদস্য করেছে। একইভাবে ধর্মভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি না থাকে, তাহলে জাতীয় রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি কেন আছে’ জানতে চেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নূরুল হক নূর।

তিনি বলেন, ‘যেখানে জাতীয় রাজনীতিতে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে রাজনৈতিক দল মেনে নিয়েছে, নির্বাচন কমিশন বৈধতা দিয়েছে, সেখানে আমরা কোন যুক্তিতে বিরোধিতা করবো? যদি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলকে সুযোগ না দেয়া হয়, তাহলে জাতীয় রাজনীতিতে তাদের কেন সুযোগ দেয়া হলো? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি এমনটা সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে তো জাতীয় রাজনীতির সাথে আমাদের রাজনীতি সাংঘর্ষিক হয়ে যাবে। এ কারণে আমরা আসলে এর বিরোধিতা করতে পারি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল একেকটা দর্শন মেনে চলে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি মানে সাম্প্রদায়িকতা নয়। প্রত্যেকটা রাজনীতি একেকটা ফিলোসফি ধারণ করে। ধর্ম মানেই সাম্প্রদায়িকতা এটা আমি মনে করি না। সুতরাং ঢালাওভাবে যে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কথা বলা হয়েছে, তা ধর্মের ব্যাপারে অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো একটা বিষয়।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি বলেন, “ডাকসুর এজিএস ও ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সাহিত্য সম্পাদক মাজহারুল কবির শয়ন ও সদস্য রাকিবুল ইসলাম ঢাবিতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রস্তাবের পরিশ্রেক্ষিতে আমার বক্তব্য ছিলা ‘বাংলাদেশের সংবিধান মোতাবেক প্রচলিত আইন ও নিয়ম কানুন মেনে যেসব রাজনৈতিক দল তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, কিংবা যে সব ধর্ম ভিত্তিক দল নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন নিয়ে রাজনীতি করছে ঢাবিতে তাদের ছাত্র সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণে ডাকসু বা ঢাবি কর্তৃপক্ষের কোনো এখতিয়ার নেই।

সুতরাং এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত আমরা ডাকসু থেকে নিতে পারি না। তাই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নয় বরং উগ্রপন্থি, সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী সামপ্রদায়িক সংগঠন যাতে ঢাবিতে কোনো ধরনের কার্যক্রম চালাতে না পারে, সে জন্য ডাকসু থেকে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছি”।

সংবিধানের মূলনীতির একটি ধর্মনিরপেক্ষতা : সাদ্দাম হোসেন সাধারণ সম্পাদক, ঢাবি ছাত্র লীগ ও এজিএস ডাকসু
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘শহীদের রক্তস্নাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে এবং প্রতিষ্ঠাকালীন থেকেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে সবসময় আন্দোলন করে আসছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই মানবতার সুমহান আদর্শকে সকল ধরনের বৈষম্য নিরসনে নৈতিক অঙ্গীকারকে সবসময় ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছে। বাংলাদেশের সংবিধানে মূলনীতির একটি হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা। লাখো শহীদের রক্তের অক্ষরে লেখা সংবিধান। সেই সংবিধানে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সামরিক শাসক অবৈধভাবে ধর্মীয় রাজনীতিকে সংবিধানে জায়েজ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামরিক শাসকের সময়ও ধর্মীয় ও সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ’

তিনি আরো বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন আমরা পরিবেশ পরিষদের বৈঠক করি, তখন সকল সংগঠনের ধর্মভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছিল। এ ব্যাপারে সবাই একমত পোষণ করেছিলেন। আমরা মনে করি, ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে নিষিদ্ধের মধ্য দিয়ে তরুণ প্রজন্মের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা সে আশা-আকাঙ্ক্ষা আমরা সবার ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে চেয়েছি।’

ঢাবিতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আসলে যায় না : ইকবাল হোসেন শ্যামল, সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রদল
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধি, মুক্ত চিন্তার জায়গা। এখানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি আসলে যায় না। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। আমরা মানবতায় বিশ্বাসী, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানবতার ভেতরে আমাদের রাজনীতির মূল্যবোধ। এখানে আলাদা করে ধর্মকে নিয়ে আসার কিছু নেই। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কারণে আমাদের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়, যেটা আমাদের জন্য ক্ষতিকর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবেই আমাদের পরিচয় হওয়া উচিত। আমরা কে মুসলিম, কে হিন্দু এটা নিয়ে আসলে রাজনীতি হতে পারে না। আমরা রাষ্ট্র ও মানুষের রাজনীতি করবো। ধর্মের ভেতরে রাজনীতি করলে দ্বিমতের সৃষ্টি হবে। এটা মুক্তচিন্তার পরিবেশের সাথে বেমানান।’

ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনীতি চাই না : সালমান সিদ্দিকী সভাপতি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ঢাবি
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। পরিবেশ পরিষদে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রসমাজ নিষিদ্ধ ছিলো অনেক আগে থেকেই। আমাদের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও আমাদের স্বপ্ন ছিলো বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হবে। বিশ্ববিদ্যালয় একটি অসাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্র যেহেতু ধর্মনিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান, একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ও ধর্মনিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান, সেহেতু ধর্ম-বর্ণ বা কোনো জাতিকে সেন্টার করে মানুষকে পৃথক করা হয়— এরকম জায়গা থেকে আসলে আমরা রাজনীতি চাই না। আমরা মনে করি, এ সিদ্ধান্তটি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত।’

ধর্মভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা অসাংবিধানিক : মনসুরুল আলম মনসুর, কেন্দ্রীয় সভাপতি, ইসলামী ছাত্র মজলিস
ইসলামী ছাত্র মজলিসের সভাপতি মনসুরুল আলম মনসুর বলেন, ‘ডাকসু থেকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, আমরা সেই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই। এটা দেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা বলতে চাই, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে দেশের সকল মতের অনুসারী থাকতে পারে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসু সাহায্য করার কথা। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসু তার উল্টোটা করছে। এটা অসাংবিধানিক সিদ্ধান্ত।’

এ ছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংগঠনটির ঢাবি সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে যারা মেয়েদের বুক থেকে প্রকাশ্যে স্কার্ফ কেড়ে নিয়েছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্যে হাতুড়িপেটা করেছে, রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে মেরেছে, যাদের হাতে খুন হয়েছে বিশ্বজিৎসহ নাম জানা শত শত নিরপরাধ ছেলে, যারা নিরীহ মানুষকে জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়েছে দিন-দুপুরে, সেই রাজনৈতিক সন্ত্রাসী সংগঠন কিভাবে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালায়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পবিত্র জায়গায় শহীদ মিনারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এবং শিক্ষকদের ওপর যারা সন্ত্রাসী হামলা চালায় তারা কোন সাহসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ পায়? ভুলে যাবেন না, বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, এই আপনারাই রমজান মাসে ইফতার পার্টির নাম দিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদা উঠান। ভোটের আগেও তো হজরত শাহজালালের (র.) মাজারে গিয়ে কর্মকাণ্ড শুরু করেন।

সুতরাং ধর্মের অবমাননা করে আপনারা যে নোঙরা ব্যবসা চালু করেছে, সেটা আগে বন্ধ করুন। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার অধিকার কে দেয় আপনাদের? নিষিদ্ধ যদি করতেই হয়, তাহলে এসব কর্মকাণ্ড যে দলটি করে; এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আগে নিষিদ্ধ করুন। তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে শাস্তির আওতায় আনুন।

আর মুসলমান হয়েও যদি ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য স্থির থাকেন, তবে দয়া করে শুক্রবার সেন্ট্রাল মসজিদে আসা বন্ধ করে, ধর্মের নকল লেবাস খুলে পরে নিষেধ করুন। ইসলামকে ধ্বংস করার কোনোরকম অপচেষ্টা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না।

এ দেশের মানুষ অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সর্বদা বদ্ধপরিকর, যার প্রমাণ আমরা ১৯৫২, ১৯৬৬, ১৯৭১, ১৯৯০, ২০১৮ সালে দিয়েছি। সুতরাং নতুন কোনো বিপ্লব সংঘটিত হওয়ার আগেই এই আর্টিকেল বাতিল করুন। অন্যথায় এ দেশের মুসলিম তরুণসমাজ জাগ্রত হয়ে এর উচিত জবাব দিতে বদ্ধপরিকর থাকবে।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT