রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৮:২০ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ও‌সির পুরস্কার পে‌লেন ও‌সি আবদুল জ‌লিল ◈ কাতার সেনাবাহিনীর বিপক্ষে বাংলাদেশের পরাজয় ◈ সম্প্রীতির হবিগঞ্জ সংগঠনের জেলা শাখার সিনিয়র সদস্য নির্বাচিত হলেন শাহিনুর রহমান ◈ ডুমুরিয়ায় আওয়ামীলীগ নেতা গাজী আব্দুল হাদি’র স্মরণ সভা ◈ নারায়ণগ‌ঞ্জে ক‌রোনা প্রতি‌রো‌ধে স‌চেতনতামূলক র‌্যা‌লি ◈ তিন লাখের ঘরে সুপারস্টার শাবনূর ◈ কুড়িগ্রাম সদর থানার নতুন ওসিকে ফুলের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ◈ কুড়িগ্রামে বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে স্বাস্থ্য-পরিদর্শকদের কর্মবিরতী ◈ অবশেষে মুক্তাগাছার প্রসিদ্ধ মন্ডার মূল্য স্থিতিশীল হলো ◈ বাকৃবি আম বাগানে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা

ঢাকার সব রুটেই বাস চলছে নির্ধারিত সীমার তিন গুণ

প্রকাশিত : ০৫:৫৬ AM, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Sunday ২০০ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

বর্তমানে রাজধানীর গণপরিবহণ ব্যবস্থাপনায় চলছে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। মালিক সমিতির চাঁদাবাজির কারণে পরিবহণ মালিকদের অনেকের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। অপরদিকে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। এছাড়া নির্ধারিত সংখ্যার তিন গুণ বাস চলছে প্রতিটি পরিবহণের। ঘটছে দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর এক একটি রুটে মেট্রোপলিটন রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটির অনুমোদিত নির্ধারিত সংখ্যা সীমার (সীলিং) চেয়ে অতিরিক্ত বাস চলাচল করছে। আর বিভিন্ন রুটে বাস ঢোকাতে (লাইনে প্রবেশ করা) পরিবহন মালিক নেতাদের ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন মালিক সমিতিকে দিতে হচ্ছে মোটা অংকের চাঁদা। এর ফলে মালিকরা তাদের বিনিয়োগের টাকা ওঠানোর জন্য শ্রমিকদের কাছে দৈনিক চুক্তিতে বাসটির ভাড়া আদায় করছেন। আর একই রুটে অতিরিক্ত বাস হওয়ায় যাত্রী নেয়ার জন্য রেষারেষি করে চলাচ্ছেন চালকরা। ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। বাসের মালিক ব্যাংকের নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। সংকটে পড়ছে পরিবহণ খাত।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাভার থেকে গুলশান-১ হয়ে বাড্ডা লিংক রোড হয়ে বনশ্রী পর্যন্ত অগ্রদূত লিমিটেডের নামে ৩০টি বাস চলাচলের সংখ্যা সীমা বেঁধে দেয়া আছে। কিন্তু এ পরিবহণের নামে শতাধিক বাস চলাচল করছে। আর এ রুটে চালানোর জন্য প্রতিটি বাস মালিককে প্রতিদিন এক হাজার করে চাঁদা দিতে হয় মালিক সমিতিকে। মিরপুর দুয়ারীপাড়া থেকে শাহাবাগ হয়ে নটর ডেম কলেজ পর্যন্ত বিহঙ্গ পরিবহণের নামে ৪০টি বাস চলাচলের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু চালানো হচ্ছে প্রায় একশ’ বাস। বালাসী থেকে মিরপুর-১ গুলশান লিংক রোড বনশ্রী হয়ে চিটাগাং রোড পর্যন্ত বিহঙ্গ পরিবহণের আর একটি রুটে ৫০টি বাস চলাচলের অনুমতি আছে। তবে এ রুটে ১২০টি বাস চলাচল করে। বিহঙ্গ পরিবহণের প্রতিটি রুটে প্রতিদিন প্রতিটি বাস মালিককে মালিক সমতির নামে সাতশ’ টাকা গুনতে হচ্ছে। আর শ্রমিক ইউনিয়নকে দিতে হচ্ছে ৭০ টাকা। দুয়ারীপাড়া, রূপনগর, মিরপুর-২, কলেজগেট হয়ে ঢাকেশ্বরী পর্যন্ত বহঙ্গ পরিবহণের অপর একটি রুটে ১৫টি বাস চলাচলের সংখ্যা সীমা রয়েছে। চলাচল করে ৬২টি। প্রতিটি বাস থেকে প্রতিদিন মালিক সমিতির নামে আদায় করা হয় সাতশ’ টকা। দুয়ারীপাড়া, মিরপুর কাজীপাড়া, পুলবাড়িয়া হয়ে ভিক্টোরিয়া পার্ক পর্যন্ত বিহঙ্গ পরিবহণের নামে আর একটি রুটে ৩৫টি বাস চলাচলের সংখ্যা সীমা বেঁধে দেয়া আছে। চলাচল করে ১০৮টি। প্রতিটি বাস থেকে প্রতিদিন মালিক সমিতির নামে আদায় করা হয় সাতশ’ টাকা। কালশী, মিরপুর-১২ ফার্মগেট হয়ে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত শিকড় পরিবহণের নামে ১৩০টি বাস চলাচলের অনুমোদন আছে। চলাচল করে ১৯২টি। এ রুটে প্রতিদিন বাস প্রতি দিতে হচ্ছে আটশ’ টাকা। গুলিস্তান শ্রমিক ইউনিয়নকে প্রতিদিন ৭০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। পলস্নবী থেকে রোকেয়া স্বরণী, রাসেল স্কয়ার, সায়েন্সল্যাব, ইত্তেফাক হয়ে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত শিখর পরিবহণের নামে আর একটি রুটে ৪০টি বাস চলাচলের অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু চলাচল করছে ৯৮টি। এখানেও মালিক সমিতিকে প্রতিদিন দিতে হয় আটশ’ টাকা। মিরপুর, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলাবাগান, শাহবাগ গুলিস্তান হয়ে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ট্রান্স সিলভা পরিবহণ লিমিটেডের নামে ৩৮টি বাস চলাচলের সংখ্যা সীমা বেঁধে দেয়া আছে। চলাচল করে ৭৭টি। প্রতিটি বাস মালিককে মালিক সমিতিকে দিতে হয় এক হাজার টাকা। পলস্নবী (সিরামিক), মিরপুর-১০, পঙ্গু হাসপাতাল, ফার্মগেট, দৈনিক বাংলা হয়ে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত বিকল্প সিটি সুপার সার্ভিস নামে একটি পরিবহণের নামে ২৬টি বাস চলাচলের অনুমোদন আছে। চলাচল করে ৫৩টি। প্রতিদিন প্রতিটি বাসের মালিককে মালিক সমিতিতে দিতে হয় আটশ’ টাকা। সাভার (ইপিজেড) গাবতলী, মগবাজার, খিলগাঁও ফ্লাইওভার হয়ে যাত্রাবাড়ী লিংক রোড পর্যন্ত লাব্বায়েক ট্রান্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেডের ৩৫ বাস চলাচলের সংখ্যা সীমা বেঁধে দেয়া আছে। চলাচল করে ৬৯টি। প্রতিদিন বাস মালিক সমিতির নামে প্রতিটি বাস থেকে আটশ’ টাকা চাঁদা আদার করা হয়। এভাবে রাজধানীতে মেট্রোপলিটন রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটির অনুমোদিত ৩৬৬টি রুটের প্রায় প্রতিটি রুটে সংখ্যা সীমা বেঁধে দেয়ার পরেও অতিরিক্ত বাস চালানো হচ্ছে।

জানা গেছে, শুধু মালিক সমিতি, শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদা তোলা নয়। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেয়ার কথা বলে প্রতিদিন একশ’ টাকা নেয়া হচ্ছে প্রতিটি বাসের মালিকদের কাছে থেকে। যার কোনো হিসাব নেই। ছাত্র আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ির মালিকদের সাহায্য দেয়ার সময় থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের নামে মালিকদের কাছ থেকে এ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

জানা গেছে, মালিকদের কাছ থেকে আদায় করা চাঁদার একটি অংশ প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের দেয়া হলেও বাকিটা মালিক সমিতির কয়েক নেতা ভাগ করে নেন।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকার পরিবর্তন হলেও মালিক সমিতির নেতা পরিবর্তন হয় না। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকারের সময় বাস মালিক সমিতির সভাপতি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস। মূলত সে সময় বাস মালিক-শ্রমিকদের দেশব্যাপী আন্দোলন বন্ধ করার জন্যই এই সংগঠনটি গড়ে তোলা হয়। আর ওই কমিটির কয়েক নেতার সহযোগিতায় পুলিশ প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে সে সময়ের আন্দোলন বন্ধ করা হয়। এর পর থেকেই মালিক সমিতির মানে অবৈধ চাঁদা আদায় বৈধভাবে তোলা শুরু হয়। আর বিএনপির সময়ের সেই কমিটিতেই সাধারণ সম্পাদক ছিলের খন্দকার এনায়েত উলস্নাহ। বর্তমানেও তিনি ঢাকা সড়ক পরিবহনের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণের মহাসচিব। মালিকদের উপরে চাঁদার পরিমাণ বাড়লেও কোনো সময় নেয়া হয়নি তাদের কল্যাণে কোনো পদক্ষেপ।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে ঢাকা মহানগরীতে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা আনার জন্য ‘ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ড’ গঠন করা হয়। ২০১২ সালে বোর্ডকে পরিবর্তন করা হয় ‘ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ’ (ডিটিসিএ)। নামের পরিবর্তনের পাশাপাশি মহানগরীতে যানজট দূর করা ও সব যানবাহন চলাচলে সমন্বয় করার লক্ষে দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সমীক্ষা করা হলেও বাস্তবে কোনো কাজে আসেনি। মালিক সমিতির ভয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এয়ারপোর্ট থেকে ঝিলমিল পর্যন্ত বড় বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিলেও তা আজও বাস্তবায়ন করতে পারেনি ডিটিসিএ।

তবে এ ব্যাপারে ডিটিসি’এর প্রকল্প পরিচালক মো. আনিসুর রহমান যায়যায়দিনকে বলেন, কাজ চলছে। তবে আরও একটু সময় লাগবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT