রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

০২:২২ পূর্বাহ্ণ

ঢাবিতে চান্স পেয়েও শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তায় মোহনগঞ্জের মেধাবী ছাত্রী শারমিনের

প্রকাশিত : ০৬:০৪ PM, ২৪ জানুয়ারী ২০২০ Friday ৮১ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি :

মেধাবী শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও ভর্তি পর তার শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই শারমিনের দিন কাটছে চরম দুশ্চিন্তায়। সে জানে না, কিভাবে তার লেখাপড়ার খরচ যোগাবে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম দরিদ্র বাবার পক্ষে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করাই কষ্টকর। তিনি কিভাবে শারমিনের লেখাপড়ার খরচ যোগাবেন? শারমিন নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার রতিয়ারকোনা গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো. মিজানুল হকের মেয়ে। তিনি ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মেধাতালিকায় ১০৪তম স্থান দখল করেছেন।

শারমিনের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করলেও আর্থিক অনটনের কারণে এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করার সাহস পায়নি তার পরিবার। ২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন শারমিন।

মোহনগঞ্জ সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তরুণ কুমার সরকার বলেন, আমাদের কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও ভর্তি পর তার শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে বলে আমার কাছে খবর আসে। পরে আমি আমার কলিগদের নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করে শারমিনের পড়ালেখার খরচ প্রাথমিকভাবে চালানোর জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করছি। তা শিগগিরই শারমিনের হাতে তুলে দেব।

শারমিনের বাবা মো. মিজানুল হক নাজমুল বলেন, আল্লাহ আমার মতো গরিবের ঘরে এমন এক রত্ন দিয়েছেন যার ভরণপোষণ করার মতো সামর্থও আমার নাই। শারমিনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেছি, কিন্তু তার লেখাপড়ার খরচ নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় আছি।

এ বিষয়ে শারমিন জানান, বন্ধুদের অনেকেই যখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ের জন্য ময়মনসিংহ-ঢাকার বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ভর্তি হলেও অর্থাভাবে ভর্তিকোচিং করতে পারেননি শারমিন। বিষয়টি তার মনে প্রভাব ফেললেও তিনি দমে যাননি। বরং তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নিজের ঘরে বসে একা একাই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিটে ১০৪তম স্থান দখল করেন।

শারমিন আরো জানান, সমাজের উদার, স্বচ্ছল এবং বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহযোগিতা পেলে লেখাপড়া শেষ করে প্রশাসন ক্যাডারের একজন সৎ কর্মকর্তা হয়ে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।

শারমিনের বাবা মো. মিজানুল হক নাজমুল তার মেয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে যৌথ সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর: ৩৫১২১০১০০০১১৬, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, মোহনগঞ্জ শাখা, মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা এবং বিকাশ নম্বর: ০১৭০৭০৫৫০৪৮-এর মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা করার জন্য সমাজের হৃদয়বান মানুষদের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




মুজিববর্ষ: বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
18 19 days 00 01 hours 37 38 minutes 44 45 seconds

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT